ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা

আজ আর্থ ডে, বা বসুন্ধরা দিবস। পৃথিবীকে ভালোবেসে, পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীদের ভালোবেসে, ভালোরাখার এবং ভালো থাকার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর ২২ শে এপ্রিল এই দিনটি পালন করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উইসকন্‌সিন রাজ্যের সেনেটর এবং পরিবেশবিদ গেলর্ড নেল্‌সন (Gaylord Nelson) প্রথম 'আর্থ ডে' বা 'বসুন্ধরা দিবস' পালন করার কথা ভাবেন। ১৯৬০ এর দশকের আমেরিকা ছিল প্রবল পরিবেশ দূষনে কাবু, কৃষিকাজে অতি বেশি পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে রাসায়নিক, যান বাহ্ন-কলকারখানা থেকে বেরোনো ধোঁয়ায় টিকে থাকা দুষ্কর। সেই সময়ে আবার অন্যদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্র, আর দুনিয়া জুড়ে ছাত্রছাত্রীরা তার বিরোধিতা করছেন। চতুর্দিকে বিভিন্ন বিষয়ে জমে ওঠা ক্ষোভ এবং পরিস্থিতিকে পাল্টে দেওয়ার এই উৎসাহকে নেল্‌সন চালিত করেন পরিবেশ সচেতনতার দিকে। গেলর্ড নেলসনের নেতৃত্বে প্রথম আর্থ ডে পালন করা হয় ১৯৭০ সালে ২২শে এপ্রিল। দেশের মানুষ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিষ্কার জন এবং বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করার বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠেন। আমেরিকার সমস্ত ধরনের মানুষ এই দিন পালনে সমান ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ক্রমে ক্রমে ২২শে এপ্রিল তারিখটিকে বসুন্ধরা দিবস হিসাবে পালন করতে শুরু করে অন্যান্য দেশগুলি। এই মূহুর্তে, পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশ আজকের তারিখে বসুন্ধরা দিবস পালন করে।


বাঁদিকে সেনেটর গেলর্ড নেল্‌সন, ডান দিকে জন ম্যাক্‌কনেল

একটি সমান্তরাল মত অনুযায়ী, পৃথিবীকে ভালোবেসে, তার সম্মানে একটা আলাদা দিন পালন করার কথা প্রথম ভেবেছিলেন আমেরিকার শান্তি কর্মী জন ম্যাক্‌কনেল ( John McConnell) । ১৯৬৯ সালে তিনি ইউনেস্কোর সান ফ্রান্সিস্কো অধিবেশনে প্রস্তাব আনেন, পৃথিবীকে ভালোবেসে, প্রতিবছর একটা দিন বসুন্ধরা দিবস পালন করা হোক। তাঁর বেছে নেওয়া তারিখ, বা বলা ভালো , দিনটি ছিল বসন্ত বিষুব/ মহাবিষুব বা spring equinox - এর দিন, ২১শে মার্চ ( কোনো কোনো বছর ২২ শে মার্চ ) । ম্যাক্‌কনেল এই দিনটি বেছেছিলেন কারণ, এই দিনটিতে উত্তর গোলার্ধে বসন্তের / উষ্ণতার আগমন ঘটে। তাঁর প্রস্তাব সেই সময়ে ইউনেস্কোতে গৃহীত হয়। তবে পরে ২২শে এপ্রিলই বসুন্ধরা দিবসের দিন হিসাবে বেশি জনপ্রিয় হয়।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তারিখ বা মূল উদ্যোক্তা কে, সে নিয়ে মতান্তরগুলি আর জরুরী নয়। জরুরী হল আজকের পৃথিবীর পরিস্থিতি। প্রায় সত্তর বছর হতে চলল, আমরা পালন করে চলেছি বসুন্ধরা দিবস। কিন্তু সত্যিই কি আমরা খুব একটা বদল আনতে পেরেছি? মনে হয় না। বরং আরো বেশি প্লাস্টিকের ব্যবহারের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়েস্ট - আমাদের বারিল করা কম্প্যুটার, মোবাইল, টেলেভিশন এববগ অন্যান্য যন্ত্রাংশে ভরে রয়েছে বিশাল সব ল্যান্ডফিল। শহর তৈরি করতে , মানুষের বাসস্থানে সংখ্যা বাড়াতে আমরা ক্রমশ কেটে চলেছি গাছপালা, আর সমুদ্র ভরিয়ে তুলছি আবর্জনায়। আমরা যদি এবারে সত্যিই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে সমূহ বিপদ।

এই বসুন্ধরা দিবসে, এমনই সব নানা বিষয়ে নিয়ে কিছু লেখা একত্রে এনে হাজির করল ইচ্ছামতী। আজ এবং আগামি কয়েকদিনে প্রকাশিত হবে এই লেখাগুলি। বড়দের পাশে পাশে, প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে খুব সুন্দর এক নিবন্ধ লিখেছে পাঁচ বছরের রেহান বসু। পড়ে দেখো কিন্তু রেহানের লেখাটি।

এই বসুন্ধরা দিবস উপলক্ষ্যে, আমরা শুরু করছি একটা নতুন সিরিজ - 'ধন ধান্য পুষ্প ভরা'। বসুন্ধরা বিভাগের অন্তর্গত এই নিবন্ধমালায় আমরা ঘুরে ফিরে দেখব এই পৃথিবীর একে একটি দেশকে। আমাদের এই পৃথিবীতে রয়েছে ১৯৫ টি দেশ। কিন্তু সব দেশকে কি আমরা সমান ভাবে চিনি? সবার নাম জানি? সেখানকার গাছপালা, পশুপাখি, মানুষজনের সম্পর্কে কতটুকু জানি আমরা? আর জানিনা বলেই, চিনি না বলেই এখনোও দুনিয়ার কত জায়গা, কত মানুষের সম্পর্কে আমাদের মনে রয়ে গেছে কত অজানা ভয় আর আতঙ্ক। কিন্তু ভয় না কাটলে ভালোবাসব কী করে? এই ভয় কাটানোর আর জানার আগ্রহ নিয়ে, এবং কী কী জানলাম সেটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেব বলেই শুরু হল এই নতুন নিবন্ধমালা। 'ধন ধান্য পুষ্প ভরা' - এই সিরিজে আমাদের ঘুরে ফিরে দেখা প্রথম দেশ 'আর্জেন্টিনা' । অনেক ছবি আর তথ্যে ভরা এই নতুন নিবন্ধগুলি তোমারও পছন্দ হবে নিশ্চয়।

পৃথিবীকে ভালোবেসে, পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসে ভালো থেকো।



গ্রাফিক্সঃ মহাশ্বেতা রায়

undefined

আরও পড়তে পারো...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা