খেলাঘরখেলাঘর

কলাবতী রাজকন্যা
সোনার খাটে গা,রূপার খাটে পা রাখিয়া রাজপুরীর মধ্যে, পাঁচ রাণীতে বসিয়া সিঁথিপাটি করিতেছিলেন। এক দাসী আসিয়া খবর দিল, নদীর ঘাটে যে , শুকপঙ্খী নৌকা আসিয়াছে, তাহার রূপার বৈঠা, হীরার হা'ল। নায়ের মধ্যে মেঘ-বরণ চুল কুঁচ-বরণ কন্যা বসিয়া সোনার শুকের সহিত কথা কহিতেছে।
অমনি নদীর ঘাটে পাহারা বসিল; রাণীরা উঠেন-কি-পড়েন, কে আগে কে পাছে; শুকপঙ্খী নায়ে কুঁচ-বরণ কন্যা দেখিতে চলিলেন।

তখন শুকপঙ্খী নায়ে পাল উড়িয়াছে; শুকপঙ্খী তরতর করিয়া ছুটিয়াছে।

   রাণীরা বলিলেন-
"কুঁচ - বরণ কন্যা মেঘ-বরণ চুল।
নিয়া যাও কন্যা মোতির ফুল।"

নৌকা হইতে কুঁচ - বরণ কন্যা বলিলেন,-
"মোতির ফুল মোতির ফুল সে বড় দূর,
তোমার পুত্র পাঠাইও কলাবতীর পুর।
হাটের সওদা ঢোল -ডগরে, গাছের পাতে ফল।
তিন বুড়ির রাজ্য ছেড়ে রাঙ্গা নদীর জল।"
বলিতে, বলিতে, শুকপঙ্খী নৌকা অনেক দূর চলিয়া গেল।
রাণীরা সকলে বলিলেন -
"কোন দেশের রাজকন্যা কোন দেশে ঘর?
সোনার চাঁদ ছেলে আমার তো-মার বর।"
 
তখন শুকপঙ্খী আরও অনেক দূর চলিয়া গিয়াছে; কুঁচ-বরণ কন্যা উত্তর করিলেন,-

"কলাবতী রাজকন্যা মেঘ-বরণ কেশ,
তোমার পুত্র পাঠাইও কলাবতীর দেশ।
আনতে পারে মোতির ফুল ঢো-ল-ডগর,
সেই পুত্রের বাঁদী হয়ে আসব তোমার ঘর।"
শুকপঙ্খী আর দেখা গেল না। রাণীরা অমনি ছেলেদের কাছে খবর পাঠাইলেন। ছেলেরা পক্ষিরাজ ছুটাইয়া বাড়িতে আসিল।
রাজা সকল কথা শুনিয়া ময়ূরপঙ্খী সাজাইতে হুকুম দিলেন। হুকুম দিয়া, রাজা, রাজসভায় দরবার করিতে গেলেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------
 
 
শেষ অবধি কোন রাজপুত্র পেলো কুঁচ-বরণ কন্যা কলাবতীকে? কে নিয়ে এলো মোতির ফুল আর ঢোল-ডগর? যদি জানতে চাও, তাহলে এই ছুটিতে পড়ে ফেলো দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের লেখা "ঠাকুরমার ঝুলি"।
 
 
 
ঠাকুরমার ঝুলি
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
৮০ টাকা

(মূল বানান অপরিবর্তিত)