খেলাঘরখেলাঘর

jasimuddin


বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে আবার অনেকের মতে অম্বিকাপুরে ১৯০৪ সালের ১ জানুয়ারী জসীমউদ্দীনের জন্ম হয়। তাঁর পিতা শিক্ষাব্রতী মৌলবী আনসার উদ্দীন। আর মা আমিনা খাতুন। গ্রামের পাঠশালায় পড়াশোনা শুরু হয় ছোট্ট জসীমউদ্দীনের। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তাঁর জীবন কথা পড়লে সে সব জানা যায়। ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলে পড়া শেষ করে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯২৭ সালে আই.এ এবং ওই কলেজ থেকে ১৯২৯ সালে বি.এ পাশ করেন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ পাশ করেন।

হুড়হুড় করে সাল,তারিখ দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সব লিখে ফেললাম পড়াশোনার জীবনটা ছোট্ট জসী এমনকি বড় জসীম উদ্দীনের কাছে ততটা সহজ ছিল না। গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রতিটা পদক্ষেপে কষ্ট ছিল, দারিদ্র ছিল, আর ছিল কিছু হিংসুটে মানুষের দস্যিপানা। কিন্তু এইসব তুচ্ছ জসীম উদ্দীনের জেদের কাছে। সেই গ্রামের রাখাল যে একদিন তারই গ্রামের কথা জানাবে সারা বিশ্বকে। বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে যে সুর তার মধ্যে রিনিরিনি ঝুম-ঝুম বাজবে...উঠোন ভরা থাকবে পাকা ধানে...নক্সীকাঁথাটি মেলে গুনগুন করে গান ধরবে দাদি। আর জসীমউদ্দীনের সোনার কলমে ঝরে পড়বে - রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে বারেক ফিরে চাও/বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?

১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭২ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিলিট উপাধি দেয়। জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী(১৯২৭) এরপর একে একে প্রকাশিত হতে থাকে-নক্সীকাঁথার মাঠ,বালুচর,দুরাশা, ধানক্ষেত,সোজনবাদিয়ার ঘাট হাসু ইত্যাদি। ভাষা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে "একুশের পদক" পেয়েছিলেন।

১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ্ বাংলার এই প্রিয় কবির মৃত্যু হয়। জসীমউদ্দীনের ইচ্ছানুযায়ী তাঁর দাদির কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। জসীম উদ্দীন রয়েছেন আমাদের ভাষায়...আমাদের বাংলায়...আমাদের চেতনায়...আমাদের অন্তরে অন্তরে ।




কল্লোল লাহিড়ী
কলকাতা

 

গত সংখ্যায় আমরা পড়েছিলাম জসীম উদ্দীন এর লেখা "জীবন কথা"র একটু অংশ।