ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
অবলা বসু

অবলা বসুর নাম তোমরা হয়ত শুনেছ বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী হিসেবে। কিন্তু তার বাইরেও তাঁর নিজস্ব একটা ব্যক্তি পরিচয় ছিল, আজ সেই কথাই তোমাদের বলব। তিনি মেয়েদের শিক্ষা আর স্বাধীনতার জন্যে অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু কলম ধরেছিলেন তোমাদের জন্যই। একশো বছরেরও আগে যখন আমাদের দেশে বেড়ানোর এত চল ছিল না, তখন ছোটদেরকে তিনি উৎসাহিত করেছিলেন দেশ দেখায়। ছোটদের 'মুকুল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন ভ্রমণ কাহিনি। ২০১৫ সাল তাঁর জন্মের সার্ধ-শতবর্ষ।

বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষাব্রতী লেডি অবলা বসুর জন্ম ১৮৬৫ সালের (মতান্তরে ১৮৬৪) ৮ আগস্ট (বাংলা ১২৭১ সাল) - অধুনা বাংলাদেশের বরিশালে। পিতা স্বনামধন্য সমাজ সংস্কারক দুর্গামোহন দাস, মা ব্রহ্মময়ী দেবী। তাঁদের আদিনিবাস ছিল ঢাকার তেলির বাগে। ভাই বাংলার অ্যাডভোকেট জেনারেল সতীশ রঞ্জন দাস এবং গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বোন সরলা রায় দুজনেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে খ্যাত ছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এবং ভারতের পঞ্চম মুখ্য বিচারপতি সুধী রঞ্জন দাস ছিলেন তাঁদের নিকটাত্মীয়।

অবলা বসুর শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলকাতার বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়ে ও পরবর্তীতে বেথুন স্কুলে। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে এন্ট্রান্স পাস করেন। বাংলাদেশে তখনও মেয়েদের ডাক্তারি শিক্ষার সুযোগ না থাকায় মাদ্রাজে যান ডাক্তারি পড়তে। অসুস্থতার জন্য পাঠ অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসতে হয়। তবে সেখানে তিনি দুবছরের একটি নির্দিষ্ট পাঠক্রম সমাপ্ত করেছিলেন। মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজের তরফে তাঁকে একটি 'সার্টিফিকেট অফ অনার' দেওয়া হয়েছিল।

১৮৮৭ সালে তাঁর বিবাহ হয়। স্বামী প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসু।

১৯১০ সালে অবলা ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়ের সম্পাদিকা হন। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি অসামান্য যোগ্যতার সঙ্গে স্কুলটি পরিচালনা করেন। পুরো স্কুলটিকেই নতুন করে গড়ে তোলেন অবলা। দিদি সরলা রায়ের সঙ্গে গোখেল মেমোরিয়াল মেমোরিয়াল স্কুলটিও প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার মেয়েদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ১৯১৯ সালে 'নারী শিক্ষা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অবলা। এই সংস্থা গ্রাম-বাংলায় বালিকাদের জন্য অনেকগুলি বিদ্যালয় স্থাপন করে। বিধবাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে 'বিদ্যাসাগর বাণীভবন', 'মহিলা শিল্প ভবন' ও 'বাণীভবন ট্রেনিং স্কুল' নামক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। 'বসু বিজ্ঞান মন্দির'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন অবলা। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর সঞ্চিত এক লক্ষ টাকা দিয়ে 'অ্যাডাল্টস প্রাইমারি এডুকেশন' নামক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। ১৯৫১ সালের ২৫ এপ্রিল অবলা বসু কলকাতায় মারা যান।

বাংলাদেশের প্রথমদিককার নারীবাদী হিসেবে অবলা বসু একটি পরিচিত নাম। তৎকালীন নামী ইংরেজি পত্রিকা 'মর্ডান রিভিউ'-এ নারীশিক্ষা-নারীস্বাধীনতা বিষয়ক তাঁর একাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন বাংলা সাময়িক পত্রিকায় বেরিয়েছিল তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং ভ্রমণ কাহিনি। অবলা বসুর ছড়ানো ছিটানো গদ্য রচনাগুলির কিছু নিদর্শন একটিমাত্র সংকলনেই পাওয়া যায় – শকুন্তলা শাস্ত্রী প্রকাশিত বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ও লেডি বসুর 'প্রবন্ধাবলী' নামে। ১৩০২ থেকে ১৩৩২ এই তিন দশকের বিভিন্ন সময়ে 'মুকুল' এবং 'প্রবাসী' পত্রিকায় ভ্রমণ কাহিনি লিখেছেন অবলা। এবছর কলকাতা বইমেলায় 'পরশপাথর' থেকে প্রকাশিত হয়েছে তোমাদের জন্য লেখা সেইসব বেড়ানোর কাহিনি - 'অবলা বসুর ভ্রমণকথা'। এটাই কিন্তু তাঁর একমাত্র ভ্রমণ কাহিনি সংকলন, এবং একমাত্র একক সংকলিত বইও।

বাংলা ১৩০২ সালের অগ্রহায়ণ ও পৌষ সংখ্যার মুকুল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর 'কাশ্মীর' ভ্রমণ কাহিনি। লেখার শুরুতেই অবলা বলছেন – “ইংলণ্ড প্রভৃতি সুসভ্য দেশের বালক বালিকাগণ বাল্যকাল হইতেই ভ্রমণ বৃত্তান্ত পড়িতে ভাল বাসে, তাহার সুফল এই হয় যে, বয়ঃপ্রাপ্ত হইয়া তাহারা নূতন দেশ আবিষ্কারের জন্য প্রাণ পর্য্যন্ত ত্যাগ করিতে প্রস্তুত হয়। ... আমাদের এই ভ্রমণ বৃত্তান্ত পাঠ করিয়া এতটা না হইলেও আশা করি তোমাদের মধ্যে অনেকের মনে নানাস্থান ভ্রমণ করিয়া প্রকৃতির শোভা দেখিবার আগ্রহ জন্মিবে।” এই যে অন্যরকমভাবে দেখা এবং ভ্রমণকে জীবনের বৃহত্তর অর্থে খুঁজে পাওয়া এটাই বোধহয় অবলার লেখার সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য। ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের সব কর্মসাধনার উৎসও।

ভারতবর্ষের নানা জায়গায়, পৃথিবীর দেশে দেশে ঘুরেছেন অবলা। তার অল্প কিছু স্মৃতিই বড় সুন্দর করে ধরে রেখেছেন তোমাদের জন্য। ভারতবর্ষে বুদ্ধগয়া, রাজগীর, সাঁচি, রাজস্থানের চিতোর, আজমীর, অম্বর, জয়পুর, কাশ্মীর, বাঁকিপুর, অমৃতসর, মুম্বাই, অজন্তা-ইলোরা, ওড়িশার পুরী, ভূবনেশ্বর, কোনার্ক, উদয়গিরি, খণ্ডগিরি, দক্ষিণ ভারতের মন্দির নগরীগুলি, লখনউ, নৈনিতাল, পাঞ্জাব, কেদার-বদরী প্রভৃতি স্থান ভ্রমণ করেছিলেন। জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর বিজ্ঞানের বানী পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সব জায়গাতেই তাঁর সঙ্গী ছিলেন অবলা। ইংল্যান্ড, ইতালি, আমেরিকা, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি এমন অনেক প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশ রয়েছে এই তালিকায়। ১৩৩২ সালের প্রবাসীতে তাঁর এই প্রথম ইউরোপ ভ্রমণের কথা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল “বাঙ্গালী মহিলার পৃথিবী ভ্রমণ” লেখাটি। এই লেখাতে তাঁদের ইউরোপ যাত্রার কারণ এবং বিজ্ঞানী মহলে সমাদরের উল্লেখ পাওয়া যায় –“বহুদেশ ভ্রমণ করিয়া দেশসেবার নানা উপাদান সংগ্রহ করিতে পারিয়াছি। সেকথা বলিতে গেলে ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দ হইতে আরম্ভ করিতে হয়। সেই বৎসরে আচার্য্য বসু মহাশয় অদৃশ্য-আলোক সম্বন্ধে তাঁহার নূতন আবিষ্ক্রিয়া বৈজ্ঞানিক সমাজে প্রদর্শন করিবার জন্য ব্রিটিশ এসোসিয়েশনে আহুত হন। তাঁহার সহিত আমিও যাই; এই আমার প্রথম ইয়োরোপ যাত্রা। ইহার পর ৫।৬ বার তাঁহার সহিত পৃথিবীব্যাপী ভ্রমণে বাহির হইয়াছি। আমার ভ্রমণকালের মধ্যে পৃথিবীর ইতিহাস নানা ভাবে ভাঙ্গিয়াছে ও গড়িয়াছে, এক আমার বয়সেই ইয়োরোপে কত পরিবর্ত্তন দেখিলাম।”

ভারতীয় বৈদিক ধর্ম এবং দর্শনকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। একইভাবে ভারতীয় বিজ্ঞানের আধুনিক ধারাকে পশ্চিমি দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। তাঁদের এই ইউরোপ ভ্রমণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা - যা আজও সেই আঙ্গিকে দেখা হয়নি। অবলার লেখাতে সে কথাই আমরা অনুভব করতে পারি – “এতকাল তো ভারতবাসী বিজ্ঞানে অক্ষম এই অপবাদ বহুকন্ঠে বিঘোষিত হইয়াছে, আজ বাঙ্গালী এই প্রথম বিজ্ঞান-সমরে বিশ্বের সম্মুখে যুঝিতে দণ্ডায়মান। ফল কি হইবে ভাবিয়া আশঙ্কায় আমার হৃদয় কাঁপিতেছিল, হাত পা ঠাণ্ডা হইয়া আসিতেছিল। তার পর যে কি হইল সে-সম্বন্ধে আমার মনে স্পষ্ট কোনো ছবি আজ আর নাই। তবে ঘন-ঘন করতালি শুনিয়া বুঝিতে পারিলাম যে পরাভব স্বীকার করিতে হয় নাই বরং জয়ই হইয়াছে।” এই ভ্রমণেই কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাটি তাঁদের মনে তৈরি হয়েছিল। এবার শীতের ছুটিতে 'বাদশাহী আংটি' দেখেছতো নিশ্চয়, লখনউ-এর সেই শেষ নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের কথা, সেই যে গানটা ফেলুদা গুনগুন করে গাইছিল, রেসিডেন্সির কথা এই সবই একবার পড়ে ফেলতে পার অবলার কলমে। ১৩০২ সালের পৌষ-ফাল্গুন সংখ্যার মুকুলে প্রকাশিত 'লক্ষণৌ ভ্রমণ' লেখাটিতে ইতিহাসের শহর লখনউ-এর বর্ণনা স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের বর্ণনায়। কিন্তু শুরু করার ধরণ এবং সেখানে নিজের ভ্রমণকে এনে ফেলার কায়দা - দুটোই বেশ আধুনিক। শুরু করেছেন অযোধ্যা দিয়ে, কারণ রামায়ণের অনুষঙ্গে সব বাঙালি ছেলেমেয়েরই অযোধ্যার নাম জানা। কিন্তু সে রামও নাই আর সে অযোধ্যাও নাই। এই রামের সূত্র ধরেই পৌঁছলেন লক্ষণ এবং লক্ষণের রাজ্যের রাজধানী লক্ষণাবতীতে। ইতিহাসের কাহিনি শোনানোর আগেই কিন্তু লখনউ-এর ভৌগোলিক অবস্থানও বলে দিয়েছেন। আবার ইতিহাসের গল্প শোনাতে শোনাতে লেখিকা পৌঁছালেন লখনউ-অযোধ্যার শেষ নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের কাহিনিতে। বিখ্যাত লখনউ ঠুংরির আবিষ্কর্তা ওয়াজেদ আলির শেষজীবন কেটেছিল কলকাতার মেটিয়াবুরুজে ইংরেজদের নজরবন্দী হিসেবে। সেখানেও অবশ্য তিনি অনেকটাই নবাবি চালেই থাকতেন। কলকাতায় লখনউ-এর নবাবের বাড়িঘর-চিড়িয়াখানা এসব দেখেই লেখিকার লখনউ দেখার সাধ হয়েছিল। অর্থাৎ ইতিহাসের কাহিনি বলতে বলতেই এবার নিজের ভ্রমণ কাহিনিতে ঢুকে পড়েন লেখিকা। আদিল শাহের মসজিদ, লা মার্টিনিয়ার কলেজ ইত্যাদি দেখে লেখিকা পৌঁছান পুরোনো রেসিডেন্সিতে। “বেলিগার্ডের ভগ্ন গৃহগুলি ঠিক সেইরূপ ভাবেই রক্ষিত হইতেছে। কামানের গোলা যেখানে যেখানে লাগিয়াছিল, সেখানে সেখানে বড় বড় ছিদ্র আজিও রহিয়াছে। যে গৃহে কামানের গোলা লাগিয়া লরেন্সের মৃত্যু হইয়াছিল, যেখানে অস্ত্র শস্ত্র রাখা হইয়াছিল, যেখানে আহতদিগের জন্য হাঁসপাতাল হইয়াছিল, সে সকল স্থান দেখিলাম। মৃত্তিকার নিম্নে একটী ঘরে শিশু ও রমণীদিগকে রাখা হইয়াছিল; কিন্তু সেখানেও কামানের গোলা প্রবেশ করিয়া কয়েকজনকে বিনষ্ট করে। সেই ঘরে এখনও স্থানে স্থানে রক্তের দাগ দেখা যায়।” আবার 'মান্দ্রাজ' অর্থাৎ এখনকার চেন্নাই-এর গল্পে পাই লেখিকার প্রথম জাহাজে চড়ার অভিজ্ঞতার কথা। তখন জলপথেই কলকাতা থেকে চেন্নাই যাওয়া সুবিধাজনক ছিল। কাশ্মীর কিম্বা চিতোরের গল্পও ভারী সুন্দর।

বিদেশের কথা লিখতে গিয়ে প্রকৃতির বর্ণনার পাশাপাশি বারবার করে ছোটদের কথাই লিখেছেন অবলা। আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডে ছোটদের লেখাপড়া, খেলাধুলা এমন কতকিছু। জাপানেতো তখন ষোল বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের কোন শাসন করাই হতনা। দেশটাই ছিল ছোটদের। তাই বলে ভেবোনা যে তারা যা ইচ্ছে করত। বড় হয়ে খুব ভালো মানুষ হতেন তাঁরা। তাইতো এত দুর্যোগের পরও ছোট্ট দেশের ছোট্ট মানুষগুলো কেমন মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে এই বড় দুনিয়ায়। তবে বিদেশের লেখার মধ্যে তাঁর সেরা কাহিনি ইতালির 'লুপ্তনগরী'। জগদীশচন্দ্র এবং অবলার একমাত্র সন্তান জন্মের সময়েই মারা যায়। পরবর্তী জীবনে আর কোন সন্তান না হলেও অবলার মাতৃহৃদয়ের মমতা ছড়িয়ে গেছে সব শিশুর জন্যই। এই লেখাটির শেষে যেন তারই পরিচয় মেলে। অনেক বছর আগে ইতালির পম্পেয়াই শহরটি ভিসুভিয়সের অগ্নুৎপাতে লুপ্ত হয়ে যায়। সারাদিন সেই মৃত শহর ঘুরে সন্ধ্যায় শেষ বারের মতো শহরটার দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে পড়ল - “একটি গৃহ ক্রমে ক্রমে ভষ্মে ঢাকিয়া যাইতেছিল। সেই গৃহে একটী নারী দুহাতে তার শিশুটিকে উচ্চে ধরিয়া রহিয়াছিল। ভগ্নস্তূপ ক্রমে ক্রমে উন্নত হইয়া দুঃখিনী মাতাকে নিমজ্জিত করিতেছিল। কিন্তু সেই অগ্নির প্রসার হইতে শিশুকে রক্ষা করিতে হইবে। জ্বলন্ত ভষ্মস্তূপ তিল তিল করিয়া দগ্ধ করিয়াও জননীকে একেবারে অবসন্ন করিতে পারে নাই; কি যেন এক মহাশক্তি, দুঃসহ যন্ত্রণা দমন করিয়া রাখিয়াছিল! মাতার হস্ত দুইটি মৃত্যু যন্ত্রণাতেও অবশ হইয়া পড়ে নাই। দুই সহস্র বৎসর পরে সেই উর্দ্ধোথ্থিত করপুটে সন্তানটি পাওয়া গিয়াছে। সেই মাতার স্নেহস্পর্শে যেন অতীত বর্ত্তমানের সহিত মিলিয়া গেল। একই দুঃখে, একই স্নেহে, একই মমতায় সেকাল ও একাল, পূর্ব্ব ও পশ্চিম যেন বান্ধা পড়িল! তখন পম্পেইর মৃত রাজ্য সঞ্জীবিত হইয়া উঠিল, এবং রাজপথ আমার চক্ষে অকস্মাৎ লোকজন পূর্ণ হইল!”

অবলা বসুর লেখা-তথ্য উদ্ধার করার জন্য নানা জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে বুঝতে পারলাম তাঁর মৃত্যুর মাত্র পঁয়ষট্টি বছরের মধ্যেই আমরা বড়রা তাঁকে ভুলে গেছি। তোমরা কিন্তু তাঁকে ভুলোনা, বরং চেষ্টা করো যাতে তাঁর আদর্শে নিজেরাও সত্যিকারের বড় হতে পার।


ছবিঃ লেখকের সংগ্রহ থেকে

undefined

এবারে নতুন কী কী?

আরও পড়তে পারো...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা