খেলাঘরখেলাঘর

থটশপ

অপু, তাথৈ স্কুলে গিয়ে সব বন্ধুদের তাদের নতুন অভিজ্ঞতার কথা বলল । স্কুলের টিচারদেরও বলল সব । একজন টিচার দোকানের নাম জিগেস করল । তার অনেকদিনের সাধ চাঁদে যাবার ।  তা তিনি রাস্তা চিনে সেই "থট-শপে" গেলেন । সেখানে গিয়ে চিন্তামণির কাছ থেকে বেগণি রঙের "কিউবিক"  নামের   ক্রিস্টালটি পছন্দ করে কিনে ফেললেন । বুড়োকে টিচার এবার প্রশ্ন শুরু করলেন । আচ্ছা আমি তাহলে সত্যি সত্যিই আমার শখ পূরণ করতে পারবতো এই লজেন্স-ক্রিস্টালের সাহায্যে? যদি না হয় আমার কিন্তু পয়সা ফেরত চাইই-চাই । আমার কোনো বিপদ হবে নাতো?"আরো বললেন " আচ্ছা জলে দিলেই হবে ? এতো মনে হচ্চে গ্যাঁজাখুরির গল্পের মত ।  আমি আবার ফিরতে পারবো তো এই পৃথিবীতে ? ইত্যাদি ইত্যাদি ..."বুড়ো চিন্তামণি বিরক্ত হয়ে বললেন " আচ্ছা বাপু, তোমার যখন এতই চিন্তা তখন কেন আমার দোকানে আসা ? আমি কি আর তোমার মত খদ্দেরের জন্যে সে কোন সূদুর থেকে এই সব লজেন্স নিয়ে এসে বিক্রি করি ?  অপু, তাথৈ এদের মত শিশুরা যাদের আমার কথার ওপর অগাধ আস্থা আর যারা শুধু বিশ্বাস করে আমাকে তাদের জন্যই আমি বেচি । তাই তারা ফলও পায়  । তুমি চাইলে তাই বিক্রি করলাম ঐ বেগণি লজেন্স-ক্রিস্টাল গুলো । এই নাও তোমার পয়সা ফেরত, আমার জিনিস দিয়ে দাও আমাকে"

এমনি করে চিন্তামণির রঙিন দিন গুলো কাটতে থাকে একে একে । হঠাত সে ভাবল আচ্ছা আমিও তো এমন করে পৌঁছে যেতে পারি আমার ড্রিমল্যান্ড স্বর্গপুরের দরজায় । আমার তো কেউ কোত্থাও নেই; আমার জন্যে তো ভাববার ও কেউ নেই; আমি মরে গেলে কাঁদবার ও কেউ নেই; তাহলে দেখি না আমি যদি যেতে পারি চিরকালের মত সেখানে । আর শুনেছি সেখানে গেলে আর জন্ম হয় না । আর যুগযুগ ধরে মানুষের বিশ্বাস এই যে যারা ভাল কাজ করে তারা নাকি স্বর্গে যায় । আর চিন্তামণি জ্ঞানত: কোনো খারাপ কাজ করেনি কোনোদিন । মিথ্যে বলেনি, লোক ঠকায়নি, মানুষকে হিংসে করেনি । তাহলে সেও তো পৌঁছে যেতে পারে সেই স্বর্গদ্বারে ।  ব্যাস, যেই ভাবা অমনি খুলে গেল একটা বয়ামের ঢাকনা । বয়ামের লেবেলে লেখা "কসমিক",  রঙ টুকটুকে লাল  । বয়ামের মুখ থেকে উঠে আসছে একটা স্টিক আর তার থেকে ছোট ছোট লাল ফুল স্বচ্ছ পাপড়ি মেলে চিন্তামণির দিকে চাইছে, ঘরের  মধ্যে জোছনার  আলো চুঁইয়ে পড়েছে সেই পাপড়িতে আর ফুল গুলো ঝলমল করে উঠছে, যেন বলছে "এস, চল আমার সাথে, তোমার এবার যাবার সময়" । চিন্তামণি উঠে ফুলের কাছে গেল| হাতে করে একটা ফুল নিল আর এক গ্লাস জলে ফেলল সেই লজেন্স-ক্রিস্টালের লাল ফুলটিকে ; সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার বুদবুদেরা চিন্তামণিকে নিয়ে চলল স্বর্গের দিকে ।  যেতে যেতে সে ছুঁয়ে দেখল আকাশের নীল রঙ, পাহাড়ের গাছেদের সবুজ রঙ , সূর্যের হলুদ-কমলা রঙ মেখে নিল বেশ করে । একটা বিশাল গুহার মধ্যে পৌঁছাল সে । যেখানে একধারে ঝরণার জল ওপরে সাদা কিন্তু ঝরে পড়ার মুখে নীল । কোথাও বা ফোয়ারা উঠছে মাটি থেকে লাল রঙের, লাল নীল ফুলেরা ফুটছে সবেমাত্র তাদের কুঁড়ি থেকে । ফুলের পাপড়ি যে এই ভাবে চোখের সামনে খোলে তা দেখে চিন্তামণির আনন্দ আর ধরে না ।  এইবার সে দেখতে পেল বিশালাকার ঝুলন্ত স্ট্যালাকটাইটের পাহাড়। মনে পড়ে গেল কেমিস্ট্রি ব‌ইতে ছবি দেখেছিল । কিছুদূর গিয়েই চোখে পড়ল স্ট্যালাগমাইটের প্রোথিত স্তম্ভ । ক্রিস্টাল নিয়ে গবেষণা করতে করতে , পড়াশুনো করতে করতে অনেক দিনের ইচ্ছে  ক্যালসিয়াম কার্বনেটের ক্রিস্টালাইজেশনের কারসাজিতে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরী স্ট্যালাকটাইট আর স্ট্যালাগমাইটের দেশে যাবার । এই বুঝি তার স্বর্গের ঠিকানা । সে সত্যি আজ পৌঁছে গেল স্বর্গের আঙিনায় ।

 

থটশপ




ইন্দিরা মুখার্জি
কলকাতা