খেলাঘরখেলাঘর

 কখন কি হয়

'এই লোককে নিয়ে এলি তুই বাসন মাজতে?'
ভুনি পিসি দুই কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে কড়া গলায় বলেন, 'বিশ্ব ভুবনে আর লোক খুঁজে পেলিনা খোকনা? এই পুঁয়ে-পাওয়া হাড়গিলে পিলেপেটা কোটর-চক্ষু চামচিকেটা, তোদের গুষ্টির বাসন মাজবে? বিদেয় কর, এখুনি বিদেয় কর।'
'খোকনা' মানে অবশ্য কোন শিশু নয়।
ভুনি পিসির ভাইপো হলেও, তিনি তাঁর নিজের ভাইপোদের 'জ্যাঠামশাই'।তাছাড়া তিনি তাঁর জামাইয়ের শ্বশুর, ছেলেমেয়েদের পূজনীয় পিতা এবং মস্ত বড় অফিসটার একেবারে হেড বড়োবাবু।যেখানে তাঁর নাম হচ্ছে পি. বি. চৌধুরী।
অর্থাৎ কিনা প্রভাতভূষণ চৌধুরী!
ভদ্দরলোকের বুদ্ধি -সুদ্ধি ভালোই ছিল, কিন্তু এবারে যে কি দুর্মতি ধরলো, পুজোর ছুটিতে গুষ্টিশুদ্ধ সকললে নিয়ে বেড়াটে এলেন জামতাড়ায়!
আর সক্কলের গার্জেন হিসেবে সঙ্গে নিয়ে এলেন ভুনিপিসিকে।
ভুনিপিসি ভুনিখিচুড়ি রাঁধেন বলেই যে তাঁর এই নামকরণ তা নয়, নামকরণের সময় তিনি বোধহয় খিচুড়ি-টিচুড়ি রাঁধতে তেমন শেখেনও নি, আসলে 'ভুবনমোহিনী'র অপভ্রংশ হচ্চে গিয়ে 'ভুনি'।
সে যাক্‌- প্রথমটা এসেই ভুনি পিসির ভুনি খিচুড়ি, আর বাড়িওয়ালার বাগানের মালির হাতের মুরগি, এই দুটোর যোগফলে বড়ো আনন্দেই কেটেছিল সবাইয়ের। মানে পি. বি. চৌধুরী বা প্রভাতভূষণের ছেলেমেয়ে, বৌ, শালী,জামাই, বেয়াই, ভাই, ভাই-বৌ, ভাইপো, ভাইঝি, ভাগ্নে, ভাগ্নী, ইত্যাদি প্রভৃতি সবাইয়ের।
কিন্তু মুশকিল হল- কলকাতা থেকে যে চাকর নিয়ে আসা হয়েছিল, সে হটাত একা রাতে উঠোনের নিমগাছে ভূত দেখে, সেই যে আঁ-আঁ-আঁ শব্দে হাঁ করে চেঁচাল, সে হাঁ বুজল একেবারে কলকাতায় গিয়ে। তারপর সেই জীবনরতনের দেখাদেখি বাড়ির ছোটো ছেলেরাও কিছুদিন 'ভূত' দেখতে শুরু করেছিল, কিন্তু ভুনি পিসি বকুনির চোটে তাদের ভূত ছাড়িয়ে ছাড়লেন।
ভুনি পিসি এই বৃহত সংসারের যাবতীয় ব্যাপারই ম্যানেজ করে ফেলেছেন, কিন্তু মুশকিল বাধল ওই চাকরের ব্যাপারটায়।
জামতাড়ায় যে বাসন মাজার লোকের এত অভাব, তা কে জানত?


সত্যিই কি নিমগাছে ভূত ছিল? আর নতুন কাজের লোক কি পাওয়া গেল? ভুনি পিসি কিভাবে এই সমস্যার মুশকিল আসান করলেন? যদি জানতে চাও, তাহলে পড়ে ফেল আশাপূর্না দেবীর গল্প সংকলন 'পঞ্চাশটি কিশোর গল্প'।

পঞ্চাশটি কিশোর গল্প
আশাপূর্ণা দেবী
নির্মল বুক এজেন্সি
মূল্য-আশি টাকা