খেলাঘরখেলাঘর

 

chobir utsab

ছোট্ট মেয়ে সাসলায়া আর তার মূক ভাই দারিও থাকে নিকারাগুয়ার কোন এক শহরে। জঞ্জালের ঢিপি থেকে জঞ্জাল কুড়ানোর ফাঁকে ইশকুলেও যায় দুজনে। থাকে জঞ্জালের ঢিপির পাশে একটা ভাঙাচোরা আস্তানায় দাদুর সাথে। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকতে ভালো লাগে না যে! তাই দুইজনে মাকে খুঁজতে পাড়ি দেয় পাশের দেশ কোস্টারিকায়। শহর পেরিয়ে, অনেক পথ ঘুরে, একটা জাহাজে চেপে অন্য অনেক মানুষের সঙ্গে কোস্টারিকার সীমান্তে জঙ্গলে পৌঁছায় তারা। কিন্তু জঙ্গলের মধ্যে হঠাত শুরু হয় প্রহরীদের টহলদারি। ছিটকে যায় দুই ভাই বোন। সাসলায়া আর ভাইকে খুঁজে পায়না। ক্লান্ত পায়ে এক নতুন শহরে পৌঁছায় সে। ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে সেই শহরের ভীড়ে হারিয়ে যায় ছোট্ট সাসলায়া।

এই গল্প নিয়েই ছবি বানিয়েছেন কোস্টারিকার চলচ্চিত্র পরিচালক ইশতার ইয়াসিন গুতিয়েরেজ। ছবির নাম " এল কামিনো"। তৈরী হয়েছে ২০০৭ সালে। ভাবছ এই দূর বিদেশের ছবি আমি দেখলাম কি করে? আমি এই ছবি দেখলাম "চতুর্দশ কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উতসবে।" তুমি কি কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উতসবের নাম শুনেছ? সে এক দারুণ জমজমাট ব্যাপার। প্রতি বছর ১০ -১৭ ই নভেম্বর কলকাতায় এই উতসব হয়। ২০০৮ সালে এই উতসব ১৪ বছরে পা দিল।

কলকাতার বিভিন্ন সিনেমা হলে দেখান হয় দেশ- বিদেশের কয়েকশো ছবি ও তথ্যচিত্র। বেশ কিছু ছোটদের ছবিও দেখানো হয়। কয়েকটি হলে বিনামুল্যে প্রবেশপত্র ও পাওয়া যায়। এ কিন্তু এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। অজানা ভাষার ছবি হলে আবার ছবি দেখার সাথে সাথে তার ইংরাজি সাবটাইটেল পড়াও অভ্যেস করতে হয়।

এইরকম উতসব দেখলে কি হয় বলতো? কত দেশের কত রকমের গল্প, নানা রকম মানুষের জীবনের নানা রকম ঘটনা- দেখে, জেনে, মনের জানালা টা অনেক বড় হয়ে যায়। এ যেন ঠিক একটা নতুন বিদেশী গল্পের বই পড়ার আনন্দ! এইরকম চলচ্চিত্র উতসব কিন্তু শুধু কলকাতায়ই হয়না। ভারতের বেশ কয়েকটা বড় শহরে এবং দেশ বিদেশের বিভিন্ন শহরে এইরকম উতসব সারা বছর ধরেই হয়। ভারতের দক্ষিনে হায়দ্রাবাদ শহরে তো প্রতি বছর শুধুমাত্র ছোটদের জন্য হয় এক বিশেষ চলচ্চিত্র উতসব।

বড় হয়ে তো অবশ্যই দেখতে যাবে এইরকম কোন এক উতসব। আর আগামি বছর নভেম্বর মাসের শুরুতে যদি সুযোগ পাও, তাহলে বাবা মার সঙ্গে দেখতে যেও একটা বা দুটো ছবি - কলকাতা চলচ্চিত্র উতসবে।

 

 

মহাশ্বেতা রায়
কলকাতা