ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
 ডিরোজিও
ডিরোজিও

কি খবর তোমার? অনেকদিন হল তোমার সঙ্গে কথাবার্তা নেই। তোমার আমার জীবনে কত ছোটবড় ঘটনা ঘটে গেল।তুমি পরীক্ষার ভারে জর্জরিত আর আমি কাজের। কলম পিষে পিষে নাজেহাল আমরা দুজনেই। তাই না! খুব বিরক্তিকর বল। নিজের ইচ্ছেমত তবু যদি একটু লিখতে পেতাম। তবে হ্যাঁ! চারিদিকে দেশের দশের যা অবস্থা, পরিস্থিতি নিয়ে যত চ্যানেল,খবরের কাগজ আর ম্যাগাজিন,সেখানে তোমার আমার লেখা, ছবি, সব আজগুবি লাগবে।তাই বরং আমরা ইচ্ছামতীর পাতাগুলোই সবাই মিলে ইচ্ছেমত আঁকিবুকি আর লেখা দিয়ে ভরিয়ে তুলি।

শীত শেষ হতে চলল। শীতের পিকনিক, রোদ্দুরে খেলা, হই-হুল্লোড়্‌ বেড়ানো শেষ। 'হযবরল'-র হাতে-রইল-পেনসিল-এর মত পড়ে আছে শুধু পড়া আর পরীক্ষা।মাঝে মাঝে মনে হয় না, যে, পড়াশোনা ব্যাপারটা কে বা কারা আবিষ্কার করেছিল, তারা মোটেও ভাল লোকজন নয়, তাদের ধরে এনে আবার পরীক্ষা দিতে বসানো উচিত! তোমার মত বয়সে কিন্তু আমার এরকম মনে হত! তুমি হয়ত খুব ভাল, তোমার এসব মনে হয় না। কিন্তু আমি জানি ইচ্ছামতীর বেশিরভাগ বন্ধুর মনের কথা এটাই।

কথায় কথায় একটা প্রশ্ন করি তোমায়—তোমার বয়স কত হবে? আট, দশ, নাকি বারো বা তেরো? খুব বেশি হলে চোদ্দ-পনের বছর, ধরে নিলাম! হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজ়িও-র কথা মনে পড়ছে খুব। তোমার থেকে একটু বড় বয়সে, মাত্র সতেরো বছর বয়সে, এই ভারতীয় পর্তুগিজ মানুষটি তখনকার হিন্দু কলেজে, যা আজ প্রেসিডেন্সি কলেজ, বা এখন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পৃথিবী-বিখ্যাত, শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অবাক হচ্ছ? হওয়ারই কথা। তিনি সেই কলেজে শিক্ষকতায় ঢুকে কলেজের ভোল বদলে দেন। ছাত্র-রা অন্য ক্লাস থেকে পালিয়ে আসত তাঁর কথা শুনতে। আর আরো অবাক করা ব্যাপার হল, বেশিরভাগ ছাত্রের বয়স তাঁর থেকে বেশি।সেটা অবশ্য শুধু বয়েসে, বিদ্যায় নয়।

আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এতটা পথ পেরিয়ে দেখেছি যে রাজা রামমোহনের আগে আন্দোলন সীমাবদ্ধ থেকেছে দেশের কৃ্ষক, শ্রমিক, সৈনিক ইত্যাদি, শিক্ষার দিক থেকে অনগ্রসর শ্রেণী-র মানুষদের মধ্যে। কিন্তু শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যেও জাতীয় চেতনার জাগরণের লড়াই শুরু হয়েছিল।১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে পাশ্চাত্য শিক্ষার জানলা গেল খুলে। আর তার হাল ধরলেন ডিরোজ়িও-র মত মানুষরা।

নতুন চিন্তা, যুক্তিবাদ আর স্বাদেশিকতায় ছাত্রদের উদবুদ্ধ করে তুললেন ডিরোজ়িও।গোষ্ঠী তৈরী হল 'ইয়াং বেঙ্গল'।ডিরোজ়িও-র ছায়ায় হিন্দু কলেজের ভোল বদলে গেল।একটি কবিতা লিখলেন তিনি। পর্তুগিজ পরিবারে ভারতে জন্ম হয়েছিল তাঁর। সেই বিশ্বাসে নিজের কবিতাতে ভারতকে মাতৃভূমি বলে সম্বোধন করে ছাত্রদের মধ্যে নতুন করে অঙ্কুরিত করলেন দেশাত্মবোধের বীজ। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে রাজা রামমোহনের সংস্কার আন্দোলনের যে সূত্রপাত ডিরোজ়িও-র 'ইয়ং বেঙ্গল' তা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে চলল। ছাত্ররা পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করেন; 'আকাদেমিক' (গ্রীক দার্শনিক প্লেটো-র অনুসরণে) আলোচনায় সম্মিলিত হয়ে, পরাধীনতার গ্লানি সম্পর্কে দেশবাসীদের সচেতন করে তোলেন তাঁরা।আবার ঠিক তেমনি বৃটিশ শাসনে বাংলার কৃষকদের দূরবস্থা, দেশীয় শিল্পের সংকট এবং দেশীয় মানুষদের প্রতি ইংরেজ শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ, অত্যাচার ও শোষণের চিত্রও তুলে ধরেন তাঁরা। মহাজনী ও সামন্ত শ্রেণী প্রতিভূরা স্বাভাবিকভাবেই এতে রুষ্ট ও শঙ্কিত হন। ডিরোজ়িও-র শিক্ষার ফলে তরুণ মনের জিজ্ঞাসা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও ইহমুখিনতা সারা বাংলার সমাজে এক নবজাগরণের সৃষ্টি করে। এর ফলে যে সামাজিক ঘাত-প্রত্যাঘাত শুরু হয় তার ফল স্বরূপ ডিরোজ়িও-কে শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এই জাগরণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলার নবজাগরণের সঙ্গে তুলনায় নয়।এর সীমাবদ্ধতা নিয়েও কোনো সংশয় নেই।কিন্তু এ জাগরণ না ঘটলে ভারতের জাতীয় আন্দোলনের সংগ্রাম শুরু হতে আরও অনেক দেরী হয়ে যেত। শিক্ষা কেন গুরুত্বপুর্ণ সেই প্রশ্ন তোমার মনে থেকে থাকলে আরও ভাল করে জান রাজা রামমোহন, ডিরোজ়িও, বিদ্যাসাগর আর বেথুন সাহেব-দের। ভেবো না আবার পড়াশোনা করতে বলছি। শুধু একটু জানতে বলছি।


ছবিঃ উইকিপিডিয়া

কলমের জোরঃ জাতীয় চেতনার উন্মেষ-পর্ব ২
কলমের জোরঃ জাতীয় চেতনার উন্মেষ-পর্ব ২
রাজা রামমোহন রায়

আমার মামারবাড়িতে তবলা ছিল। ছোটমামা বাজাতেন। তিনি যখন বাড়ি থাকতেন না, লুকিয়ে লুকিয়ে তবলার বিঁড়ে (যে বৃত্তাকার গদির ওপর তবলা রাখা হয়) মাথায় পরে, গোঁফ এঁকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রাজা রামমোহন সাজতাম।কেন জানি না, এই রাজা রামমোহন আমার মনে এক বেশ বড় জায়গা নিয়ে আছেন। কোনো কিছুকে বদলাতে গেলে বদল রাতারাতি আসে না। আর যিনি এই বদলের উদ্যোগ নেন, তাঁর বড় সাহস, জ্ঞান আর বিচক্ষণতা লাগে। লাগে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই-এর মত কঠিন মন। এ লড়াই অস্ত্রের নয়, মনের।রাজা রামমোহন ছিলেন সেই কাণ্ডারী যাঁর স্পর্শে বাংলা তথা ভারত প্রথম সমাজ সংস্কারের আলো দেখেছিল।মেয়েরা পেয়েছিল তাদের প্রাপ্য সম্মান।

কলমের জোরঃ জাতীয় চেতনার উন্মেষ-পর্ব ২
জেমস সিল্ক বাকিংহাম

ইংরেজেদের ভারত শাসনের সময়ে আমরা বারে বারে দেখেছি যে ইংরেজ মানেই যে খুব খারাপ তা কিন্তু নয়।কলমের জাগরণের সময়ে এমনই এক শুভানুধ্যায়ী ছিলেন জেমস সিল্ক বাকিংহাম। বাকিংহাম ছিলেন রাজা রামমোহন রায়ের সংস্কার-নীতির একজন বড় পৃষ্ঠপোষক। তাঁর প্রথম পত্রিকা ছিল ‘ক্যালকাটা জার্নাল’ নামে এক দৈনিক।তাঁর বেশ নাম-ডাক হয় এই পত্রিকার মাধ্যমে বৃটিশদের অবিচার আর অপসাশনের বিরূদ্ধ সমালোচনার মাধ্যমে।তুমিই বল, এর পরে কি আর বৃটিশরা তাঁকে কখনো সহ্য করতে পারে!!! তখন অস্থায়ী গভর্ণর জেনারেল ছিলেন জন অ্যাডাম। এমন কলমের লড়াই শুরু হল যে বেচারা জন ভয় পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে তড়িঘড়ি সংবাদপত্রে নিয়ন্ত্রনের আদেশ জারি করে বসলেন। আর বাকিংহাম-কে বলা হল, বিলেত ফিরত চলে যেতে। অ্যাডামের আইন অবশ্যই সংবাদপত্রের গলা টিপে ধরল।

মাঠে নামলেন রাজা রামমোহন। ১৮২৩ সালে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট তারপর ব্রিটেনে রাজার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। সেই প্রথম কেউ বৃটিশ শাসিত ভারতের নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দাবী করেন। দাবী করেন শাসনতান্ত্রিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের। শাসন মানেই কি স্বেচ্ছাচার? প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরাধীন হলেও দেশের নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম অধীকার প্রত্যেক ব্যক্তির আছে, তা রাজা রামমোহন এই স্মারকলিপিতে বলেন।এর ফল অনেকদূর ছড়ায়।এমনকি পরে ঊনবিংশ শতাব্দী-তে শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য যে আন্দোলন সংগঠিত হয়, তা রামমোহনের দেখানো পথেই।

কলমের জোরঃ জাতীয় চেতনার উন্মেষ-পর্ব ২
১৮৭২ সালে প্রকাশিত অমৃতবাজার পত্রিকার একটি পাতা

কলমের যে কি জোর তা আগে ইংরেজরা বোঝেই নি। তলোয়ার, বন্দুক আর অত্যাচার করার জোর তো ইংরেজদের ছিলই। কিন্তু পালটা কলমের জোরের কাছে তারা কেমন যেন ম্রিয়মান হয়ে গেল।সরকারি নিয়ন্ত্রনের প্রতিবাদে রাজা রামমোহন ‘মীরাৎ-উল-আখবার’ প্রকাশ করাই বন্ধ করে দেন। আর তার জেরেই ইংরেজরা বুঝল যে সংবাদপত্রের টুঁটি টিপে ধরলে তার ফলে নিজেদেরই দমবন্ধ হয়ে যাবে। তাই ১৮৩৫ সালে গভর্নর জেনারেল চার্লস মেকটাফ এক ঘোষণার মাধ্যমে সংবাদপত্রের ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। রাজা রামমোহনের জয় হয় বিনা রক্তপাতে, শুধু লেখনীর শানিত প্রয়োগে। তবে হ্যাঁ, মানুষের জাগরণ আর চেতনার উন্মেষ ঘটাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’, হরিশচন্দ্র মুখার্জীর ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ কেশবচন্দ্র সেনের ‘সুলভ সমাচার’, শিশিরকুমার ঘোষের ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’, দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের ‘সোমপ্রকাশ’ ইত্যাদি অনেকের।

১৮৩৫ সালে মেকটাফের ঘোষণা আর ১৮১৭৮ সালে গভর্নর জেনারেল লিটনের ভার্নাকুলার প্রেস এক্ট (act) – এই চার দশকে বাংলার কলমের শক্তি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল ইংরেজ সরকার। তারই মধ্যে আবার ১৮৫৭ সালে সিপাহী-বিদ্রোহ। রীতিমত নাকানি-চোবানি খেয়েছিল বৃটিশ সরকার। সব মিলে টলে গিয়েছিল ভারতে তাদের ক্ষমতার ভিত। এরপর থেকে আর আরামে রাজত্ব করতেই পারেনি বৃটিশ সরকার।

ছবিঃ উইকিপিডিয়া ও বৃটিশ লাইব্রেরি

আমার মন খুব খারাপ। পড়াশোনা করার সময়টুকুও পাচ্ছিনা। সময় শুধু ছুটিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। কেমন মজা দেখ, তুমি পড়তে বসতে চাও না, কিন্তু আমি চাই, সময় পাই না। মাঝে মাঝে ভাবি, ছোটবেলায় যদি প্রচুর সময় নষ্ট না করে আরেকটু পড়াশোনা করতাম! তখন তো এখনকার মত সময় কাটানোর বা বিনোদনের এর উপায় ছিল না, তাই হাতে সময় ছিল প্রচুর। আমি যখন তোমার মত ছোট ছিলাম, আমাদের বাড়িতে একটা টিভি পর্যন্ত ছিল না। হাসছ তুমি শুনে!!! শুধু রবিবারে এক ঘন্টার জন্য টিভি দেখতে যেতাম, আমার এক বন্ধুর বাড়িতে। আমি অবশ্য শুধু একা নয়। আমার অনেক বন্ধুরাই ওই বন্ধুর বাড়িতে ফি রবিবার টিভি দেখতে যেত। তখন এটাই রেওয়াজ ছিল।আর বাকি যা সময় পেতাম আমি, লিখতাম। অনেক হাবিজাবি লেখা, যার কোনো মানে হয় না।বড়দের কাছে শুনতাম, কলমের জোর নাকি অনেক। সে নাকি সারা দেশ তথা বিশ্ব-কেও টলিয়ে দিতে পারে, তার থেকে নিঃসৃত শব্দের বলে।

ইংরেজদের কপালেও সে রকমই নাচছিল। বিদ্রোহ-বিপ্লব-আন্দোলন তো তারা পেশীর জোরে দমন করে ফেলল। কিন্তু কলমের খোঁচা তো আর সামলাতেই পারল না।তা-ও আবার নিজেদের লোকেদের হাত ধরেই এমন অঘটন শুরু।


বাঁ-দিক জেমস অগাস্টাস হিকি; ডান দিকে 'দ্য বেঙ্গল গেজেট'

কোথা থেকে জেমস অগাস্টাস হিকি নামে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক প্রাক্তন চাকুরে ১৭৮০ সালে চারপাতার এক সংবাদপত্র 'দ্য বেঙ্গল গেজ়েট' প্রকাশ করতে আরম্ভ করলেন। চারিদিকে আলোড়ন পড়ে গেল। আর সেই কলমের খোঁচার আঘাত গিয়ে পড়ল সাগর পারের বিলেতে।

ভারতের কৃষকেরা তো কোনোভাবেই নানা রকম বিদ্রোহ-বিল্পব-আন্দোলন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার আর কুশাসনের কথা ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারল না। ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য ফিলিপ ফ্রান্সিস লুকিয়ে লুকিয়ে হিকিকে কোম্পানির কেলেঙ্কারী আর দুর্নীতির খবর পাচার করতেন, আর হিকি সাহেব তাঁর নিজের কলম শানিয়ে সব ঝপাঝপ ছেপে ফেলতেন তাঁর গেজ়েটে। ইংল্যান্ড তখন রাজনৈতিক ভাবে দু' ভাগে ভেঙে গিয়েছে, হুইগ আর টোরি দলে।নতুন উঠে আসা বুর্জোয়া শ্রেণীর দল হল গিয়ে হুইগ। তার কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসার বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়াল।হিকির গেজ়েটের খবর বিলেতে পৌঁছালে সেখানকার পার্লামেন্টে হইচই পড়ে যায়।কোম্পানির অপশাসন আর দৌরাত্মের বিরূদ্ধে হুইগ দল সোচ্চার হয়।সেই চাপের কাছে মাথা নিচু করে শেষে ওয়ারেন হেস্টিংসের মত লোকের বিরূদ্ধে ইম্পিচমেন্টের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় বৃটিশ সরকার।

এসব কথা বললেও সাহেব সম্পাদকরা যে কোম্পানির শাসনের বিরোধীতা করছিলেন, তাতে কিন্তু বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা কোথাওই কোনোভাবেই থাকত না।তাহলে তাঁদের লড়াই কিসের জন্য জান? ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে।কখনো কখনো এই বিরোধীতা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত।সেখানেই এল কলমের হাত ধরে জাতীয় চেতনার উন্মেষকাল।পথিকৃৎ, রাজা রামমোহন রায়।

এই সৌম্যসুন্দর ব্যক্তিটি কোনোরকম পদে না থেকে আমদের দেশকে অন্ধকারের মধ্যে প্রথম যে আলো দেখিয়েছিলেন তার জন্য লাগে বিদ্যা, বুদ্ধি, বিচক্ষণতা আর সর্বোপরি, সাহস।কোথাও আমার আজ মনে হয়, গান্ধিজি যেন তাঁর দেখানো আলোকেই সূর্যালোকে পরিণত করেছিলেন।সবকিছুর মিশেলে রাজা রামমোহন রায় আমার ছেলেবেলার আদর্শ ছিলেন। আর ছত্রপতি শিবাজী, রাণা প্রতাপ সিংহ – এঁরা ছিলেন আমার হিরো।তবলার যে বিঁড়ে থাকে, সেটা নিয়ে মাথায় পরে, গোঁফ এঁকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রামমোহন হওয়ার চেষ্টা করতাম।তিনিই প্রথম যিনি একা হাতে সমাজের খোল-নলচে বদলে দিয়েছিলেন; যা যা করবেন ভেবেছিলেন, করে দেখিয়েছেন। তিনিই প্রথম যিনি জাতীয় চেতনার উন্মেষ- কালে ইংরেজদের বিরূদ্ধে লড়াই করবার নিরস্ত্র পথ দেখিয়েছেন। কলমের জোর কাকে বলে আরও একবার টের পেল ইংরেজ সরকার।তিনিই প্রথম যিনি সংবাদ পত্রের ভূমিকা উপলব্ধি করেছিলেন। জনশিক্ষা আর জনচেতনার প্রসারে পুস্তক-পুস্তিকার সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকার কথা তিনি বোঝেন। এর জন্য তাঁর স্থায়ীভাবে কলকাতায় এসে বসবাসের প্রয়োজন হয়।১৮১৫ সালে তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। বলা যেতে পারে, ইংরেজ শাসনের বিরূদ্ধে কলমের যুদ্ধের সূচনা ঠিক তখন থেকেই।

রাজা রামমোহন রায়ের বিদ্যার প্রসার ছিল অনেক দূর। একসঙ্গে তিন তিনটি ভাষার সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি – ব্রাহ্মন সেবধী (১৮২৯), সম্বাদ কৌমুদী (১৮২৯)ও মীরাৎ ঊল আখবার (১৮২২)। এর আগে ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুরে ব্যাপ্টিস্ট মিশনারীদের উদ্যোগে সমাচার দর্পন ও দিগদর্শন পত্রিকা প্রকাশিত হত।

কি না থাকত সে সব পত্র-পত্রিকায় –ইংরেজ শাসনের সোজাসুজি সমালোচনা, দেশের কৃষক জনসাধারনের দুর্গতি ও তার প্রতিকার দাবী, সতীদাহ নিবারণের যৌক্তিকতা, শিক্ষা প্রসারের প্রয়োজনীয়তা, আর ও কত কি জোরাল বিষয়।ইংরেজ সরকার হঠাৎ-ই এমন এক অন্য রকমের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে গেল।

যাক বাবা! তুমি যেন আবার দিশেহারা হয়ে যেও না, পড়াশোনা করতে করতে। জানি পরীক্ষা এসে গিয়েছে; কিন্তু নিজের জন্য একটু খেলার সময় রেখো। টিভি দেখা কমিয়ে দাও। বরং সে সময়ে একটু পরখ করে দেখো না তোমার কলমের জোর কত!!!!


ছবিঃউইকিপিডিয়া ও অন্যান্য ওয়েবসাইট

সেদিন সকালটা বেশ খারাপই ছিল। ফেসবুকে হঠাৎ এক বন্ধুর পোস্ট --রবিন উইলিয়ামস চলে গেলেন। হঠাৎ-ই।তুমি অবশ্য তাঁকে কত টা চেন জানি না, তবে আমার বড় হয়ে উঠতে উঠতে সিনেমা দেখার সঙ্গে তাঁর এক বিশেষ যোগ ছিল।চার্লি চ্যাপলিনের স্ল্যাপস্টিক কমেডি তো অনেক বড় হয়ে বুঝেছিলাম,তার আগে চ্যাপলিন কে দেখে শুধু হাসতাম তাঁর অংগভঙ্গীর জন্য।কিন্তু রবিন উইলিয়ামস বড্ড সমসাময়িক, বড্ড মনকে সটান ছুঁয়ে যাওয়া একটা নাম যা শুধু ওফুরন্ত হাসির হুল্লোড়ে মাতিয়ে রেখেছিল আমার বড় হওয়া-কে। Mrs. Doubtfire, Dead Poets’ Society, Captain Hook, Jumanji, Good Will Hunting – কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি।বিশ্বজোড়া হাসির তুবড়ির সেই মানুষটা আজ নিঃশব্দে অন্ধকারে।

বিফল মনোরথে আবার বিফলতার-ই গল্প…ফিরে আসি সিপাহী বিদ্রোহে। অত কিছু করেও কিছু হল না জান!বিদ্রোহীদের বীরত্ব বা শত্রুর মোকাবিলা করার সাহসের কোনো অভাব ছিল না।কিন্তু অতবড় গণভ্যুত্থান, আর তাতে আবার শত্রুর অনুপ্রবেশকে আটকানো – এই দু-টোতেই পরিচালনা ও পরিকল্পনার বেশ অভাব ছিল।

কি গো কেমন আছ তুমি?আর বোলো না, পরিস্থিতির চাপে পড়ে তোমাকে যে একটা ইয়া লম্বা গল্প বলতে বসেছি, তা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। হূঁশ এল চাঁদের বুড়ির তাগিদে। কিছু মনে করো নি আশা করি তুমি! সত্যিটাই বললাম।


সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নানাসাহেব

গরমে ত্রাহি ত্রাহি রব। ইস্কুলে আগে থেকেই ছুটি পড়ে গিয়ে নিশ্চয়ই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছ। শুধু এই গরমে এতটা অবসর নিয়ে কোথায় যে যাওয়া যায়!যেখানেই যাও গরম আর গরম। হিমালয়েই বরং চলে যাই, বল!তবে হ্যাঁ, সেই বরফও কতদিন থাকবে কে জানে।স্বাভাবিক তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধির যা হার তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর ৫-৬ ডিগ্রী সেলিসিয়াস বাড়তে চলেছে। প্রমাদ গুনছেন পৃথিবীব্যাপী বৈজ্ঞানিক আর আবহাওয়াবি্দেরা। তুমি জান কি না জানি না, সারা পৃথিবীতে প্রাকৃতিক সম্পদ যা ছিল, মানব সভ্যতার শুরু থেকে তা যতটা খরচ হয়েছে আজ পর্যন্ত, তার বিগত অর্ধেক আমরা খরচ করে ফেলেছি বিগত মাত্র পনের বছরে। এখন UNICEF তাই বিশ্বব্যাপী একই লক্ষ্যে এগিয়ে চলতে চায় এটা মেনে নিয়েই যে সভ্যতার উন্নতির সাথে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবেই, আর আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে তা ৫-৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস না বেড়ে যেন মাত্র ২ ডিগ্রী বৃদ্ধির মধ্যেই থাকে। তবে তার জন্য তোমার মত স-ব ছোট্ট মানুষদের সচেতনতা খুব জরুরী। UN ICEF নিজে নিজে হঠাৎ একটা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিল, আর আমরা সবাই হাত-পা গুটিয়ে হাঁ করে বসে রইলাম, তাহলে আর কিছূই হবেনা।মেরু-অঞ্চলের পুরু বরফের ২ ইঞ্চি স্তর গলে গেলেই কেল্লা ফতে – পৃথিবীর সলিল-সমাধি – তিনভাগ জল আর একভাগ স্থলের বদলে, পুরোটাই জল।

ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে ফিরে যাই, তোমাকে আমাকে বর্তমানে রেখে। কোথায় যেন একটা ছিলাম অতীতের time-line-এ। ও হ্যাঁ, সিপাহী বিদ্রোহ।

নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা