ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
 ডাব্বু আর সাত-তারার দেশ

ডাব্বু কে মা আদর করে ঘোঁতন বলে। কখনো বলে পুচকুন। মায়ের তো ডাব্বু ছাড়া কেউ নেই। ডাব্বুর বাবা অনেকদিন আগেই আকাশে চলে গেছে। বহু দূর আকাশে। হয়েছিল কী বাবা ডাব্বুর জন্য বেলুন কিনছিল, অনেক গ্যাস বেলুন। সেই যেগুলো হাত থেকে ছাড়া পেলেই  হুউউস করে আকাশে হারিয়ে যায়। বাবা একসঙ্গে লাল , নীল গোলাপি অনেকগুলো বেলুন কিনে আনছিল ডাব্বুর জন্মদিনে। একশোটারও বেশি বেলুন। তো হঠাৎ বেলুন গুলো বাবাকে নিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলো। আর এক নিমেষের মধ্যেই ওই উপরে মেঘের রাজ্যে হারিয়ে গেলো। ডাব্বুর মা কত কাঁদলো , কত ডাকলো কিন্তু ডাব্বুর বাবার সাড়া পেলোনা।
 
ডাব্বু এই গল্পটা রোজই মায়ের কাছে শোনে গোল্লা গোল্লা চোখ করে। ঘি-আলুসেদ্ধ ভাত খেতে খেতে। মা মেখে খাইয়ে দেয়। আর ডাব্বুর কোঁচকাপানা চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে দেয়।

ডাব্বুর একটা ছোট্ট খাট আছে জানলার ধারে। জানলার গ্রিলে নাক লাগিয়ে ডাব্বু আকাশের দিকে চেয়ে দেখে বাবাকে দেখতে পাওয়া যায় কিনা। মা বলে, বাবা গেছে সাত তারার দেশে। ডাব্বুর ও ভারী ইচ্ছে ও সাত তারার দেশে যাবে।
 
ডাব্বু ক্লাস টু তে পড়ে এবার থ্রিতে উঠবে।  ও এখনই খুব সুন্দর মোটা মোটা হাতের লেখায় পেন্সিল দিয়ে চিঠি লিখতে পারে। ডাব্বু ভাবলো বাবাকে চিঠি লিখি। যেই ভাবা  সেই কাজ। একটা সাদা পাতায় বড় বড় করে লিখলো ,"বাবা আমি সাত তারার দেশে যেতে চাই। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে "

তারপর চিঠিটা  সুন্দর  করে ভাঁজ করে একটা খামে ভরে লিখলো , 'বাবা , সাত তারার দেশ'
আর নিচে লিখলো 'ডাব্বু'।
বাবা লিখে তার পাশে  একটা মোচ ওলা বাবার ছবি আঁকলো। আর ডাব্বু লিখে  একটা নিজের ফুটকি ফুটকি নাক চোখ আর ঘুচি মুচি চুলওয়ালা ছবি আঁকলো।
তার নিচে সাত টা তারা এঁকে দিলো গুনে গুনে। যদি না যায় চিঠিটা ,এই ভেবে।তারপর বড়রাস্তার পাশে যে লাল ডাকবাক্স আছে সেটাতে ফেলে দিয়ে এলো। এবারে ডাব্বু নিশ্চিন্ত।

একদিন যায়, দু দিন যায়, ডাব্বু অপেক্ষা করে। হঠাৎ একদিন ডাব্বুর দরজায় খুট খুট শব্দ। দরজা খুলে ডাব্বু দেখে দুটো বেঁটে ছোট ছোট লোক। তাদের একই রকম দেখতে , এক রঙের জামা পরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
একজন বললো ,"ডাব্বু কী তোমার নাম ?"
আরেকজন বললো , "তুমিই চিঠি লিখেছিলে ?"
ডাব্বু আনন্দে মাথা নাড়লো
"তোমরা কী সাত তারার দেশ থেকে এসেছো ?"
একজন বললো ,
"ওখানে যাওয়া সাহজ নাকি ?"
অন্যজন বললো , " সহজ নাকি ?"
ডাব্বু হাঁ করে চেয়ে আছে
তারা বললো
"আগে তো বেলুন রাজ্যে যেতে হবে। মহাবেলুন যাত্রা তো সেখান থেকে হয়।"
একজন বললো , "আমরা তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি"
অন্যজন বললো ,  "যেতে এসেছি"
"আচ্ছা দাঁড়াও আমি এক্ষুনি মাকে বলে রেডি হয়ে আসছি "
"উঁহু মাকে তো কিছুই বলা যাবে না"
অন্যজন বললো , "যাবে না"
"মা কান্নাকাটি করবে তো।"
একজন বলল, "তাহলে থাক, যেতে হবে না।"
অন্যজন কেঁদে দেখালো ঠোঁট উল্টে।

ডাব্বু অমনি আলনায় রাখা একটা লাল জামা আর কালো হাফ প্যান্ট পরে নিলো। চুলটা একটা হাত দিয়ে ঠিক করে নিলো। তার পরে বললো, " চল "
"বাইরে বিশাল বড় বড় দুটো রাজহাঁস  বাঁধা একটা গাড়ি ছিল।ওরা যেই চড়ে বসলো, রাজহাঁস দুটো ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে কোথায় যে নিয়ে চললো; ডাব্বু ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।

কয়েক মিনিট পরে ,ওই বেঁটে লোক দুটো চিমটি কেটে বলে, " ওঠো ওঠো নেমে পড়ো। বেলুন রাজ্যে এসে গেছি তো।"
ডাব্বু দেখলো, তাই তো!! চারিদিকে বেলুনের বাড়ি, বেলুনের গাছ, বেলুনের গাড়ি, লোকজন ও সব বেলুনের ওপর নাক চোখ মুখ আঁকা পুতুলের মতো। ডাব্বুর ভারী মজা লাগলো। আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো। একটা বেলুনের গেট দিয়ে ওরা  একটা বড় ঘরে এসে দাঁড়ালো।

একটা গিরগিটির মতো সবুজ দেখতে লোক সবাইকে লাইন করিয়ে একটা বেলুনের তৈরী সুড়ঙ্গে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলো। ডাব্বু আসতেই বললো ,"কোথায় যাবে ?"
"সাত তারার দেশ " ডাব্বু ভেবে জবাব দিলো ।
লোকটা বললো , "সাত তারার দেশ যেতে অনেক খরচ। পঞ্চাশ পয়সা। "
ডাব্বু প্যান্টের পকেট খুঁজলো।
"আমার কাছে দু টাকা আছে "
লোকটা মাথা নাড়লো , -"মোটেও তাতে হবেনা। পঞ্চাশ পয়সার এক পয়সা কম হবেনা। "
"দু টাকা তো পঞ্চাশ পয়সার থেকে বেশি।"
ডাব্বু ভাবলো লোকটা একদম পড়াশোনা করেনা নিশ্চয়।
লোকটা বললো, "আচ্ছা দুটাকা দাও।" তারপর দুটাকার কয়েনটা নিয়ে একটা বড় হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে ভাঙলো। ওমনি চারখানা পঞ্চাশ পয়সার কয়েন বেরিয়ে পড়লো। ডাব্বু তো অবাক।
লোকটা হেসে  মান্তু সোনা বলে ডাব্বুর গাল টিপে দিলো। ইস!! ডাব্বুর একদম পছন্দ নয় কেউ তার গাল টিপে দিক , তাও এই গিরগিটি ম্যান।
"ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে পড়ো যাও।"

একটা সবুজ সুড়ঙ্গ। সবুজ নরম আর ভেতরটা ঠান্ডা। সুড়ঙ্গে ঢুকতেই হু উউস করে ডাব্বু স্লিপ কেটে নিচে ঘুরে ঘুরে পড়তে লাগলো। আর একটা অদ্ভুত জায়গায় ঝপ করে গিয়ে নামলো। এক চশমা আঁটা বক দিদিমনি একটা জাবদা খাতায় সবাইকে দিয়ে নাম সই করাচ্ছিলেন। দুটো শুঁটকো মতো শেয়াল কালো কোট পরে সবাইকে ধাক্কা দিয়ে লাইন করাচ্ছিল।  
-"যারা যারা মহাবেলুন যাত্রা যাবে তারা সবাই নাম সই করো। তাড়াতাড়ি।"
ডাব্বু  বললো , "আমাকেও নাম সই করতে হবে ?"
বক দিদিমনি চশমা খুলে ডাব্বুকে একবার ভালো করে দেখে বললেন, " তুমি চিঠি পাঠিয়েছিলে না? না তোমাকে লাইন-এ দাঁড়াতে হবে না। তুমি অপেক্ষা করো মহাবেলুন এই এসে পড়বে। তখন সবার নাম ডাকা হবে।"

ডাব্বুর খুব খিদে পেয়েছিলো। কিন্তু সঙ্গে তো খাবার নেই। কে জানে আবার কখন খাওয়া হবে। তা যাক, বাবার সঙ্গে তো দেখা হবে। এই ভেবে ডাব্বুর চোখ দুটো আনন্দে চিকচিক করে উঠলো।
 
মহাবেলুন সে কী বিশাল! কী বলবো!  তার সঙ্গে বাঁধা আছে একটা মস্ত জাহাজ। একটা সিঁড়ি বেয়ে সবাই সেই জাহাজে উঠে পড়তে লাগলো। তবে মানুষ একজনও নেই। ভালুক আর ভালুক বৌ , খরগোশরা দলে দলে। হাতি, গন্ডার , আরও কত জীব জন্তু উঠলো সেই জাহাজে। দুজন কী সুন্দর দেখতে হলুদ রঙের জামা পরা পরীও উঠলো। ডাব্বু তো কখনো সত্যিকারের পরী দেখেনি। জন্তু অনেক দেখেছে চিড়িয়াখানায় তবে এতো কাছ থেকে দেখেনি।

পরী দুজন  বললো, " হাই ডাব্বু।"
"তোমরা কোথায় যাবে ?"
পরীরা পাখা দুটো ঝাপটিয়ে বললো, "আমরা জোছন পরী। জোছন পুরে যাবো। তুমি কোথায় নামবে ?"
"আমি সাত তারার দেশে যাবো।"
"ওম্মা "
পরীরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো।
"সাত তারার দেশ তো জোছনপুর ছাড়িয়ে। সেখানে তো কারোর থাকার পারমিশন নেই। শুধু ঘুরে দেখে চলে আসতে হবে।"

অমনি পোঁ করে বাঁশি বাজলো। নানা রকম ড্রাম বাজতে লাগলো। ওমা সেই সবুজ গিরগিটি ম্যান ও চলে এসেছে এখানে। সে সবাইকে বললো "এবার যাত্রা শুরু হবে। সবাই জাতীয় সঙ্গীত গাইতে শুরু করো।" সবাই মাথা চুলকোতে শুরু করলো। গিরগিটি ম্যান ভারী রেগে গেলো ,"কী, জাতীয় সঙ্গীত সবাই ভুলে গেছো নাকি। ?" তার পর সে নিজেও এদিক ওদিক দেখে পেংগুইন ম্যান কে ডেকে কানে কানে  কী বললো। সাদা কালো পোশাক পরা পেংগুইন ম্যান একটা জাবদা খাতা নিয়ে এলো।

তার মধ্যে থেকে , গান টা বের করে গিরগিটি ম্যান গাইতে শুরু করলো।

"আমাদের বেলুন রাজ্যে
দেখো কত আনন্দ আজ যে
রয়েছে ভালুক , হাতি
কালো ভোঁদড়ের নাতি
বিজয়ঢক্কা ওই বাজছে
দেখো কত আনন্দ আজ যে "

সবাই গলা মেলালো।

তারপর সেই বিশাল বেলুন বাঁধা জাহাজ উপরে উঠতে শুরু করলো। সবাই আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো। এমন করে কত যে ঘন্টা মিনিট পার হলো ডাব্বু শুধু অবাক হয়ে দেখতে থাকে চারদিক।

কী সুন্দর ঠান্ডা বাতাস , আর চারিদিকে কোয়ালিটি আইসক্রিমের মতো মেঘ। কোথাও মেঘের রং গোলাপী। সবাই সেই মেঘ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিলো।ডাব্বুও সবার দেখাদেখি সেই মেঘ ছিঁড়ে খেলো।  মুখে দিতেই মুখের মধ্যে মিলিয়ে যায় যেন বুড়িমার চুল। এতো ওপরে আকাশের মধ্যে একটা খাড়া সবুজ পাহাড়ও আছে। তার গা দিয়ে সাদা দুধের মতো ঝর্ণার জল বইছে। আবার হঠাৎ চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেলো। তবু সেই মিষ্টি ঝর্ণার ঝিরঝির শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। ডাব্বুর ঘুম ঘুম পেলো। চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো। গিরগিটি ম্যান অমনি চিমটি কেটে বললো , "এখন ঘুমোলে হবে? এটা ঘুম নগর তাই ঘুম পাচ্ছে এমন।"
 তারপর ঘন্টা বাজালো টুং টুং টুং। ঘুমনগর এসে গেছে কে নামবে ?
 
পান চিবুতে চিবুতে দুজন দিদিমা এলো সাদা নরম শাড়ি পরে। তাদের চুলও সাদা আর চোখে গোল গোল চশমা। ডাব্বু ভাবছিলো ডাব্বুর দিদিমাও কী তবে ঘুমনগরে থাকে ?

ঘুম নগর ছাড়িয়ে আরও ওপরে উঠলো জাহাজ।
টুং টুং টুং
ভালুকগড় এসে গেছে। একটা সবুজ পাহাড় ঘেরা জঙ্গল। এটাই বুঝি ভালুক গড়। ভালুক-ভালুক বৌ আর ভালুক ছানারা তুর তুর করে নেমে গেলো। তারপর টাটা বাই বাই করলো।

জাহাজ উঠলো আরও ওপরে।
টুং টুং টুং।
"জোছনপুর এসে গেছে কে নামবে ?"
জোছনপরীরা একসঙ্গে বললো , "আমরা নামবো। "
যাওয়ার সময় ডাব্বুর কপালে আর গালে হামি দিলো জোছন পরী।
গিরগিটি ম্যান ঠোঁট বেঁকালো
কী সুন্দর সেই জোছনপুর।  চারিদিকে সোনা গলা আলো। ঝিকমিক ঝিকমিক। ডাব্বুর চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। সাত তারার দেশ কী  আরও সুন্দর হবে ?

 ডাব্বু আর সাত-তারার দেশ

টুং টুং টুং
এইবারে এসে গেছে সাত তারার দেশ।
ডাব্বু লাফিয়ে উঠলো। আমি নামবো। গিরগিটি ম্যান বললো, " যাও কিন্তু বেশিক্ষণ থাকার পারমিশন নেই। আবার টুং টুং আওয়াজ শুনলে চলে আসতে হবে।"
ডাব্বু বললো , "ওকে"
তারপর সে ও তুড়ুক করে নামলো সাত তারার দেশে। সাতটা নীল তারা ঘিরে রেখেছে এই দেশটাকে।

বড় বড় পাইন গাছের সারি আর ঘোরানো আঁকা বাঁকা রাস্তা। রাস্তার দু ধারে গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা সাদা ফুল ফুটে রয়েছে। একটু হাঁটতেই চোখে পড়ল লাল রঙের ছোট্ট একটা বাড়ি। কাঠের বাড়ি, সুন্দর ফুল আঁকা পর্দা দেওয়া, সামনে বারান্দায় রাখা বেতের চেয়ার টেবিল। টেবিলে চায়ের কাপ, খবরের কাগজ। কেউ এইমাত্র চা খেয়েছে। বাবা কী এখানেই থাকে? ডাব্বু ভাবলো। জানলা দিয়ে উঁকি ঝুঁকি মেরে ডাব্বু দেখার চেষ্টা করলো। ওই তো , ওই তো বিছানার ওপর বাবা বসে আছে। হাসি হাসি মুখে ডাব্বুর পাঠানো চিঠিটা হাতে নিয়ে।

ডাব্বু ডাকলো , "বাবা , বাবা "
বাবা অমনি ফিরে তাকালো। তারপর ডাব্বু কে দেখতে পেয়ে আনন্দে দৌড়ে এলো।
ডাব্বুও ছুটতে ছুটতে গিয়ে বাবার জামায় মুখ লুকোলো
ওর চোখ দুটো জলে ভরে উঠলো।
বাবা বললো ,"কত বড় হয়ে গেছিস তুই ডাব্বু! "
ডাব্বু তো আনন্দে কোনো কথাই বলতে পারলো না। বাবা একটা সুন্দর কাঁচের বাটিতে এক বাটি পায়েস এনে দিলো ডাব্বু কে। কী দারুণ স্বাদ সেই পায়েসের কী বলবো! ঝর্ণার জলের সঙ্গে জোছনার গুঁড়ো আর মিষ্টি ঠান্ডা মেঘের টুকরো মিশিয়ে তৈরী। ডাব্বুর তো খুব খিদে পেয়েছিলো। চেটেপুটে সেই পায়েস খেয়ে বাবা কে বললো ,"বাবা তুমি বাড়ি চলো "
বাবা বললো, "কী করে যাবো। ওই জাহাজে ফেরার টিকিটের খুব দাম।"
ডাব্বু বললো, " কত ?"
বাবা বললো, "পঞ্চাশ পয়সা"
ডাব্বু পকেট খুঁজে দেখলো একটাও পয়সা নেই। পয়সাগুলো ফেরত নিতেই ভুলে গেছে।  ডাব্বুর খুব কান্না পেলো। এদিকে জাহাজের ঘন্টি শোনা যাচ্ছে- টুং টুং টুং
বাবা বললো, " যাও ডাব্বু ফিরে যাও। আবার যখন মন খারাপ করবে চলে এস। মন খারাপ কক্ষনো করবে না। এই নাও একটা জিনিস দিলাম। একটা ম্যাজিক শ্লেট । যখনই আমাকে কিছু বলতে ইচ্ছে করবে এই শ্লেট-এ লিখবে। "
এদিকে গিরগিটি ম্যান আর পেংগুইন ম্যান চলে এসেছে।
"চলো ভাই চলো। জাহাজ তো ছাড়তে হবে না কি।"
ডাব্বু গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। সেই লাল বাড়িটা ছাড়িয়ে চলে এলো।
বাবা বাইরে দাঁড়িয়ে তখন টা টা করছে।
জাহাজে উঠেই পেঙ্গুইন ম্যান জিজ্ঞেস করলো, "ফেরার পয়সা আছে তোমার?"
ডাব্বু মাথা নাড়লো।
-"ওমা সে কী?"
গিরগিটি ম্যান বললো ,"আসার টিকিট করেছো আর ফেরার টিকিট করোনি।"
গিরগিটি ম্যান তার পকেট থেকে একটা সাদা রুমাল বের করলো।
"এই রুমালের ধার দুটো দুহাতে ধরো।"
পেংগুইন ম্যান বললো, "এই হচ্ছে এমার্জেন্সি ল্যান্ডিং।" বলে তারা ডাব্বুকে ধরে নিচে ফেলে দিলো।
রুমাল  হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ডাব্বুকে নিয়ে নিচে নামতে লাগলো। ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিয়েছে ডাব্বু। তারপর রুমাল-টা যে কেমন করে বালিশ হয়ে গেলো কে জানে।
চোখ খুলে দেখে মা দাঁড়িয়ে আছে।

মা বললো ," ডাব্বু সোনা ,তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি "
ডাব্বু তো আনন্দে আত্মহারা, এতো সেই ম্যাজিক শ্লেট!!
মাকে জড়িয়ে ধরে ডাব্বু বললো ,"মা আজ আমি তোমাকে গল্প শোনাবো।"

 

ছবিঃ পিনাকী দত্ত

লেখক পরিচিতি

দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী

দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী বর্তমানে বেঙ্গালুরর বাসিন্দা। গবেষণা করছেন বৈদিক সাহিত্য নিয়ে। ভালোবাসেন কবিতা ও ছোটগল্প লিখতে , ছবি আঁকতে, যে কোনো সৃষ্টিশীল কাজে ডুবে থাকতে, আর ছোটদের সঙ্গে সময় কাটাতে।
নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা