খেলাঘরখেলাঘর

     রাজা ও রানী
দূরত্ব যাই থাক,রাজা রানী এখন বন্ধু। এ ওকে দেখে হাসে,হাততালি দেয়।
দূর থেকেই রানী তার খেলনা দেখায়। নতুন খেলনা দেখে চুপ করে রাজ কিছু সময় দেখে নেয়। তারপরেই সে তার চকমকি পাথর রানীর দিকে তুলে ধরে।
রানী অবাক হয়। রাজার হাতে চকচক করছে যে খেলনা--তেমনটা তো সে কখনো দেখে নি!

রানীকে স্কুল যাবার জন্যে নীচে নেমে আসতে হয়। বাবা মা কেউ না কেউ তাকে বাসে চড়িয়ে দেন। এই সময়টুকুর ফাঁকে সে রাজাদের ঘরের দিকে তাকিয়ে নেয়। যদি রাজার দেখা পায়,যদি তার দূর থেকে দেখা চকমকি খেলনার রহস্যের খোঁজ পাওয়া যায়!

মাঝে মাঝে দেখা হয়ে যায় রাজার সঙ্গে।আবার কোনো দিন বুঝতে পারে রানী--ওই ঝাটিমাটির দরজার,দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে দুটো চোখ যেন জুলজুল করে তার দিকে তাকিয়ে আছে!
--বাস এসে গেছে রানী!
কখনো বাবা বা মার কথায় সম্বিত ফিরে পায় রানী। তাড়াতাড়ি গিয়ে বাসে ওঠে।
রাজা ওই মেয়েটাকে ভালো ভাবে চেনে,ছোট্ট রাজার জীবনের দূর থেকে দেখা রানী সে!অনেক সময় সে দেখতে থাকে রানী গাড়িতে উঠে চলে যায়,গাড়িতে আবার সে ঘরে ফিরে আসে।

একদিন রানী তার মা,অনিমাকে ডেকে দেখায়,মা,দেখ,দেখ না!
--কি,কি দেখব?মা বলে ওঠেন।
--ওই ঘরে না একটা ছেলে থাকে।আমার বড় ডলের মত ও!রানী বলে যায়.
মা দেখবার চেষ্টা করেন ছেলেটাকে। বলেন,কে,কোথায় ছেলে?
--ওই দেখ,ভাঙ্গা মত ঘরটার ফাঁক দিয়ে দেখ,রানী উত্সাহ নিয়ে বলে ওঠে।
--ও গুলো বস্তি বাড়ি,গরীব ভিখারীদের ঘর,বলেন রানীর মা।
--কিন্তু ও তো ভিখারী না মা,ও ঘরেই বসে থাকে। খেলা করে । আমায় ওর খেলনা দেখায়।ঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আমায় হাত দেখায়।বলে চলে রানী।
--ওর মা,বাবা,ভিখারী,কালী মন্দিরের সামনে ভিক্ষার জন্যে সারা দিন বসে থাকে,মা বলে যেতে থাকেন।
রানী ভিখারী ধনীর পার্থক্য বোঝে না।ও বলে,না,মা,ও ভিখারী না,সুন্দর দেখতে,আমায় খেলতে ডাকে।এক দিন যাবো ওর ঘরে?
--না,না,ওরা খুব নোংরা থাকে,ওদের ঘরে গন্ধ,ওখনে গেলে ভালো লাগবে না তোর। রানীর মা বোঝাতে থাকেন মেয়েকে।
তবু রানী মানতে চায় না,বলে কই আমি তো পাই না!আমি তো গন্ধ পাই আমাদের বাড়ির পাশের নর্দমার!
কথা বলতে বলতে রানী হঠাৎ দেখতে পায় রাজা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দরজার ফাঁক দিয়ে একটা হাত বাড়িয়ে সে রানীকে ইশারায় ডেকে যাচ্ছে।রানীও হাত নাড়ে,মাকে বলে ওঠে,ওই দেখ,ওই দেখ মা,ও আমায় ডাকছে!
রানীর মা,অনিমা দেখলেন ঝুপড়ির দরজার ফাঁক দয়ে ছোট্ট একটা ছেলে দাঁড়িয়ে। রানীকে হাত নেড়ে ডেকে চলেছে ও। ছেলেটা দেখতে ভালো।ছোট্ট বাচ্চা।বাচ্চা ছেলে কার না ভালো লাগে!
রানী,মা বাবার একমাত্র সন্তান। ওঁদের ইচ্ছে ছিলো রানীর একটা ভাই হোক।কিন্তু সে ইচ্ছা আর পুরন হয় নি।

তাপস কিরণ রায় অর্থশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। স্কুলে শিক্ষকতা করেন বেশ কিছু বছর। পরে আয়কর বিভাগে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি মধ্য প্রদেশের জবলপুর শহরে বাস করেন। তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করেন। ছোটদের এবং বড়দের জন্য লেখা তাঁর অনেকগুলি বই-ও প্রকাশিত হয়েছে।