খেলাঘরখেলাঘর

তোমার বন্ধুদের জানাও

FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedin

gablu

তোমরা কি গাবলুকে চেনো? সেই ছোট্ট নেড়া মাথা ছেলেটাকে? যে দুহাত পকেটে পুরে শিষ দিতে দিতে নানারকম কান্ড বাধিয়ে ফেলতে পারে! ক্যান্ডি আর আইসক্রিম খেতে সে বড্ড ভালোবাসে। যারা এখন বেশ বড়, তারা ছোটবেলায় গাবলুর দেখা পেতে "আনন্দমেলা*"র পাতায়, মনে পড়ে কি? কিন্ত গাবলু তো আসলে হেনরি। বাংলা পত্রিকায় কি আর হেনরি নামটা ভাল লাগে? তাই হেনরি কে করে দেওয়া হল গাবলু। এই ধরনের নামের সাথেই বাঙ্গালিদের বেশি পরিচয়। শুধু নামটাই পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র আর সবকিছুই একই আছে। তাই গাবলুর সম্বন্ধে জানতে চাইলে আসলে আমাদের হেনরি সম্বন্ধেই খোঁজ খবর করতে হবে।


কার্ল অ্যান্ডারসন নামে এক আমেরিকান ভদ্রলোক হটাতই এঁকে ফেলেন হেনরিকে। অ্যান্ডারসন আসলে অনেক দিন থেকেই কার্টুন আঁকার পেশায় যুক্ত। উনিশ শতকে যখন দৈনিক খবরের কাগজ নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে, সেই সময় থেকেই তিনি একজন কার্টুনিস্ট। ১৯২৯ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। নিউ ইয়র্ক শহরে অ্যান্ডারসনেরও রোজগার ভাল হচ্ছিল না। শেষমেষ ১৯৩২ সালে তিনি ফিরে এলেন নিজের বাড়িতে। তাঁর মনে পড়ল- আরে, আগে তো আমি ছুতোর ছিলাম!! কাঠের কাজ করতাম!! তাই সেই ৬৪ বছর বয়সে তিনি ঠিক করলেন কাঠের ক্যাবিনেট বানিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। তাহলে হেনরি কোথা থেকে এল?


আসলে কার্টুন ছিল অ্যান্ডারসনের ভালোলাগা আর ভালবাসা। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি একটি সান্ধ্য কার্টুন স্কুলে পড়াতে শুরু করলেন। একদিন পড়াতে পড়াতে তিনি এঁকে ফেললেন এক নেড়া মাথা ভুঁড়িওয়ালা ছেলের ছবি। তাঁর ছাত্রদেরও পছন্দ হয়ে যায় ছেলেটিকে। সাহস করে অ্যান্ডারসন আঁকাগুলি পাঠিয়ে দেন 'স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট 'নামে একটি পত্রিকার দপ্তরে। তাদেরও অ্যান্ডারসনের আঁকা ছোট্ট ছেলেটিকে খুব পছন্দ হয়। ব্যাস, ১৯৩২ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হয়ে যায় 'হেনরি' নামে একটি নতুন কমিক স্ট্রিপ। অ্যান্ডারসন ঠিক করে নিয়েছিলান যে তাঁর কমিক স্ট্রিপের চরিত্ররা খুব বেশি কথা বলবে না, গল্প বলা হবে অল্প শব্দ, কিছু চিহ্ন এবং প্রধানতঃ ছবির মাধ্যমে। এই ধরনের কমিকস কে বলা হয় প্যান্টোমাইম কমিকস (Pantomime comics)। ভাষা জানা না থাকলেও এই ধরনের কমিকস অনায়াসেই বুঝে ফেলা যায়।


দেশে বিদেশে হেনরি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সবথেকে বড় কমিকস প্রকাশনা সংস্থা 'কিং ফিচারস সিন্ডিকেট' এর মালিকের নজরে পরে এই কমিক স্ট্রিপ। তাঁরও হেনরি কে পছন্দ হয়ে যায় আর ছোট্ট হেনরি 'কিং ফিচারস' এর সদস্য হয়ে যায়। সেখানে অ্যান্ডারসন তাঁর দুজন সহকারী ডন ট্র্যাকটে আর জন লিনে কে নিয়ে কাজ শুরু করেন। এক সময়ে বয়সের ভারে অ্যান্ডারসনকে আঁকাআঁকি ছেড়ে দিতে হয়। তাঁর সহকারীরা এগিয়ে নিয়ে যান হেনরির কার্যকলাপ। তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন চরিত্র একেছেন। আরো পরে যাঁরা এই কমিক স্ট্রিপের দায়িত্ব পান, তাঁরা হেনরিকে দিয়ে কথা বলাতেও শুরু করেন।


হেনরি আসলে এক জেদি নির্বিকার ছেলে। সে তার নিজের সমস্যা গুলোর সমাধান করে সব অভাবনীয় উপায়ে। মাঝে মাঝে আবার হেনরি খুব বোকা। একদিন হেনরি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেওয়ালে নিজেরই ছায়া দেখে অবাক হয়ে যায়। সে মনে করে কেউ তার পিছু নিয়েছে!! তড়িঘড়ি নিজের ছায়ার সাথে মারামারি শুরু করে সে, আর নিজের হাত ভেঙ্গে ফেলে!! আবার তার মাথায় আসে সব অদ্ভূত বুদ্ধি। হেনরি তার কাকার জন্মদিনে কেক বানাল...কিন্তু বাড়িতে একটাও মোমবাতি নেই। কি করবে সে? - আর কি? কেকের মধ্যে বসিয়ে দিল একটা বৈদ্যুতিক বাতি!!


তোমরাও কি হেনরির এইসব কান্ডকারখানার গল্প গুলো পড়েছ? তোমরা কি হেনরিকে অন্য কোন নামে চেন? আমাকে জানিও তো !


অ্যান্ডারসন ১৯৪২ সালে লিখেছিলেন 'How to Draw Cartoons Successfully' ।এই বই আমাদের সবার জন্য রেখে গেছেন তিনি। হাতের কাছে বইটা পেলে পড়ে দেখ ...আর জানতে চেষ্টা কর হেনরির জনপ্রিয়তার রহস্যটা।


পূর্বাশা
নিউ আলিপুর, কলকাতা

 

*আনন্দমেলা হল বাংলা ছোটদের পত্রিকা। এটি এ বি পি প্রকাশনালয় কলকাতা থেকে প্রকাশ করে।