খেলাঘরখেলাঘর

 

নিলমণিয়া

এক যে ছিল গভীর বন। বনের মধ্যে এক গর্ত। গর্তের মধ্যে থাকে এক খরগোশ, আর তার ছটফটে বউ। খরগোশনি এদিক সেদিক লাফিয়ে বেড়ায়। খরগোশ বড্ড কুঁড়ে, গর্ত ছেড়ে নড়ে না। একদিন খুব বৃষ্টি পড়ছে।

লাফাতে লাফাতে খরগোশনি বেশ দূড়ে গিয়ে পড়েছে। কী করে, সে তাড়াতাড়ি এক মস্ত অশথ গাছের তলায় একটা গর্তে ঢুকে পড়ল। ফুলো লোম  ভিজে যাবে যে! এই গর্তে ঢুকে খরগোশনি দেখে, চমতকার একটা নীল রঙের পাথর থেকে আলোর ছটা বেরিয়ে গর্তটাকে স্বপ্নের মত করে রেখেছে। খরগোশনি তো অবাক। বৃষ্টি থামতে সে পাথরটাকে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে এল, খরগোশকে দেখাতে।

সেই গর্তটা আসলে ছিল এক শঙ্খিনী সর্পকুমারীর। ওটা তারই মাথার মণি। সাপের মাথার মণির গুণ হল, তার সামনে মনে মনে যে যা চাইবে, সে তাই পাবে। সর্পকুমারী তার মণিটা খুলে গর্তে রেখে দিয়ে মানুষী সেজে শহরে বেড়াতে যেত। সেদিন বাড়ি এসে আর মণি খুঁজে পায় না। ও- কি? কে নিলে?কী হল? খোঁজে, খোঁজে, পায় না! শেষকালে অশথ গাছের নীচে পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসল। এমন সময় সেখান নিয়ে এক নেউল যাচ্ছিল। নেউল বললে,' কে গো মেয়ে তুমি? কাঁদছ কেন? কী হয়েছে? এই গহন বনে তুমি কী করছ?'
সর্পকুমারী তো আর নেউলকে বলতে পারে না যে সে আসলে শঙ্খিনী সাপ? সাপে-নেউলে জন্ম জন্মান্তরের শত্রুতা কিনা। সর্পকুমারী বললে -' আমি রাজকন্যে- বনের ওপারে থাকি। খেলতে খেলতে এখানে এসে পড়েছি- আমার সুন্দর নীলমণি পাথরটা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে, খুঁজে পাচ্ছি না, তাই কাঁদছি।' নেউল বললে, 'আচ্ছা, আমি যদি খুঁজে দিই, তুমি কি তাহলে আমাকে বিয়ে করবে? আগে কথা দাও?' সর্পকুমারী তখন মণির শোকে কাতর, বল্লে,'হ্যাঁ, নিশ্চয় বিয়ে করব, কথা দিলাম।'

সর্পকুমারী কি সত্যি বিয়ে করল নেউলকে? তারপরে কি হল? জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে 'নীলমণিয়া'। এরকম আরো সুন্দর অনেক রূপকথার গল্প নিয়ে নবনীতা দেবসেন এর একগুচ্ছ  সঙ্কলন 'ইচ্ছামতী' নামের বইতে পড়তে পারবে এই গল্পটা।

ইচ্ছামতী
নবনীতা দেবসেন
আনন্দ
১২৫ টাকা