খেলাঘরখেলাঘর

বনের খবর

যারা জরিপের কাজ করে, তাদের মধ্যে অনেককে  ভারি ভয়ঙ্কর সব জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। সেই সব জায়গায় হাতি, মহিষ, বাঘ, ভাল্লুক আর গণ্ডার চলাফেরা করে, আবার যেখানে সেই-সব নেই, সেখানে তাদের চেয়েও হিংস্র আর ভয়ানক মানুষ থাকে। প্রায় কুড়ি-বাইশ বছর এইসব জায়গায় ঘুরে কত ভয়ই পেয়েছি, কত তামাশাই দেখেছি।
সরকারি জরিপের কাজে অনেক লোককে দলে দলে নানা জায়গায় যেতে হয়। এক -একজন কর্মচারীর উপর এক -একটা দলের ভার পড়ে। তাঁর সঙ্গে জিনিসপত্র বইবার জন্য , হাতি, গোরু, ঘোড়া, খচ্চর ও উট, আর জরিপ করবার জন্য সার্ভেয়ার, আমিন, খালাসি ও চাকর-বাকর বিস্তর থাকে। বনের মধ্যে থাকতে হয় তাঁবুতে। লোকজনের বাড়ির কাছে থাকা প্রায়ই ঘটে ওঠে না, এক-এক সময় এমনও হয় যে চারদিকে কুড়ি-পঁচিশ মাইলের মধ্যে আর লোকালয় নেই। বন এমনই ঘন আর অন্ধকার যে তার ভিতর অনেক সময় সূর্যের আলো প্রবেশ করে না; চলবার পথ, জঙ্গল কেটে তৈরি করে নিতে হয়, তবে অগ্রসর হওয়া যায়। যদি জানোয়ারের রাস্তা, বিশেষত হাতির রাস্তা , পাওয়া গেল তো বিশেষ সুবিধার কথা বলতে হবে।
এমনি বিশ্রী জায়গা!প্রথম-প্রথম এইসব জায়গায় সহজেই ভয় হত। আমার মনে আছে প্রথম বছর যখন শান স্টেটে যাই, আমার তাঁবুর সামনে বসে একটা বাঘ ফোঁস-ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলছিল, আমি তো শুনে বড়োই ব্যস্ত হয়েছিলাম। তারপর, এর চেয়েও কত বড়ো-বড়ো ঘটনায় পড়েছি কিন্তু তেমন ব্যস্ত কখনো হইনি।

---------------
কি, আরো পড়তে ইচ্ছা করছে? জানতে ইচ্ছা করছে লেখক আরো কোন কোন বড় ঘটনার সামনে পড়েছেন? জানতে হলে পড়ে ফেল 'বনের খবর', লেখন প্রমদারঞ্জন রায়। আজ থেকে শ'খানেক বছর আগে, প্রমদারঞ্জন রায় ছিলেন একজন অসমসাহসী সার্ভেয়ার। সরকারী জরিপের কাজে তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রায় বাইশ বছর। বাঘ, ভাল্লুক, হাতি, গন্ডার বা ডাকাতদলের মুখোমুখি হওয়া- তাঁর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ভান্ডার বিশাল। বইটি অনেকদিন অপ্রকাশিত ছিল, কিন্তু এই বছর থেকে আবার প্রকাশিত হয়েছে।

বনের খবর
প্রমদারঞ্জন রায়
লালমাটি
৮০ টাকা

 

ছবিঃ
ইন্টারনেট