সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

শুভ জন্মদিন ইচ্ছামতী।

তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বলতর হতে থেকো, স্বীয় মেরুদণ্ডের অর্জিত সম্মান রক্ষা কোরো (হ্যাঁ, পত্রিকারও মেরুদণ্ড হয়, ক্ষেত্রবিশেষে দশের স্বার্থে পত্রিকার মেরুদণ্ডের মর্যাদা রক্ষা করা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে বিবেচিত হয় বইকি!), জ্ঞানের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিও তোমার বন্ধুদের মধ্যে।

তোমার আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প বলব বলে চিঠি নিয়ে বসা আজ। তোমার সঙ্গে আলাপ আমার ২০১৬ সালে। নানান বাঁক ঘুরে নদীর একটা নতুন মোড়ে এসে হাজির হয়েছি সেই সময়ে। আজন্মলালিত বহু অভ্যেসই ভুলেছি, রপ্ত হয়েছে আরও অনেক নতুন অভ্যেস। ফেলে আসা, এসে পাওয়া, নানান মুহূর্ত জমে জমে দিন কেটে রাত আর রাত কেটে দিন হয় তখন। আপাত-গোছানো গেরস্থালির আপাত-ব্যস্ত দিনযাপনে ক্ষণেকের অবসরে তিষ্ঠোতে দেয় না মনের গহীনে ঘাই মারতে থাকা একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন : "তুমি কে? তুমি কী?"

অস্তিত্বের স্বাতন্ত্র‍্যের খোঁজে হাতড়ে বেড়াই এটা-ওটা, নিবিষ্ট হতে চেষ্টা করি রেখে আসা সময়ের বড় আপনার কিছু কাজে। নিজেকে পড়ার অভ্যেস করি। গল্প লেখার শুরু হয়েছিল এভাবেই। গোটাদুয়েক গপ্প লিখে ফেলার পরেই হাজির হয় নতুন প্রশ্ন :

"লিখছি তো, পড়বে কে? কীভাবে পৌঁছোবে লেখা বেশি লোকের কাছে, অচেনা অজানা পাঠকের কাছে?"

আবার হতাশা, আবার খোঁজ। এমন খুঁজতে খুঁজতেই তোমার সঙ্গে দেখা। কয়েকটি কিস্তির বিভিন্ন বিভাগে ঘোরাঘুরি করে এত ভাল্লাগলো কী বলব! গল্প, ছড়া, ইতিহাস, বিজ্ঞান, বেড়ানো, এমনকি হাতের কাজও, কী নেই! একদিন খুব সাহস করে চাঁদের বুড়িকে একখানা ইমেইল করেই ফেললাম, তোমার কাছে লেখা পাঠানোর নিয়ম জানব বলে। তারপর আরও সাহস করে একখানা লেখাও পাঠিয়ে দিলাম, গল্প-স্বল্প বিভাগের জন্য। সেই শুরু।

তুমি আর চাঁদের বুড়ি আমায় যে কতকিছু শিখিয়েছ এই দশ বছরে! সত্যি বলতে কী, নিবন্ধ লেখার হাতেখড়ি এবং হাত পাকানো আমার তোমাদের হাত ধরেই। একটা ছোট্ট অনুচ্ছেদ লিখতে হলে কতটা পড়াশোনা করতেই হয়, পড়ার ইচ্ছে এবং ধৈর্য না থাকলে যে লেখার কথা একেবারেই ভাবতে নেই, এসবই আমার ভাল করে শেখা তোমাদের কাছে। তোমার শৈশব থেকে তারুণ্যের যাত্রাপথে আমি তোমার কতটা কাজে লাগতে পেরেছি জানি না, তবে আমায় যে তুমি সমৃদ্ধ করেছ তা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করি।

চিঠিটা বোধহয় বড্ড বড় হয়ে যাচ্ছে তাই না? আচ্ছা বেশ, ইতি টানি তবে এবার। আসলে কী বলো তো? এই দশ বছরে আমার অভ্যেসে তুমি হচ্ছ সেই নাছোড়বান্দা বন্ধুগুলোর মতো, যারা অনবরত নিজেকে খোঁজার কথা মনে করাতে থাকে। লেখা ছাড়া আর সবকিছুতে আপাত-ব্যস্ত হয়ে পড়া আমাকে জোর করে লিখতে বসিয়ে তুমি বারবার মনে করিয়েছ নিজেকে যেন ভুলে না যাই। এমন বন্ধুর জন্মদিনের চিঠি বড় হবে না বলো?

শুভ জন্মদিন। ভালো থেকো। সৃষ্টিতে থেকো।

ইতি

ধূপছায়া

ভূতপূর্ব ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে স্পেশাল এডুকেটর। কাজের মাঝে সময় পেলেই পড়া আর লেখার আনন্দে মেতে থাকার চেষ্টা করেন। সেই গোত্রের মানুষ, যারা আর কিছু না পেলে ঠোঙ্গায় ছাপা খবরও মন দিয়ে পড়েন।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা