ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
খাওয়া-না-খাওয়ার চক্করে, হরেক রোগের খপ্পরে

চড়ুই এখন ক্লাস সিক্সের ছাত্রী। একফোঁটা ছোট্ট মেয়ে, বয়স সবে  এগারো। আয়নায় আজকাল  নিজেকে বার বার দেখতে বড্ড ভালবাসে। পছন্দের খেলনা বার্বি ডল।  লম্বা ঠ্যাং, সরু কোমর আর গাবদা সাইজের বুক-ওয়ালা মেয়ে পুতুল তার সঞ্চয়ে মন্দ নেই।  চড়ুই ভাবে কেন যে তার ফিগারটা ওদের মত হয়না। এ নিয়ে সারাক্ষণ তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া। মা নাকি ইচ্ছে করে ওকে বেশি বেশি খাওয়ায়, যাতে চড়ুই-এর ফুরফুরে চেহারাটা  বেমালুম উবে গিয়ে একখানা  গাবদা গোব্দা   হাম্পট ডাম্পটি মেয়ে তার নাকের ডগায়  ঘুরঘুর করে।  আগে এমন হতনা। বছর খানেক হল চড়ুই-এর খাওয়া নিয়ে হাজার বায়না, ভাজা খাবনা, রাতে  চাই  মাত্র একটাই পাতলা  রুটি  আর স্যুপ ।  ভাত? মাগো! বিচ্ছিরি। রোজ  ব্রেকফাস্ট খাওয়ার কী দরকার? নেমন্তন্ন বাড়ি খেতে হলে পরের দিন তাকে কিছু খাওয়ানো যায়না আর দু'শ বার স্কিপিং রোপে লাফিয়েও মন খুঁতখুঁত করে,  এইরে!  কালকের   হাই ক্যালোরির খাবার খাওয়ার পর   আজ ওজন ঠিক বেড়ে যাবে।  তার ফল? এই তো কদিন আগে স্কুলে  ম্যাথসের ইউনিট টেস্টের  আন্সার স্ক্রিপ্ট জমা দিয়ে ক্লাসেই অজ্ঞান হয়ে গেল । টিচারদের  তখন সে কী ছোটাছুটি।  ডাক্তার এল । হেডমিস্ট্রেস নিজের হাতে গরম দুধ খাইয়ে দিলেন,  সঙ্গে একটু ছোট্ট বকুনি। স্বাস্থ্যটাই আসল। বুঝলে?  অবহেলা করলে----।   তারপর বাড়ি থেকে মা দৌড়ে এল। পারিবারিক  ডাক্তার বাবু হেলথ চেক আপ করে জানালেন ভয়ানক রকমের অ্যানিমিয়ায় ভুগছে চড়ুই। বেশ ওজনদার একখানা  ডায়েট চার্ট  তৈরি হল তার জন্য। চড়ুই এখন খুব আনহ্যাপি।  বাবা, ঠাম্মি, দিদান কেউ আর  তাকে  সাপোর্ট করছেনা। চড়ুই-এর বাবার বন্ধু  সৈকত কাকু নামকরা সাইকিয়াট্রিস্ট। তিনি  কাল বাড়িতে এসে চড়ুই-এর সঙ্গে গল্পগাছা করার পর বলে গেছেন চড়ুই নাকি  একটা খটোমটো রোগের শিকার।'আনোরেক্সিয়া নারভোসা' । আর চড়ুই -এর ঠাম্মি বলেছেন, ছাই জানে সৈকত। আমি জানি, বাংলায় এ রোগের নাম ক্ষুধামান্দ্য। এ বয়সে কত দেখলাম!

আমাদের চারপাশে এরকম অনেক চড়ুই আছে। তাদের কারো বয়স এগারো বারো, কারো সতেরো আঠারো, কেউ আরো বড়।  পঁচিশ , ত্রিশ অথবা  আরো আরো বড়ো। এরা নিজেদের ফিগার নিয়ে বড্ড সচেতন । কখনো বার্বি ডল , কখনো চেনা ফিল্ম- স্টারের আদলে নিজের বডি ইমেজ কল্পনা করে আর তারই জন্য কত কৃচ্ছ সাধনা। সব সময় মনে ভয়, এ খাবারটা খাব? এত তেল-মশলা দেওয়া ? মিষ্টি ? না না,  একদম খাইনা,   অমুক  রঙের খাবার মোটে খাওয়া যাবেনা। আজ সকালে ছোট-মাঝারি  মিলিয়ে  দুবার  ব্রেকফাস্ট খাওয়া হয়ে গেল। তাহলে অনেকক্ষণ  এক্সারসাইজ করতেই হবে।   দরকারে গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করতে হবে। মা  জোলাপ খাব  কিন্তু আজ রাতে। কাল পটি  ঠিকঠাক হলে  বাড়তি ওজন কমে যাবে। সারাক্ষণ এক চিন্তা, এই বুঝি মোটা হয়ে গেলাম, তাহলে আমায় আর কেঊ  চেয়ে দেখবে?   যত  রোগা  থাকব ততই না  আনন্দ। প্রয়োজনে লম্বা লম্বা  উপোস দিতেও হবে।  অপুষ্টি হোক, রক্তাল্পতা হোক,  কুছ পরোয়া নেই।  

খাওয়া-না-খাওয়ার চক্করে, হরেক রোগের খপ্পরে
বার্বি - বেঠিক শারিরীক গড়নের জন্য সমালোচিত

 আমেরিকার ম্যাটেল কোম্পানি ১৯৫৯ সালে  যখন প্রথম  বার্বি ডল বানায় , তার পেছনের মূল কথা ছিল  হাড় জিরজিরে অথচ যুবতীসুলভ চেহারার ফ্যাশন-পুতুল বাজারে ভাল বিকোবে। হলও তাই । প্রমাণ চেহারার মেয়েদের উচ্চতার ৬ ভাগের ১ ভাগ তার উচ্চতা। কিন্তু বাস্তবের প্রমাণ চেহারার মেয়েদের অনুপাতে তার চেহারা আলাদা হবে।  তার কোমর , নিতম্ব এবং  স্তন বা বক্ষ দেশের মাপ হবে যথাক্রমে ১৮, ৩৪ ও ৩৬ ইঞ্চি। তার পা দুটো হবে শরীরের ওপরের অংশের অনুপাতে বেশি লম্বা। সমাজ -মান্যতা পেল এমন গড়ন , গণ মাধ্যমে সে ছবি বার বার দেখতে দেখতে ছোট্ট বেলা থেকে  সারা পৃথিবীর মেয়েরা ভাবতে বসল এই  রকম হওয়া উচিত তাদেরও ফিগার। বার্বি কে তারা রোল মডেল বলে ধরে নিল। একে বলা যেতে পারে 'বার্বি সিন্ড্রোম'। সিন্ড্রোম কথার মানে একগাদা রোগের উপসর্গ । টিন- এজের  মেয়েরা বা  বয়ঃসন্ধির মেয়েরা এ রোগের প্রধান শিকার। বার্বি পুতুল অনেক সময় ফিল্ম স্টারদের আদলে তৈরি হয়। তাই তাদের মত চেহারা বানাতে হবেই হবে, কিন্তু বেচারারা তো জানেনা এমন ভাবে শারীরিক  কাঠামো তৈরি  হলে শরীর শুধু দুর্বল হবেনা, অল্প বয়সে  হাড়ের ক্ষয় হবে। অ্যানিমিয়া , হার্টের অসুখ, কিডনির অসুখ, মাসিক রজঃচক্রের  গোলমাল, হজমের সমস্যা ইত্যাদি প্রভৃতি পেরিয়ে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।  এ ঘটনার ফলশ্রুতি হয়তো বা বার্বির কাঠামোয়  লক্ষণীয় পরিবর্তন, তাও অনেক পরে । সবে ২০১৬ সালে।  আসলে বার্বির আদলে চেহারায় মেয়েদের শরীরে চর্বির ভাগ প্রায় ১৭- ২২ শতাংশ  কম। এমন চেহারা মোটেই সবাস্থ্য সম্মত নয়।  প্রথম যুগে বার্বির গঠনে যে অবাস্তব সৌন্দর্য  ছিল, সে নিয়ে সমালোচনা মন্দ হয়নি। অগত্যা খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানি্টি এ নিয়ে  গুরুত্ব দিয়ে  ভাবতে লাগল।

খাওয়া-না-খাওয়ার চক্করে, হরেক রোগের খপ্পরে
ল্যামিলি, যাকে দেখতে অনেক বেশি বাস্তবের তরুণীদের মত

২০১৪ সালে বাজারে এল বার্বির প্রতিযোগী  ল্যামিলি ডল। তার প্রস্তুতকারক আরো এক ধাপ পেরিয়ে ১৯ বছরের আমেরিকার মেয়েদের আদলে তৈরি  করল নতুন ধরণের ফ্যাশন ডল। তার শারীরিক গঠন  বাস্তবের মেয়েদের মতই , এমনকি তিল, ব্রণ  চামড়ায় ছড়ে  যাওয়া, ফাটা  দাগ সমেত এল ল্যামিলি। তার সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন কালের বার্বি হল বেশ ছিমাছাম সুশ্রী, লম্বা কিন্তু তার শরীরে বাঁক বা কারভেচার  যথেষ্ট আছে। তার মানে কাঠামোয় একটু মেদ মাংস লেগেছে।  এখন সময় বলবে এমন বার্বি - ডল হাতের নাগালে পেয়ে টিন এজার মেয়েরা  ভবিষ্যতে আবার কী ভাববে! অবশ্য বার্বি বা ল্যামিলি ডল যেমন খুশি হোক, আমাদের চিন্তা চড়ুইদের নিয়ে। তাদের সামনে কত লম্বা জীবন পড়ে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা বলছেন বাইবেলের  বিধান মাফিক থ্রি স্কোর অ্যান্ড টেন এর দিন শেষ, আগামী দিনে মানুষের গড় আয়ু হবে ১১০ বছর। তাহলে?  শরীরের ইঞ্জিন শুরুতে বিগড়ে  গেলে তো ভারি মুশকিল।

খাওয়া-না-খাওয়ার চক্করে, হরেক রোগের খপ্পরে
যুবরানী ডায়না

 এরকম আরো একটি রোগের কথা মেয়েদের ক্ষেত্রে  প্রায় শোনা যায়। তার নাম 'বুলিমিয়া নারভোসা'। ইংল্যান্ডের সুন্দরী যুবরানী  ডায়ানা  এ রোগে ভুগতেন। ডায়না দাম্পত্য জীবনে অসুখী ছিলেন। রাজপুত্র স্বামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব বা মনের মিল ছিল না। দুঃখী ডায়না তাই মন খারাপ কাটাতে আশ্রয় নিতেন আহারে। সে আহার খুব বিচিত্র। ইংরেজিতে বলে বিঞ্জ ইটিং(binge eating)। যার বাংলা মানে দাঁড়ায়,  ১-২ ঘন্টার মধ্যে গপাগপ প্রচুর পরিমানে  খাবার খেয়ে ফেলা, সহজে  নাকি সে খাওয়া থামানো যায়না । খিদে তো  তাদের নেহাত শারীরিক প্রয়োজনে নয়, খাবার এখানে একটা মানসিক আশ্রয় যাকে আঁকড়ে দুঃখী নিঃসঙ্গ নারীটি সাময়িক আনন্দ পায়। কিন্তু তারপর? এক্ সময় খাওয়ায় ইতি টানতেই হয়। আর তখনই দেহের গঠন  সচেতন নারী  লজ্জা, অপরাধ বোধে মাখামাখি হয়ে উপোস করে, গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করে, ওজন কমানোর ওষুধ খেয়ে ফেলে টপাটপ  অথবা হাড় ভাঙ্গা খাটনি বা ব্যায়াম করে চটজলদি ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।  কিন্তু এমন উদ্ভট আচরণের দাম তো শরীরকে দিতেই হয়। ফলে অম্বল, বুক জ্বালা ,ঘনঘন বমির কারণে গলায় ক্ষত, শরীর থেকে দরকারী জল , লবণ বেরিয়ে যায় । মস্তিষ্কের কার্যকলাপ  বদলানো শুরু থেকে  অন্ত্রের আলসার বা ক্ষত, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠবদ্ধতা, হাড়ের ক্ষয়, দাঁতের ক্ষয়, ভিটামিনের অভাবের কারণে হরেক সমস্যা, হার্টের অসুখ, অনিয়মিত  রজঃচক্র , বন্ধ্যাত্ব  আরো কত জটিল –কুটিল স্বাস্থ্য - সমস্যা হাজির হয়।  এই রোগ সাধারণ ভাবে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বা খুব মানসিক চাপে থাকা মেয়েদের জীবনে বেশি করে দেখা যায় ।

খাওয়া-না-খাওয়ার চক্করে, হরেক রোগের খপ্পরে
বাঁদিক থেকেঃ ব্রিটনি স্পিয়ার্স, রিচা চাঢা, লিন্ডসে লোহানঃ বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই সেলিব্রিটিরা রোগা থাকার চেষ্টায় বুলিমিয়া নার্ভোসা রোগে ভুগেছেন।

এই রকম আরেকটি সমজাতীয় সমস্যা হল, বিঞ্জ ইটিং ডিস অর্ডার বা বি ই এস। সোজা বাংলায়  'খাইখাই ব্যামো'। এই অসুখের রোগীরা স্বাভাবিক  অতিভোজী। খায় সারাক্ষণ, গোগ্রাসে, সব সময় খুব তাড়া, খেতেই হবে অনেকখানি, দরকারে চুপিচুপি , লুকিয়ে চুরিয়ে এবং একা একা। এদের ও এমন ধারা আচরণের উৎসে রয়েছে জীবন সম্পর্কে ভীষণ রকমের ক্লান্তি বোধ,  তীব্র আবেগজনিত সমস্যা, রাগ , দুঃখ, অভিমান,  এবং আরো কত কত রকমের  মন খারাপের রোজনামচা। ফল সেই এক। হাড়ের ক্ষয়, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টের ব্যামো, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ ইত্যাদি। কিন্তু এই অসুখের সঙ্গে বুলিমিয়ার একটু ফারাক আছে।  বি ই এস এর রোগী চটজলদি ওজন কমাতে ব্যস্ত হয়না, তাই এরা সচরাচর মোটাসোটাই থেকে যায়।   

 কিন্তু প্রশ্ন হল এসব রোগ কি শুধু মেয়েদের হয়? উত্তর কিন্তু 'মোটেই না'। ছেলেদেরও হতে পারে, তবে সংখ্যায় কিছুটা কম।  আর মেয়েদের ক্ষেত্রে টিন এজার বা বয়ঃসন্ধির মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।  সমস্যাটা প্রাথমিক ভাবে ধরতে  না পারলে বা  চিকিৎসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।  তবে সব সময় এরোগের কারণ যে মানসিক এ কথাও কিন্তু নিশ্চিত ভাবে বলা চলেনা। আত্মসম্ভ্রম- বোধ কিছুটা কম বা নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে অতি সচেতনতা যেমন কারণ, তেমনি বংশগতি বা জেনেটিক্স এবং শারীরবৃত্তীয় কারণ তথা হরমোনের ভুমিকা এবং পরিবেশের প্রভাবকেও অস্বীকার করা যায়না । আর আছে হরমোনের কেরামতি। সেরোটোনিন, ডোপামিন, নর- আড্রিনালিন, ঘ্রেলিন , লেপ্টিন এমন কত হরমোন এইসব সমস্যাগুলিতে অল্প বিস্তর অবদান রাখতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা তো এ নিয়ে রীতিমত ব্যতিব্যস্ত।   আসলে কত যুগ ধরে মেয়েরা জেনেছে তার বুদ্ধি শুদ্ধি যাই থাকুক, সৌন্দর্য তার জীবনের   আসল চাবি কাঠি। আর সে চাবির চেহারা ঠিক করে  পারিপার্শ্বিক সমাজ , কিংবা গণমাধ্যম। ছোট থেকেই মেয়েদের মাথায়  এমন ভাবনা নামতা শেখানোর মত গেঁথে দেওয়া হয়। সে  কারণেই ' চড়ুইরা' বিভ্রান্ত হয়। এটা সত্যি যে বংশগতিকে  অস্বীকার করা যায়না, কিন্তু কিছু দূর পর্যন্ত রোগের নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব।  আমি মোটা না রোগা এ চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত তখনই হওয়া দরকার যখন  শরীরে  রোগ বাসা বাঁধে।  তার আগে খাওয়া দাওয়া চলুক আনন্দে।

আর  মন খারাপ হলে? অদরকারী  খাওয়া ছাড়া আরো কত কী যে করা যায়- আকাশের দিকে তাকালে,  মাটির গন্ধ পেলে, হাওয়ার গান শুনলে আর ভাল ভাল বই  পেলে----আঃ! জীবনটা বড্ড দামি যে।  শুধুমুধু খাওয়া নিয়ে সারাক্ষণ   ভাবলে চলবে?

ছবিঃ উইকিপিডিয়া, ল্যামিলি , এনডিটিভি ফুড

 তথ্য সূত্রঃ
Helga Dittmar, Emma Halliwell, and Suzanne Ive, "Does Barbie make girls want to be thin? The effect of experimental exposure to images of dolls on the body image of 5-to 8-year-old girls." Developmental psychology 42#2 (2006): 283.
Rosen, David S.; Adolescence, the Committee on (2010-12-01). "Identification and Management of Eating Disorders in Children and Adolescents". Pediatrics. 126 (6): 1240–1253. doi:10.1542/peds.2010-2821. ISSN 0031-4005. PMID 21115584.

এই লেখকের অন্যান্য পোস্ট(গুলি)

undefined

আরও পড়তে পারো...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা