ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
ঘুটলে’র বন্ধুরা

ঘুটলের মন মেজাজ ক'দিন ধরে এক্কেবারে ভালো যাচ্ছে না। সব সময় মুখ খানা হাঁড়ি, চোখ ছল-ছল, কারুর সাথে কথা নেই, ভালো করে খাওয়া-দাওয়া নেই, বালতির এক গলা জলে ঘণ্টার পর ঘন্টা বসে চান করা নেই, চাকি-বেলুনি দিয়ে রুটি বেলা নেই, বারান্দার টবে মাটি ঘাঁটা নেই ... কী যে হল ছেলেটার??!!... সে এক ভারি দুশ্চিন্তা ...  

তারপর একদিন বুদ্ধি করে এক ধামা লিচু আর জেলি লজেন্স খাইয়ে, গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে, এক শিশি বুড়বুড়ি কাটার সাবান জল দিয়ে, অনেক করে সাধতে অবশেষে চোখ-টোখ মুছে সে  বললে যে তার ইস্কুলে এখন গরমের ছুটি পড়েছে, সেই জন্য তার আর বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে না, ভাগাভাগি করে টিফিন খাওয়া হচ্ছে না, মারামারি করা হচ্ছে না ... পাড়ার দাদা দিদি গুলো সব বড় বড়, ভয়ানক বাজে, হিংসুটে, বিচ্ছিরি, নাক উঁচু... কেউ তাকে খেলায় নেয় না...... তাই তার বড় দুঃখ। তার উপর, ইস্কুল থেকে নাki গাদা গাদা হোমটাস্ক দিয়েছে, 'এক' থেকে 'একশ' লিখতে হবে... 'এ' থেকে 'জেড' লিখতে হবে... 'অ', 'আ' লিখতে হবে... এই টুকু টুকু তো আঙুল... ব্যাথা হয়ে যায় না বুঝি!!! ----- তাই তো... সত্যি তো... ঠিক কথা... অকাট্য যুক্তি... ।।
.
তো একদিন হল কী... ঘুটলে বিকেলবেলা বারান্দার কার্নিশে হেলান দিয়ে বসে যখন ইস্কুলের অঙ্ক খাতায় একমনে  আঁকিবুকি কাটছে, আকাশের দক্ষিন-পশ্চিম কোণে খুব কালো করে মেঘ করল। ব্যাস আর যায় কোথায়, সঙ্গে সঙ্গে হুড়মুড়িয়ে কালবোশেখী'র ঝড়... আর ঠিক তক্ষুনি ঘুটলে'র খোপ কাটা অঙ্ক খাতার উপর সবুজ সুতোর মত কী যেন একটা গুটলি পাকিয়ে টুপ করে এসে পড়লে...

"এই......... ইইইইইইইশ...... ম্যাগোঃ... এটা কী রে??? কী রে এটা!!! কী ভাগ্যিস খাতা খানা ধপাস করে বন্ধ করে ফেলি নি"! ভালো করে দেখবে বলে ঘুটলে যেই না অঙ্ক খাতাটা নাকের কাছে উঁচু করে ধরেছে, ওমনি সেই সবুজ গুটলি গা-হাত-পা ঝেড়ে উঠে বসল।
"বাবারে বাবা... কী ঝড়টাই না উঠেছে ... আর এট্টু হলে হারিয়ে যাচ্ছিলুম আরকী।"
"কী কান্ড!!! তুমি যে দেখছি দিব্বি কথা বলতে পারো!"
"কী অলক্ষুনে ছেলে রে বাবা! কথা বলতে পারবনা কেন? এইতো পষ্ট আমার মুখ দেখা যাচ্ছে ...হাঁআআআআআআআ "
"উফফ...বুঝেছি...বুঝেছি...।" এইনা বলে ঘুটলে তাড়াতাড়ি খাতাটাকে সাবধানে আঁকড়ে গুদোম ঘরের পাশে, চালের হাঁড়ি গুলোর মাঝখানে ভালো করে গুছিয়ে বসল ... বাইরে যা ঝোড়ো হাওয়া, আবার যদি গুটলিটা উড়ে চলে যায়, বলা যায় না বাপু, কী দরকার...
"যাক, এইটে একখান বেশ ভালো জায়গা বার করেছ।"
"সে নাহয় হল... তা তোমার নাম কী? নাম বললে না তো!"  
"সে কীইইই!!! তুমি বুঝি আমার নাম জানো না?... আমি হলুম গে শুঁয়োপোকা, যে পোকার গা ভর্তি শুঁয়ো, তাকে বলে শুঁয়োপোকা... নাও, হল?"  
 
এরপর, হঠাৎ করে শুঁয়োপোকার কী জানি কী মনে পড়ল, খুব ব্যাস্ত-সমস্ত হয়ে চাদ্দিক খুব খোঁজাখুঁজি শুরু করে বিড়বিড় করে বলতে লাগল—" আমার স্যুটকেস খানা কই?...আর বেডিং টা... ছাতা আর টিফিন বাক্স......... গেল কই সব?"
তাই তো...তাই তো... গেল কই?...গেল কই?
 
তক্ষুনি পাশ দিয়ে একটা লেজ মোটা টিকটিকি যাচ্ছিল, ঘুটলে আর শুঁয়োপোকা কে দেখে এক হাত জিভ ভেংচে বলল—" হুহঃ... উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, আবার ঢং করে স্যুটকেস খোঁজা হচ্ছে! যত্তসব আদিখ্যেতা। ও গেছে গেছে... কা্লবোশেখীর ঝড়ে দেখোগে যাও, সব এদিক অদিক চলে গেছে..."

ঠিক...ঠিক... এটা তো মাথায় আসেনি...তখন যে খুব ঝড় বাতাস এলো... নিশ্চয়ই এ তার কাজ।

এইনা শুনে শুঁয়োপোকা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে খানিক কেঁদে আর অঙ্ক খাতার পাতা ছিঁড়ে বেশ করে নাক ঝেড়ে বলল... "আমি তাহলে এখন কী করব? বাড়ি নেই... ঘর নেই... জামা, জুতো, জলখাবার সব হারিয়ে গেছে... আমার কী হবে?"

ঘুটলে বাবাজির তো ভারি চিন্তা, এমনিতেই টিকটিকির ভেংচি কাটায় সে খানিক অবাক, এখন আবার গুটলিটাও বেজায় মুষড়ে পড়েছে, একটা কিছু না করলেই নয়...
"আচ্ছা, বলছি কী... ওই হাওয়া বাতাস কে জিজ্ঞেস করলে হয় না? যদি সে এট্টু খুঁজে দেয়!"
"যাবে?...সত্যি যাবে?... আচ্ছা... তবে যাই চল।" এই না বলে ঘুটলে, আর তার অঙ্ক খাতায় চেপে শুঁয়োপোকা আবার গুটি গুটি বারান্দায় এসে বসলে।

.
"কালবোশেখী জেঠু... কালবোশেখী জেঠু, শুনতে পাচ্ছ?...এদিকে একবারটি শোনো না... আমাদের না খুব বিপদ।"
"কেনওওও? কী হোলোটা কী? আমি তো সেই কখন ঝড় টড় থামিয়ে চাট্টি শিলা-বৃষ্টি করবো বলে ঠিক করছি ... তা তোমাদের কী দরকার বাপু... ঝটপট বলে ফেল দিকি... আমাকে আবার অন্য দিকে যেতে হবে... অনেক কাজ আছে, হু..."
"বলছি, বলছি... এই দেখ না, আমার এই বন্ধু, ওর ব্যাগ, জামা, জুতো, সব তোমার ঝড়ে কোথায় উড়ে চলে গেছে... তুমি একটু খুঁজে দেবে?"

নাক শিঁটকিয়ে কালবোশেখী বলল – "কীইই? ওই তো একরত্তি শুঁয়োপোকা, তার আবার জামা, জুতো... আর সে কীনা আমাকে খুঁজে দিতে হবে... বয়ে গিয়েছে আমার... ওসব আমি পারব না। তবে ঝড়'এর সময় যা কিছু এদিক ওদিক ছিল সব মুখুজ্জেদের দালানে যেয়ে জড়ো হয়েছে...  যাও গে... খুঁজে দেখ... যদি পাও..."  
.
কী আর করা? ঘুটলে আবার শুঁয়োপোকাকে অঙ্ক খাতায় গুঁজে মুখুজ্জেদের চকমিলান বাড়ির দালানে গিয়ে উপস্থিত হল।

"মুখুজ্জেদের দালান... মুখুজ্জেদের দালান... এই দেখ না, আমার এই বন্ধু, ওর ব্যাগ, জামা, জুতো, সব কালবোশেখীর ঝড়ে উড়ে তোমার কাছে জড়ো হয়েছে, তুমি একটু খুঁজে দেবে?"

চোখ পাকিয়ে মুখুজ্জেদের দালান  বলল – "ছোঃ!! ওই তো একরত্তি শুঁয়োপোকা, তার আবার জামা, জুতো... আর সে কীনা আমাকে খুঁজে দিতে হবে! ওসব আমি পারব না।... তবে ঝড়ে যা কিছু এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিল, বড় গিন্নিমা এখুনি সব ঝেঁটিয়ে পরিস্কার করে কাজলা দিঘির পাড়ে ফেলে দিয়েছেন...যাও গে... খুঁজে দেখ... যদি পাও..."

কী আর করা? ঘুটলে আবার শুঁয়োপোকাকে অঙ্ক খাতায় গুঁজে মুখুজ্জেদের বাড়ির পিছনে কাজলা দিঘির পাড়ে এসে গোমড়া মুখে বসল।

"কী গো খোকা? মুখ ভার কেন? মা বকেছেন বুঝি?...ঠিক হয়েছে, বেশ হয়েছে...কী মজা... খ্যাঁক খ্যাঁক "

কী বিটকেল রে বাবা !  "ওফফ, না না ...ধুর... মোটেই অমন কিছু না... জানতো, আমাদের আসলে খুব বিপদ... এই দ্যাখ না... আমার এই বন্ধু, ওর ব্যাগ, জামা জুতো, সব কালবোশেখীর ঝড়ে কোথায় উড়ে চলে গেছে... তুমি  কি জানো ওগুলো কোথায়? মুখুজ্জেদের দালান আমাদের তোমার কাছে পাঠালো। তুমি কি দেখেছ? আমাদের একটু খুঁজে দেবে"?

মুখ বেঁকিয়ে কাজলা দিঘি বলল—" ও বাবা!!ওই তো একরত্তি শুঁয়োপোকা, তার আবার জামা, জুতো... আর সে কীনা আমাকে খুঁজে দিতে হবে! ওসব আমি পারব না।... তবে আমার পাড়ে মুখুজ্জেদের বড় গিন্নি ঝাঁট দিয়ে যা কিছু ফেলেছিল, আমি বয়ে নিয়ে ওইইইইই তেপান্তরের মাঠে বুড়ো আম গাছ তলায় জড়ো করেছি ... যাও গে... খুঁজে দেখ... যদি পাও..."
.   
এই শুনে তো ঘুটলে'র খুব মন খারাপ হল। দিঘি ছাড়িয়ে সেই অত্তদূরে কোনকালের সেই আম গাছ, চারপাশে ঝোপ জঙ্গল ... ওখানে গেলে কি আর কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে!

শুঁয়োপোকাটাও কেমন জানি ঝিম মেরে গিয়েছে, আড় চোখে তাকিয়ে দেখল ঠোঁটটাও থেকে থেকে ফুলে উঠছে। আহা রে... বাড়ি নেই, জামা নেই, জুতো নেই, টিফিন বাক্স নেই, ছাতাটা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না... সত্যিই তো ... কী দুর্দিন...কী দুর্দিন!

নাহ...... হাল ছাড়লে চলবে না... এদিকে রাত্তির হয়ে আসছে... খিদেও পেয়েছে খুব... এদিকে নাক ঝাড়তে ঝাড়তে শুঁয়োপোকাটা অঙ্ক খাতার পাতা গুলোও প্রায় শেষ করে ফেলেছে... সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে শুঁয়োপোকাকে নিয়ে ঘুটলে কাজলা দিঘির পাড় ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে আম গাছ তলায় এসে পৌঁছল। ও বাবা, চাদ্দিক কেমন অন্ধকার... ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে, এখানে কি খুঁজে লাভ আছে কিছু? পাওয়া যাবে বলে মোটে মনে হচ্ছে না... তবু... এত দূর এসে কিছু না জিজ্ঞেস করে ফিরে যাব?  

বুকে সাহস এনে ঘুটলে বলল—"আম গাছ দাদু, ও আম গাছ দাদু... শুনতে পাচ্ছ? আমাদের জানতো খুব বিপদ...এই দ্যাখ না...  আমার এই বন্ধু, ওর ব্যাগ, জামা জুতো, সব  কালবোশেখীর ঝড়ে কোথায় উড়ে চলে গেছে। মুখুজ্জেদের দালান, কাজলা দিঘির পাড়, সব খুঁজে এলাম, কেউ হদিস দিতে পারলে না... তুমি কি জানো ওগুলো কোথায়? তুমি কি দেখেছ? আমাদের একটু খুঁজে দেবে ?"
"ওওওওওমা... এ  যে দেখি ছোট্ট দাদুভাই!! কেমন আছো গো দাদু?... এস ... এস ... আমার গুঁড়িতে পা তুলে বস" --- এই না বলে এক পশলা ঠাণ্ডা ভিজে হাওয়া ঘুটলে আর শুঁয়োপোকার মুখে এসে লাগল... আআহ... কী সুন্দর... কী আরাম !!!  
"এই নাও গো দাদু, আম খাও... চিনির মত মিষ্টি... তুমি খাও, তোমার বন্ধুকে দাও...খেয়ে আমার পাতায় হাত মুখ ভালো করে মুছে নাও।"  
"তুমি কত্ত ভালো গো আম গাছ দাদু! এমন করে আদর করে আমাদের কেউ কাছে বসতে বলে না, কত্ত জায়গায় ঘুরলুম, ঘুরতে ঘুরতে পায়ে ফোস্কা পড়ে গেল...  কই, কেউ তো কোথাও একটু জল দিল না, জিরোতে বলল না" ...
"হো হো হো হো... সবাই যে বড় ব্যাস্ত দাদুভাই, তাইতো বলেনি। আমার তো তেমন কাজ নেই, তাই দু'দন্ড গপ্প করবো বলে তোমাদের এমন করে ধরে রেখেছি... ওই একখানা কাজই যে আমি পারি দাদু... সবাইকে ধরে রাখি, সবকিছু গুছিয়ে জমা করে রাখি... কে জানে, কার কখন কী কাজে লেগে যায় !"  
"তাই ... তাই??? কিন্ত, সে আবার কেমন করে করে? অমন আবার করা যায় না কি!!...বল ...বল... এক্ষুনি বল...  শিগগিরি বল বলছি..."  

 ঘুটলে’র বন্ধুরা

"যায় গো নাতিবাবু যায়। ইচ্ছে থাকলেই সব্বাইকে ধরে রাখা যায়, সাথে রাখা যায়। ... এই, যেমন ধর, তোমাদের সুয্যিমামা, তার রোদ্দুর, আলো সব আমি পাতায় পুরে মোড়ক বানিয়ে ধরে রাখি... বাতাস থেকে, মেঘের থেকে, মাটির থেকে মিঠে জল গুঁড়িতে ভরে রাখি... মাটির ছানা গুলো আবার বেজায় দস্যি, খালি এদিক ওদিক পালিয়ে যেতে চায়, তাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে গল্প বলে শিকড়ে শান্ত করে ঘুম পাড়িয়ে রাখি...  তাপ্পর ধরো গিয়ে গেল বছর চার জোড়া কাঠবিড়ালি বে-থা করে মগ ডালে সংসার পাতলে, ওদের তো আর যেতে বলতে পারি না... ওদিকে চড়াই, শালিখ, কাক, বুলবুলি এরা যে-যার মতো ডাল বেছে নিয়ে ঘুমুচ্ছে, তাদের কী আর অমনি হুস করে উড়িয়ে দেওয়া যায়?... ওদিক্কার গুঁড়িতে পৌষ মাসে কাঠ পিঁপড়েরা বাসা বানালে, ছানাপোনা হল, আর তারপর থেকে ওখানেই রয়ে গিয়েছে...... আমি কাউক্কে যেতে দিই নি গো দাদু... ভালোবেসে, আদর করে সব্বাইকে একসাথে ধরে রেখেছি, আগলে রেখেছি ।"
 
এরপর ওরা পেট পুরে আম খেয়ে, গাছের গুঁড়ি'র জমা জল খেয়ে উঠে দেখল, আরে ওইতো... ওইতো...ওই নুয়ে পড়া কচি ডালটা থেকে স্যুটকেস, জামা, জুতো, টিফিন বাক্স, জলের বোতল, আর বেগুনি ফুল আঁকা ঝালর ঝালর ছাতা, সব ঝুলছে... যাক বাবা... নিশ্চিন্ত, সব খুঁজে পাওয়া গেছে তাহলে। সারাদিনের ধকলে শুঁয়োপোকাটা বেজায় ঢুলছিল বলে তাকে একটা শক্তপোক্ত আম পাতায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুইয়ে ঘুটলে বাবু সেই কত্তকালের থুত্থুড়ে বুড়ো হয়ে যাওয়া আম গাছটাকে দুহাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল... প্রাণ ভরে জাপটে, গাছের গায়ে আটকে থাকা বহু বছরের পুরোন শ্যাওলা লাগা সোঁদা গন্ধ বুকে ভরে নিয়ে ধরা গলায় বললে-- "দাদু, এবার তবে আমি আসি?"
.
 তারপরের দিন সকালে থেকে সবাই তো অবাক! ঘুটলে বাবু'র সেই আগের মত দুরন্ত, হাসি-হাসি মুখ... সারা বাড়ি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে... হৈ চৈ করছে... ছুটোছুটি করছে... আর মন খারাপ নেই... চোখ ছলছল নেই...  মুখ ভার নেই...  আর সবাই যখন জিজ্ঞেস করল, তখন এক মাথা ঝাঁকড়া চুল নেড়ে, টোল পড়া এক গাল হাসি হেসে আমাদের ঘুটলে সোনা বললে--- "আমার এখন কত্ত কত্ত বন্ধু হয়েছে তোমরা জানো?... বারান্দার টবে বেল ফুল, গোলাপ ফুল, জানলার ধারে পেয়ারা গাছ, ওবাড়ির কাঁঠাল গাছ, সারি দেওয়া নারকেল গাছ... আর ওই যে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে কাজলা দিঘি'র ধার ঘেঁষে কবেকার সেই আম গাছ দাদু ... এরা সব্বাই আমার ভীষণ বন্ধু। তাইতো আমি আর আগের মতো গাছের পাতা ছিঁড়ি না, মাটি সরিয়ে দি না, ডাল ভাঙ্গি না... বারান্দার টবে রোজ জল দি... শুকনো পাতা পরিষ্কার করে দি... রূপকথার গল্প শোনাই ... এখন আমার মনে আর কোত্থাও একটুও দুঃখ নেই...... বুঝেছ?  

 

 
 ছবিঃ পিনাকী দত্ত

লেখক পরিচিতি

শুভলক্ষ্মী বসু

জন্ম, স্কুল-কলেজ, কর্মজীবন মূলতঃ কলকাতায়। ভেষজবিদ্যায় পি.এইচ.ডি.। মুম্বাই’এ ভাবা এ্যটমিক রিসার্চ সেন্টার'এর পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপে কাজ করার পর, ভারত সরকারের ডিপার্টমেণ্ট অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র পক্ষ থেকে ইয়ং-সাইন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়ে পুনরায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে প্রত্যাবর্তন। যদিও আপাতত গবেষণা থেকে উনি আংশিক স্বেচ্ছা-অবসর গ্রহণ করেছেন।    

ছোটোবেলায় 'সন্দেশ' পত্রিকায় ছড়া, ছবি, গল্প ইত্যাদি দিয়ে লেখক জীবন শুরু। মাঝের বহু বছরের বিরতির পর আবার লেখালিখিতে হাত পাকানো ও ফিরে আসা। আগের কিছু গল্প প্রকাশিত হয়েছে কিছু অনলাইন পত্রিকায়। নাচ, সেলাই, রান্না, বাগান করা, দাবা খেলা... এইসব নিয়ে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। 

নয় পেরিয়ে দশে পা

undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা