ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
ওড়িশার কাশ্মীর দারিংবাড়ি

ভূগোল বইতে কাশ্মীরের কথা পড়ে তুমি হটাৎ করে আবদার করে বসলে যে এইবার ছুটিতে তোমাকে সেখানে ঘুরতে নিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তোমার বাবা মা নানা কারণে কাশ্মীর ভ্রমণ বাতিল করে দিলেন। তুমি মন খারাপ না করে তৎক্ষণাৎ আবদার কর যে তোমাকে 'ওড়িশার কাশ্মীর' দারিংবাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে।

তুমি জিজ্ঞাসা করতেই পারো যে কাশ্মীর আবার ওড়িশাতে নাকি?

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৯১৩ মিটার উচ্চতাতে, ওড়িশার কন্ধমাল জেলাতে আছে 'ওড়িশার কাশ্মীর' দারিংবাড়ি। শীতকালে সকালের শিশির জমে বরফে পরিণত হয়ে যায়, তাই এই রকম নাম হয়েছে। হাওড়া থেকে ট্রেন করে বহ্মপুর নেমে পাহাড়ি সবুজে ঘেরা আঁকাবাঁকা পথে ১৮৫ কিমি পথের শোভা দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবে প্রাকৃতিক সবুজ চাদর দিয়ে ঢাকা দারিংবাড়িতে। এই পথে তোমার চোখে পড়বে হনুমানের দল, নানা রকমের পাখি, আর কপাল ভাল থাকলে বুনো হাতির দল দেখতে পারো। দারিংবাড়িতে পৌঁছালেই ওখানকার উপত্যকার স্নিগ্ধ সবুজ তোমার পথের সব ক্লান্তি দূর করে দেবে।

ওখানে পৌঁছে একটু বিশ্রাম করে ব্যাগে জলের বোতল, শুকনো খাবার আর টর্চ নিয়ে বেড়িয়ে পর। পার্বত্য উপত্যকার পাহাড়ি পথে পায়ে হেটে ঘুরে দেখ, চোখে পড়বে রঙবেরঙের পাখি, পোকামাকড়, দেখতে পাবে গ্রাম্য মানুষের সহজ সরল জীবনযাত্রা। বিকালের দিকে চলে যাও নতুন তৈরি হওয়া 'হিল ভিউ পার্ক' ও ' প্রজাপতি উদ্যানে'। চুপি চুপি একটা কথা বলে রাখি এই হিল ভিউ পার্কে কিন্তু অনেক নাগরদোলা আছে। পরের দিন ভোর ভোর উঠে পড়ে সূর্যোদয় দেখতে ভুল না যেন। এর পরেই গাড়ি ভাড়া করে বেড়িয়ে পর চারপাশটা ঘুরে দেখতে। অবশ্যই দেখবে কফি বাগান ও মশলা বাগান, পাইন গাছের বন এবং তার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঝোড়া। দেখে নিতে পারো পুতুদি ঝর্ণা, দালুদি নদী। তুমি নিশ্চয়ই উচ্চতার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘এমু’ পাখির নাম শুনেছ। এখানে এমু পাখির প্রজনন কেন্দ্র আছে। সেখানে তুমি গিয়ে একদম সামনে থেকে এমু পাখি দেখে নিতে পারো। এদের বিশাল আকারের ডিমটিও দেখার মতো। তবে সাবধান ভুলেও যেন ওদের খাঁচাতে হাত দিয়ে দাঁড়িও না। একবার ঠোকর দিলে আর দেখতে হবে না! সুয্যিমামা অস্ত যাওয়ার আগে ‘লাভারস পয়েন্টে’ গিয়ে সূর্যাস্ত দেখ।

কী করে যাবেঃ হাওড়া থেকে অনেক ট্রেন বহ্মপুর যায়। সব থেকে ভালো ট্রেন ১২৮৬৩ আপ হাওড়া- যশবন্তপুর সুপারফাস্ট এটি রাত ৮.৩৫ এ হাওড়া ছেড়ে পরদিন ভোর ৫.৫০ এ বহ্মপুর নামাবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যাবে 'ওড়িশার কাশ্মীরে'।
কোথায় থাকবেঃ দারিংবাড়ি শহরের মধ্যে কয়েকটি হোটেল থাকলেও সব থেকে ভালো থাকার জায়গা পাহাড়ি টিলার ওপর অবস্তিত 'ডিয়ার ইকো হোম'। যোগাযোগ- ৯৪৩৮৪২২৪৫২/০৭০৭৭৩১১৫৪৭/০৬৮৪৯২৪৫২৪৫

লেখক পরিচিতি

শৌনক বন্দ্যোপাধ্যায়

শৌনক ব্যানার্জি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষাবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চায়। শখের মধ্যে পোকামাকড়ের ছবি তোলা আর প্রচুর ভ্রমণ।

এই লেখকের অন্যান্য রচনা

নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা