সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

ইচ্ছামতীর ১৮ বছর পূরণ হয়ে গেল, এটা আলাদা করে না বলে দিলে বুঝতেই পারতাম না। তবে শোনার পরে ভেবে মনে হচ্ছে, তাই তো - সেই কত বছর আগে চাঁদের বুড়ি প্রথম বলল ইচ্ছামতীর কথা, কিছু লেখার কথা। তখন আমি ছাত্র - মাঝেমধ্যেই সময় করে লেখা দিতে থাকলাম। প্রথম কী যে লিখেছিলাম তা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে মাঝে মাঝে খেলার গল্প, বেড়ানোর গল্প, আরও অন্যান্য বিষয়ে কিছু কিছু লেখা দিয়েছি - সবই নন-ফিকশন, গল্প বা কবিতা লেখার সাহস কোনদিনই হয়নি। তারপর ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবনে ঢোকা, নতুন শহরে নতুন জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়া, আরও বিভিন্ন কাজে অনেক সময় লেখা হয়ে উঠত না, অনেক সময় মাথার ভাবনা গুলোকে গুছিয়ে লিখে ফেলার আগেই ভাবনা গুলো পালিয়ে যেত। এরকম করে অনেক দিন লেখা হল না।

তারপর কিছুদিন আগে চাঁদের বুড়ি আমাকেসহ কয়েকজনকে মেসেজ করল যে ইচ্ছামতীকে আবার জাগিয়ে তোলা, নিয়মিত করা যায় কিনা। এই কয়েক বছরে পৃথিবীতে পরিবর্তন অনেক হয়েছে, হয়ে চলেছে; প্রযুক্তি অনেক ধাপ এগিয়েছে, কিন্তু মানুষের সমস্যা মেটানোর চেয়ে সেগুলো অনেক বেশি ব্যবহার হয়েছে মুষ্টিমেয় মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য, আর যার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশে মানুষের জীবনযাত্রার উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আক্রমণ চলছে। আশার কথা, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে উঠছে, আর তার এক বিরাট অংশে রয়েছে ছাত্রছাত্রীরা, শিশুকিশোররা - আর তা নাড়িয়ে দিচ্ছে শাসকদলের ভিত্তিকে। তাই আমি এখন যেখানে থাকি, আমেরিকার ওরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে, সেখানে যেমন দেখছি এই দেশের আরও অনেক শহরের মত ছাত্র আন্দোলনের রেশ, তেমন দেখছি দিল্লিসহ ভারতের অনেক শহরেও ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধ।

এই পরিবর্তন গুলোর সাথে তাল রেখে চলার দায়বদ্ধতা রয়েছে শিশু, কিশোরদের পত্রপত্রিকাগুলোর - যাতে সমসাময়িক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, বিভিন্ন বিশ্লেষণ তাদের সামনে তুলে ধরা যায়। একশ্রেণীর মানুষ চাইবে এগুলোকে তাদের চোখের আড়ালে রাখতে, এবং সেখানেই এই পত্রপত্রিকাগুলোর - তা প্রিন্ট বা ওয়েব যে কোন মাধ্যমেই হোক - প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ। তাই ইচ্ছামতীর নতুন চলার সাথে আমার একনিষ্ঠ শুভেচ্ছা থাকবে যে এই কাজে সে যেন পরবর্তী প্রজন্মের বন্ধু হয়ে তাদের সাথে থাকতে পারে।

পাভেল ঘোষ পোর্টল্যান্ড, ওরেগন এর বাসিন্দা। কম্পিউটার এর খুঁটিনাটি নিয়ে পড়াশোনা ও কাজকর্ম করার ফাঁকে ফাঁকে দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন; আর্সেনাল ক্লাব-এর একনিষ্ঠ ভক্ত।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা