তোমার বন্ধুদের জানাও

FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedinMixxRSS Feed

খেলাঘরখেলাঘর

কৃষ্ণ মহম্মদ

কৃষ্ণ মহম্মদ

কৃষ্ণ মহম্মদ

গতবার হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় কিকুর রেজাল্ট মোটেও ভাল হয়নি। অন্যবার প্রথম তিনে থাকে সে, অথচ সেবার প্রথম দশজনের মধ্যেই থাকতে পারেনি বেচারি। কিকুর মা তো  রেগে আগুন। সারাদিন টই টই করলে আর টিভিতে কার্টুন চ্যানেলে ডুবে থাকলে আর রেজাল্ট ভাল হবে কোথা থেকে!

তাঁকে অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না। সংসার সামলেও কিকুকে নিয়ম করে পড়িয়েছেন প্রতিদিন, এত সময় খরচ করেছেন ছেলের পড়ার জন্য, সব পরিশ্রম জলে গিয়েছে তাঁর। ছেলের পড়াশোনার এতটা অবনতি হলে কোন মায়ের না রাগ হয়!

কিকুর বাবা ভারতীয় বায়ুসেনাতে চাকরি করেন। তাই তাঁকে সারা বছর বাড়ি থেকে দূরে দূরে থাকতে হয়। তাঁর পোস্টিং কাশ্মীরের ওপরে লেহ্‌ তে। ভারতবর্ষের সীমান্তের কাছে দুর্গম সেই জায়গা সবসময়েই বরফে ঢাকা থাকে। বছরে দু'বারের বেশি বাড়িতে আসা হয়না কিকুর বাবার। কিকুর রেজাল্টের খবর শুনে তিনি একটু বিমর্ষ হয়েছিলেন। কিকুকে কাছে ডেকে ভারী গলায় বলেছিলেন, এবার থেকে মন দিয়ে পড়। প্রেস্টিজটা তোমার, সেটাকে রক্ষা করার ভারও তোমার।

মায়ের বকুনিতে নয়, বাবার কথাতেও নয়, কিকুর মন তিতকুটে হয়ে রয়েছে পিকলুদার জন্য। তার বড় পিসির ছেলে পিকলুদা কিকুদের স্কুলেই এক ক্লাস উঁচুতে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই পিকলুদা ভীষণ দুরন্ত। সেদিন বড় পিসেমশাইয়ের মোটর সাইকেলটা না বলে নিয়ে চালাতে গিয়েছিল পিকলুদা। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার বয়স হয় নি পিকলুদার, মাথায় হেলমেটও ছিল না। বড় পোস্টঅফিসের মোড়ে পিকলুদা ডাইনে -বাঁয়ে টার্ন না নিয়ে সোজা গিয়ে ধাক্কা মেরেছিল ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্কটাকে। ভাগ্য ভাল যে কারোর চোট লাগেনি। কিন্তু সেই ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পিকলুদাকে সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিলেন। কাছেই ছিল প্রেসের লোক। পিকলুদার সেই কান ধরে ওঠবোস করার ফোটো পরদিনের যুগের যাত্রীতে বেরিয়েছিল।

কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, সেই ঘটনাটার পর থেকে লজ্জা পাওয়া তো দূরের কথা, পিকলুদা নিজেকে হিরো ভাবতে শুরু করেছে। বড় পিসেমশাই বকাঝকা করেছেন, পিটুনিও দিয়েছেন পিকলুদাকে, কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। কিকুর কাছে কলার উঠিয়ে পিকলুদা সেই ছবিটা দেখিয়ে গিয়েছে সেদিন। খবরের কাগজে ছবি ওঠা মানেই নাকি সেলিব্রিটি। পিকলুদা নিজেকে কেউকেটা ভাবতে শুরু করেছে সেই ঘটনার পর থেক। আর তাতেই রাগটা বেড়ে গেছে কিকুর।