সূচীপত্র -বর্ষা-শরৎ যুগ্ম সংখ্যা ২০১৩

খেলাঘরখেলাঘর

পাখিদের সমাজে আজ সোরগোল পড়ে গিয়েছে , সকাল থেকেই চিত্কার চেঁচামেচি আর ব্যস্ততা । আমগাছের ওই মগডালে আজ সভা বসেছে। মানুষগুলো সারাজীবন ধরে পাখিদের জ্বালিয়ে মারছে, হয় খাঁচায় বন্দী করছে, নয়তো উদরস্থ করছে-- আরো কত কি!!! তাই সভাপতি ময়না এক প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে। মানুষকে বিরক্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিজ্ঞতা লিখে জমা দিতে হবে, আর তার মধ্য থেকে বাছাই করা হবে তিনটে অভিজ্ঞতার কথা । এই সভায় সেই তিনজন লেখক/ লেখিকা তাদের সেই লেখা দর্শক পাখিদের সামনে পাঠ করবে আর দর্শকদের ভোটের বিচারে পুরস্কৃত হবে শ্রেষ্ঠ লেখক বা লেখিকা ।

সভাপতি ময়নার সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে শুরু হল সভা। প্রথম লেখিকা একটি টিয়া । উপস্থিত দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে টিয়া শুরু করল তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা - সেদিন ধানক্ষেতের পাশে খেজুর গাছটায় বসে একটা পাঁকা খেজুরে যেই না কামড় দিতে গিয়েছি , দেখি কয়েকটা পাজী ছেলে আমার দিকে কি একটা তাঁক করে রেখেছে , ভয় পেয়ে ছুটে পালাই- কিন্তু ছোঁড়াগুলোও ছাড়বার পাত্র নয় , তারাও দৌড়ায় আমার পেছনে, বেশ কয়েকটা পাথর আমার গায়ে লাগতে লাগতে নিচে পড়ে গেল। আমি হাপাতে হাপাতে একটা বট গাছের ডালে সবেমাত্র একটু বসেছি, ওমা ছোঁড়া গুলো ওখানেও চলে এসেছে!! হঠাত দেখি বট গাছের ডালে একটা সাপের বাচ্চা, আমি তাড়াতাড়ি সেটা মুখে নিয়ে নিচে ছুঁড়ে মারি, আর সেটা মাটিতে পড়তেই ছেলেগুলো মা রে বাবা রে বলে এর ওর ঘাড়ে পড়তে পড়তে ছুটে পালালো ....... হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ। টিয়ার বক্তব্য শেষ ।

পরবর্তী প্রতিযোগী এক কাক- " সেদিন সকালে পেয়ারা গাছের ডালে দোল খাচ্ছি হঠাত দেখি চকচকে টাক ওয়ালা একটা লোক দাঁতন করছে ঠিক ওই গাছটারই নিচে, লোকটা মহা শয়্তান, আমার ই বন্ধুকে ঢিল মেরেছিল তার আগের দিন, বন্ধুটার একটা পাখনা প্রায় অকেজো হয়ে পরেছে । ব্যাটাকে দেখে ব্রহ্মতালু জ্বলে গেল, দিলাম একটা গলা পঁচা পেয়ারা মাথায় ফেলে, ব্যাস লোকটা এবার আমাকে দেখতে পেয়ে যেই না ঢিল তুলেছে অমনি ক্ষিপ্রগতিতে উড়ে এসে লোকটার টাকের বাকি কগাছা চুল ছিঁড়ে নিয়ে উড়ে পালালাম খানিক দূরের এক সজনে গাছের ডালে । লোকটা মাটিতে আছড়ে পড়ে কি কান্না !! হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ .… কাক বক্তব্য শেষ করল ।

শেষ প্রতিযোগী এক শালিক । শালিক তার বক্তব্য শুরু করল : " সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। প্রচণ্ড জলের তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাবার যোগাড় - একটা বাড়ির পেছনের বাগানে একটা মাটির ভাড়ে খনিকটা জল দেখে উড়ে গেলাম তেষ্টা মেটাতে কিন্তু ঠিক তখনই বাড়ির পেছনের দরজা খুলে এক মহিলা বেরিয়ে এসে ' আ মরণ, এক শালিক! যাঃ যাঃ ' বলে একটা ঢিল ছুঁড়ে আমাকে মারল , ঢিলটা আর একটু হলেই আমার ডানায় লাগত আর আমি পঙ্গু হয়ে যেতাম ! খুব রাগ হল, বাসায় ফিরে বন্ধুদের বলাতে ওরাও বলল যে এক শালিক দেখাটা নাকি মানুষরা পছন্দ করে না, ওদের দিন খারাপ যায়। সে যাইহোক আমি পরদিন আমার বন্ধুদের নিয়ে সেই বাগানে আবার গেলাম। দেখি সেই মহিলাটি একটা খুব সুন্দর শাড়ি বাগানে টানানো একটা দড়িতে শুকো দিচ্ছে - যেই না ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছে আমি আর বন্ধুরা মিলে সেই শাড়িটাকে ঠোট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে দিলাম। হিঃ হিঃ হিঃ হিঃ…..

এরপর দর্শকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ লেখকের সম্মান পেল কাক । কারণ একমাত্র সেই মানুষকে শারিরীক যন্ত্রণা দিতে পেরেছে, তার চোখে জল আনতে পেরেছে। প্রবল হর্ষধ্বনির মধ্যে কাকের গলায় জয়মাল্য পড়িয়ে দিল ময়না, আর পুরষ্কার স্বরুপ দিল পাতায় করে শুকনো পোঁকামাকড় আর কিছু ধান - তার শ্রেষ্ঠত্বের পুরষ্কার । পাখিদের সভা শেষ।