ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
roopkunder-haatchhani

যাহোক্, হাতের লেড়কি পায়ে ঠেলে, আমি উঠে পড়লাম। বাধ্য হয়ে ওরাও আমাদের সঙ্গে এগিয়ে চললো। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ওদের সাথে পথ চলছি। আরও বেশ কিছু পথ চলার পর, ডানপাশে ছোট একটা কুড়েঘর দেখতে পেলাম। ঘরের বাসিন্দা এক বৃদ্ধ, বাইরে বসে মনের সুখে ভেড়ার লোম পাকাচ্ছেন। এ পথের সমস্ত পুরুষেরই দিনের অধিকাংশ সময় কাটে এই লোম পাকিয়ে, মোটা উল তৈরী করায়। এর থেকে ওরা নিজেদের গরম পোষাক তৈরী করে। এ ভদ্রলোকও দেখলাম গঙ্গাকে চেনেন। সাধারণত এ পথের সমস্ত যাত্রীই ওয়ান হয়ে বৈদিনী যায়। অর্থাৎ গঙ্গাও এ পথে খুব কম গিয়েছে। হরিশ এ পথে আগে গিয়েছে। কুমারের এই প্রথম। অথচ এই বৃদ্ধ গঙ্গাকে চেনেন। এ পথে দেখছি বৃদ্ধাশ্রমের অভাব নেই। তবে শুধু বৃদ্ধের জন্যই আশ্রম, বৃদ্ধাদের স্থান নেই, এবং শর্ত একটাই, বৃদ্ধ একা থাকবে।

যাহোক্, তিনি গঙ্গাকে ডেকে তাঁর ওখানে একটু বিশ্রাম নিতে বললেন। এই কয়েক মিনিট হ'ল আমরা এক পর্ব বিশ্রামের পালা শেষ করে আসলাম। আমি বিপদ বুঝে তাড়াতাড়ি বললাম, "এইতো এখনই বিশ্রাম নিয়ে এলাম। এখন আর বসার প্রয়োজন নেই"। গঙ্গা জানালো ওঁর ওখানে একটু বসে না গেলে, তিনি মনে খুব দুঃখ পাবেন। সুতরাং বৃদ্ধকে আসন্ন দুঃখের হাত থেকে মুক্তি দিতে, গঙ্গার ইচ্ছায়, গুটি গুটি পায়ে তাঁর ঘরটার দিকে এগতেই হ'ল। কুমার ও হরিশ সমস্ত মালপত্র আমাদের যাবার পথের ওপরেই রেখে এল। বৃদ্ধটি তাঁর ভাঙ্গাচোরা ঘর থেকে দুটো চট্ এনে ঘরের সামনে বিছিয়ে দিলেন। আয়োজনের ত্রুটি নেই। ভয় হ'ল গঙ্গা না আবার আজ এখানে থেকে যাবার প্রস্তাব দিয়ে বসে। আমি আরাম করে চটের ওপর শুয়ে পড়লাম। এবার তিনি একটা হুঁকো সেজে নিয়ে এলেন। ঠিক থেলো হুঁকোর মতো সাধারণ হুঁকো নয়। বৃদ্ধটি ঐ বিস্তীর্ণ এলাকায় একাই থাকেন। জমিদারও বলা যেতে পারে। তাই তিনি জমিদারের মতোই গড়গড়া খান। একটা প্রায় তিন ফুট মতো লম্বা, সরু, বাঁশের ফাঁপা কঞ্চির মতো লাঠি দিয়ে, তিনি পরম আরামে হুঁকো টানতে শুরু করলেন। না ভূল বললাম, হুঁকো টানার নলটাকে কঞ্চি বললে অসম্মান করা হবে। এখানে ঐ জাতীয় গাছ প্রচুর হয়। দেখতে এখানকার বাঁশের কঞ্চির মতো হলেও, এগুলোকে বাঁশ বলাই উচিৎ। হরিশ আমাদের রাস্তা হাঁটার কষ্ট লাঘব করতে দু'টো কঞ্চির ন্যায় বাঁশ কেটে দিল। অসম্ভব শক্ত। গঙ্গা আর বৃদ্ধটি পালা করে হুঁকো টেনে যাচ্ছে। আমি শুয়ে আছি। সিতাংশু জায়গাটা সরজমিনে তদন্ত করে দেখছে। হঠাৎ গঙ্গা আমায় বললো, বাবুজী সখ করবে? সখ করা মানে হুঁকো টানা। এর আগে আমাদের বাড়ির পাশে, এক দাদুর হুঁকো টেনে দেখেছি। তবে সেটা ছিল অতি সাধারণ থেলো হুঁকো। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। হুঁকোটাকে যতটা সম্ভব দুরে রেখে, প্রায় তিন ফুট লম্বা বাঁশ দিয়ে টানতে হবে। মুখ দিয়ে না টেনে কঞ্চি দিয়ে খাচ্ছেন খান, কিন্তু কঞ্চিটা অত বড় রেখে কী সুবিধা, তিনিই বলতে পারবেন। গঙ্গার কথায় বৃদ্ধটি আহ্লাদ প্রকাশ করে আমায় সখ করতে অনুরোধ করলেন। আমি উঠে বসে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর, সখ করতে সমর্থ হ'লাম। আতুর ঘরে নাতির প্রথম জন্মক্রন্দন শুনে যেমন দাদুর মুখে হাসি ফোটে, আহ্লাদে আটখানা হন, এই বৃদ্ধটিও আমার সখ করার সাফল্যে, সেই রকম আহ্লাদিত হলেন। গঙ্গাকে জিজ্ঞাসা করলাম জায়গাটার নাম কী? সে জানালো জায়গাটার নাম "টোল"। পরে অবশ্য সে জায়গাটাকে "টোর্ন" নামে পরিচয় দিল। জানিনা কোনটা ঠিক নাম। এইরকম নির্জন জঙ্গলে, ভাঙ্গাচোরা একটা ঘরে, বৃদ্ধটি কিসের আকাঙ্খায় বাস করেন, ভগবান জানেন।

যাহোক্, আমরা বৃদ্ধটিকে নমস্কার করে উঠে পড়লাম। শুরু হ'ল নতুন করে পথ চলা। এবার একটু চড়াই এর পথ। একটু আগে গঙ্গার দেখানো সেই পাহাড়ের চুড়ায় উঠছি। রাস্তা একটু পাথুরে। দু'পাশে ঘন জঙ্গল। এর কিছু পরেই আমরা একটা ফাঁকা মাঠে এসে দাঁড়ালাম। সত্যি এক অদ্ভুত জায়গা। কখনও ভীষণ ঢালু মাটির রাস্তা, কখনও পাথুরে চড়াই এর পথ, কখনও সুন্দর ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে রাস্তা, কখনও লাল মাটির রাস্তা, আবার কখনও বা ঘন জঙ্গলে অথবা বড় বড় ঘাসে ঢাকা বা ঝোপঝাড় পেরিয়ে এগতে হয়। এই মাঠটার পরেই আবার বড় বড় গাছের জঙ্গল। গাছগুলো থেকে খুব হাল্কা মাকড়সার জালের মতো এক প্রকার লতা ঝুলছে। পাহাড়ী এলাকায় গাছের ডালপালা বা কান্ডের ওপর বরফ জমে, গরম কালে গলে যাবার পর যেরকম শ্যাওলা জাতীয় জন্মায়, অনেকটা সেই জাতীয় এক প্রকার লতার মতো। অথচ অনেকটা স্বর্নলতিকার মতো রঙ। গঙ্গা জানালো এগুলো খুব দামী জিনিস। এখন এর দাম, প্রতি কিলোগ্রাম ১৬৮টাকা। আমি বললাম এখানে তো অনেক রয়েছে, নিয়ে গিয়ে বিক্রী করলে তো পার। গঙ্গা বললো এগুলো গদি তৈরীর কাজে লাগে। এগুলো এত হাল্কা যে, এক কিলোগ্রাম তুলতে ঘাম ছুটে যাবে। যাহোক্, আমরা সামনের জঙ্গলের পথে এগতে যাব, এমন সময় সিতাংশু বললো, তার একটা প্রস্তাব আছে। আমরা জানতে চাইলে সে গম্ভীর হয়ে বললো, এক রাউন্ড কফি হলে হ'ত না? সত্যি, এতক্ষণের রাস্তায় এই প্রথম সিতাংশু একটা দামী কথা বলেছে। জায়গাটা বেশ ঠান্ডা, তাছাড়া মুখের ওপর দিয়ে এত সাদা ঘন মেঘ উড়ে যাচ্ছে, যে একটু দাঁড়ালে, বেশ কষ্ট হচ্ছে। আমি প্রস্তাবে রাজী হ'লে, ধ্বনি ভোটে সেই প্রস্তাব পাশ হ'ল। গঙ্গা হরিশকে জল আনতে বললো। হরিশ বললো সে একা যাবে, ভাল্লুর ভয় নেই তো? গঙ্গা বললো ভাল্লু তোমায় খাবে না। হরিশ জঙ্গলের দিকে না গিয়ে, ডানপাশে মাঠ পেরিয়ে জল আনতে চলে গেল। গঙ্গা একটা গাছের তলায় পাথর সাজিয়ে উনন তৈরী করে, শুকনো কাঠ খুঁজতে গোটা মাঠ ঘুরে বেড়াতে লাগলো। কুমার ও সিতাংশু কিছু শুকনো ডালপালা যোগাড় করলো। একটা পলিথিন সিট পেতে আমরা বনের মধ্যে বনভোজনের প্রস্তুতি শুরু করলাম।

roopkunder-

haatchhani

অনেকক্ষণ সময় কেটে গেল, হরিশ ফিরে এল না। গঙ্গা, কুমারকে হরিশের খোঁজে পাঠিয়ে, উননে কাঠ জ্বালাবার চেষ্টা শুরু করলো। আরও বেশ কিছুক্ষণ সময় কেটে গেল, ওদের দু'জনের কেউই ফিরে এল না। এবার সিতাংশু চললো ওদের খোঁজে। আমি সিতাংশুকে বললাম ওদের খুঁজে না পেলেও, তুমি অন্তত ফিরে এস। একটু পরেই তিন মুর্তিমান জল নিয়ে ফিরে এল। হরিশ জানালো অনেক দুরে জল আনতে যেতে হয়েছিল। গঙ্গা জানালো আরও শুকনো কাঠের প্রয়োজন। আমি ওরা যে দিকে জল আনতে গিয়েছিল, সেই দিকে খানিকটা পথ গিয়ে, বাঁদিকে একটা জঙ্গল মতো জায়গায় ঢুকলাম। জায়গাটা এত নির্জন, যে গা ছমছম্ করে। এখানে কোন বসতি নেই। গোটা এলাকাটাই নির্জন, কিন্তু এই জায়গাটার একদিকে মাটির ওপর কাঁটা তার পড়ে আছে। হয়তো কোন সময় কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, জায়গাটায় কিরকম একটা ভৌতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। শুকনো কাঠ পাওয়া গেল না।

এদিক ওদিক থেকে কিছু শুকনো ডালপালা নিয়ে ফিরে এলাম। জল ফুটলো, কফিও তৈরী হ'ল। জায়গাটা সত্যি অতুলনীয়। সামনে পিছনে ঘন জঙ্গল। ডানপাশে, যে দিকে ওরা জল আনতে গিয়েছিল, বেশ বড় মাঠ। বাঁপাশে, যে দিক থেকে আমরা এখানে এলাম, দুরে বহুনীচে খাদ আর উচু পাহাড়ের মেলা। বাড়ি থেকে একটা ছোট অ্যালুমিনিয়ামের বাটি নিয়ে এসেছিলাম কফি তৈরীর জন্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, এরা ঐ বাটি ভর্তি কফি এক একজন খায়। সঙ্গে দুটো প্লাষ্টিক মগ আর ঐ একটা বাটি। হাঁড়িতেই কফি তৈরী হ'ল। তাই আগে তিনজন কফি খেয়ে, পরে দু'জনকে কফি খেতে হচ্ছে। বাদাম আর কফি খেয়ে, মালপত্র বেঁধে উঠে পড়লাম। হঠাৎ গঙ্গা বললো এক কাম করো, আজ "আলি বুগিয়াল" থেকে যাও। কাল ওখান থেকে "বগুয়াবাসা" চলে যাব। আগামীকালই হিসাব মতো আমাদের বগুয়াবাসা যাবার কথা। আমি বললাম গতকাল আমাদের ওয়ান যাবার কথা ছিল, তুমি লোহাজঙ্গে থেকে গেলে। আজ বৈদিনী বুগিয়াল যাবার কথা, তুমি আলি বুগিয়ালে থেকে যাবার কথা বলছো। কাল আবার মাঝ রাস্তায় কোথাও থাকতে বলবে। দরকার নেই, আজই আমরা বৈদিনী চলে যাব। গঙ্গা বললো, আলি থেকে বৈদিনী মাত্র দুই-আড়াই কিলোমিটার পথ। বৈদিনী বুগিয়াল থেকে চড়াই ভাঙ্গতে হবে। আজ বৈদিনী বুগিয়াল গেলে, কাল ঘুম থেকে উঠেই চড়াই ভাঙ্গতে খুব কষ্ট হবে। আজ আলি বুগিয়ালে রাত্রে থেকে, কাল বৈদিনী পর্যন্ত সমান রাস্তায় হেঁটে, তারপর চড়াই ভাঙ্গলে, কষ্ট অনেক কম হবে। কথাটার যুক্তি আছে বলে মনে হ'ল। সিতাংশু আমায় বললো, আমাদের টুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী আমরাতো একদিন আগেই ওখানে পৌছাব, কাজেই আজ আলি বুগিয়াল থেকে যাওয়া যেতে পারে। তাই ঠিক হ'ল। হরিশ জানালো আলি, বৈদিনীর থেকে অনেক সুন্দর ও অনেক বড় বুগিয়াল। এতক্ষণে জানা গেল বুগিয়াল কথার অর্থ, তৃণভূমি, এবং আলি বুগিয়ালের বিস্তির্ণ এলাকায় শুধু তৃণভূমি।

roopkunder-haatchhani

যাহোক্, একভাবে অনেকটা পথ গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গিয়ে, আমরা এবার একটা ফাঁকা জায়গায় হাজির হ'লাম। এও এক অদ্ভুত জায়গা। সিতাংশু ও গঙ্গা আগে আগে যাচ্ছে, ওদের ঠিক পিছনেই আমি। আমার পিছনে কিছুটা দুরে হরিশ ও কুমার। আকাশ পরিস্কার নয়, তবে যথেষ্ট আলো আছে। হঠাৎ হঠাৎ সাদা ভারী মেঘ আমাদের ওপর নেমে আসছে। ভীষণ ঠান্ডা, আর মনে হচ্ছে যেন জামা প্যান্ট ভিজে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে দু'হাত দুরের সিতাংশু ও গঙ্গাকে একদম দেখা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে না পিছনে হরিশ ও কুমারকে। এখানে রাস্তা বলে কিছু নেই। এমন কী আমাদের পথ চলা ও চেনার সুবিধার্থে, কোন দয়ালু মানুষ পায়ে চলার দাগ পর্যন্ত রেখে যান নি। সমতল জায়গা, তাই সম্পূর্ণ আন্দাজে, অন্ধের মতো সোজা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি। আমাদের সুবিধার্থে গঙ্গা হাততালি দিতে দিতে যাচ্ছে। মাত্র কয়েক মিনিট, তার পরেই আবার চারিদিক পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। এমনকি সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে, বিকালের সেই হাল্কা সুন্দর শেষ সূর্যালোক, তার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে আমাদের উত্তাপ দেবার চেষ্টা করছে। উত্তাপ না দিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছি, এটাই বড় পাওয়া। আবার সামনে সিতাংশু ও গঙ্গাকে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি, আর ঐ তো হরিশ ও কুমার পিছন পিছন মালপত্র পিঠে নিয়ে আসছে। সব কিছু আবার আগের মতো। শুধু পর্থক্য এই যে, আগে আমরা প্রায় লাইন দিয়ে যাচ্ছিলাম। যাচ্ছিলাম সামনের লোককে লক্ষ্য করে, ঠিক তার পিছন পিছন হেঁটে। আর এখন আমরা একে অপরের থেকে কেউ বেশ খানিকটা ডাইনে, কেউ বা অনেকটা বাঁয়ে চলে গেছি। আবার সেই মেঘ, আবার সেই সূর্যের মিষ্টি আলো। এইভাবে কতটা পথ হেঁটেছি জানিনা, এক সময় মেঘ কেটে যেতে দেখলাম, সামনে কিছুটা দুরে একটা মাঠ যেন আস্তে আস্তে উপরে উঠে একটা পাথুরে ঢিবির কাছে শেষ হয়ে গেছে। গঙ্গা আর সিতাংশু এগিয়ে গিয়ে ওটার ওপর বসে পরলো। আমি হাতের লাঠি ফেলে ক্যামেরা বার করে, সুন্দর জায়গাটার একটা স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করলাম। কিন্তু প্রকৃতি দেবী বোধহয় চান না, যে তাঁর এলাকায় তাঁর ব্যাপারে আমি নাক গলাই, তাঁর অনুমতি না নিয়ে তাঁর ছবি তুলি। তাই মুহুর্তের মধ্যে ঘন মেঘে নিজের নিরাবরণ অঙ্গ ঢেকে ফেললেন। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে, অগত্যা ক্যামেরা গুটিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। ঢিবিটার কাছে পৌঁছানোর আগেই আবার সামান্য সূর্যের আলো দেখা গেল। আমি সময় নষ্ট না করে একটা ছবি তুলে নিলাম। এরপর আমরা পাঁচজন বেশ কিছুক্ষণ সময় ঢিবিটার ওপর বসে বিশ্রাম নিলাম। বেশ ঠান্ডা লাগছে। তার ওপর এই মেঘ এসে সমস্ত পোষাক স্যাঁতসেঁতে করে দিয়েছে। মনে মনে ভীষণ কফি খেতে ইচ্ছা করছিল। অথচ এখানকার আবহাওয়ার এই বিচি্ত্র রূপ দেখে, গঙ্গাকে আর মনের কথা বলতে পারলাম না। তাছাড়া এখানে শুকনো কাঠও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। গঙ্গা জানালো আর বেশী পথ নেই। আমরা উঠে পড়লাম।


ছবিঃ ত্রিপর্ণা মাইতি

undefined

আরও পড়তে পারো...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা