খেলাঘরখেলাঘর


“কিন্তু রামধনুর দেশের রাস্তা খুঁজে পাওয়া কি সোজা কথা! এক বছরের ওপর বৃষ্টি হয় না, লোকে শেষ কবে রামধনু দেখেছে তাও ভুলে গেছে। তবু ভেবেচিন্তে একটা দিক ঠিক করে এগোয় সুজন। চলতে চলতে নাহয় একে-ওকে জিজ্ঞেস করে পথ চিনে নেওয়া যাবে।
“চলেছে তো চলেছে, হঠাৎ এক জায়গায় দেখে মহা শোরগোল। ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে একটা বাঁদর ছুটে এসে সুজনের পায়ে পড়ে। পেছনে লাঠি নিয়ে ধেয়ে আসছে একদল লোক।
“আমাদের ফলের বাগান আস্ত রাখে না, আজ মেরেই ফেলবো ওকে”, বলে তারা।
“কী করবো, খিদে পায় যে!” কিচ কিচ করে বলে বাঁদর।
“আচ্ছা, ও আর বাগান নষ্ট করবে না। আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি”, বলে সুজন। বেশ তো – রাজি হয় সবাই।
“প্রাণ বাঁচিয়ে তুমি আমার প্রাণের বন্ধু হলে। কোথায় চলেছো, ভাই?” জিজ্ঞেস করে বাঁদর।
“চলেছি রামধনুর দেশে, জীয়ন ঝর্ণার জল আনতে। চেনো নাকি রাস্তা?”
“ও বাবা, সেখানে তো বিরাট দৈত্য থাকে। তা, কিছুদূর অবধি চিনি। আর বন্ধু যখন বলেছি তখন চিনিয়ে নিয়েও যাবো”, বলে বাঁদর।

আবার চলেছে, চলেছে, এবার বাঁদরও আর রাস্তা চিনতে পারছে না। এমন সময় শোনে ঝোপের পাশে মিঁউ মিঁউ কান্না। ভালো করে খুঁজেপেতে দেখে, এক থলের মধ্যে বাঁধা এক সুন্দর সাদা বেড়াল।
“তেষ্টায় দুধ চুরি করে খেয়েছিলাম দেখে আমাকে এভাবে ফেলে রেখে গেছে”, কাঁদতে কাঁদতে বলে বেড়াল।
“ইস, বেচারা! এক্কেবারে হাড় জিরজিরে হয়ে গেছে!” থলের বাঁধন খুলতে খুলতে বলে সুজন।
“প্রাণ বাঁচিয়ে আমার প্রাণের বন্ধু হলে। কিন্তু চলেছো কোথায়?” জিজ্ঞেস করে বেড়াল।
“চলেছি রামধনুর দেশে, জীয়ন ঝর্ণার জল আনতে। চেনো নাকি রাস্তা?”
“বাপ রে, দৈত্যের দেশে! তা, বন্ধু বলে যখন ডেকেছি – চলো, যদ্দুর চিনি দেখিয়ে দিই।”

“চলছে তো চলছেই তিন বন্ধু। কত বনবাদার, মাঠঘাট পেরিয়ে গেলো। এবার বেড়ালও আর পথ চেনে না। এমন সময় সামনে পড়লো ছোট্ট মিষ্টি জলের এক খাল। চকচক করে জল খেলো সবাই। খিদে-তেষ্টা দুই-ই যেন তখনকার মতো দূর হলো।
“বাঁচাও, বাঁচাও!” চিঁ-চিঁ করে চ্যাঁচায় কে? দেখাই তো যায় না! ও মা, স্রোতে ভেসে যাচ্ছে এক মৌমাছি। দৌড়ে গিয়ে একটা গাছের পাতা এনে ধরে সুজন, তাই আঁকড়ে কোনমতে উঠে আসে মৌমাছি।
“প্রাণ বাঁচিয়ে প্রাণের বন্ধু হলে। কিন্তু কে গো তুমি? চলেছো কোথায়?” বলে মৌমাছি।
“তিন বন্ধু চলেছি রামধনুর দেশে, জীয়ন ঝর্ণার জল আনতে। চেনো নাকি রাস্তা?”
“ওমা, চিনবো না! রামধনুর দেশেই তো আমার বাড়ি। দুষ্টুমি করে বাবা-মা’র কথা না শুনে অ্যাদ্দুর উড়ে এসেছিলাম, তারপর দম ফুরিয়ে এই অবস্থা। কিন্তু বুকের পাটা আছে তো তোমাদের! দৈত্যের কাছ থেকে চলেছো জীয়ন ঝর্ণার জল আনতে?”
“আনতে না পারি, প্রাণ তো দিতে পারবো”, বলে সুজন। তিন বন্ধু চলতে থাকে, আর তাদের মাথার ওপর উড়ে উড়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে মৌমাছি বন্ধু।