সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

বাংলা সাহিত্যে বা বাংলা ভাষায় শিশু ও কিশোর সাহিত্য এবং ছোটোদের পত্রিকার যে ঐতিহ্য, আর দীর্ঘ পথ চলা, তা তো কম কথা নয়, তার নিজেরই বয়স দেড়শ বছর, কি তারও বেশি। সব কিছুর বিবর্তন হতে হতে এই ছোটোদের পত্রিকার বিষয়, চেহারা, চাহিদা, এসবেরও পরিবর্তন দেখলাম। আনন্দমেলার চেহারা বদলে গেল। শুকতারা অন্যরকম হয়ে গেল। নতুন নতুন পত্রিকা এলো। তার সঙ্গে এলো অনলাইন পত্রিকা, বা ওয়েবপত্রিকাও। বড়োদের, বা প্রাপ্তবয়স্কদের পড়ার মতো বেশ কিছু পত্রিকাই চোখে পড়তে শুরু করেছিল ২০০৮-২০১০ ওই সময়ে। কিন্তু ছোটোদের জন্য, ছোটোদের মনের মতো বিষয় নিয়ে, তাদেরও আঁকা বা লেখা থাকবে এমন বিভাগ নিয়ে এত যত্নে করা ওয়েবপত্রিকা প্রথম চোখে পড়ল যেটি... তার নাম 'ইচ্ছামতী'।

সে সময়টা অন্যরকম ছিল। ওয়েবপত্রিকাটি পড়ে, তার কয়েকটি সংখ্যা দেখে খুব ভালো লেগেছিল৷ পত্রিকার সম্পাদকের কাছে সেই ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলুম, কোনো পূর্ব পরিচিতি ছাড়াই।

তারপর কতটুকু লিখতে পেরেছি, তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থেকেছে, ক্রমাগত দেখা, একটি ছোটোদের পত্রিকা প্রায় একক প্রয়াসে কীভাবে একের পর এক সংখ্যা সম্পাদিত ও প্রকাশিত করে গেছে 'চাঁদের বুড়ি'।

দশক বদলাচ্ছে, পাঠকের মন বদলাচ্ছে। এমনিতেই অনেকক্ষেত্রে ছোটোদের দেখি, বই পড়ে কম, ভিডিও দেখে বেশি। গল্পগুলোও সব অডিও স্টোরি হয়ে যাচ্ছে। ছোটোদের কী বলি, বড়োরাও তাই। এমন সময়ে, ছোটোদের জন্য ভাবা পত্রিকা, পাঠক হিসেবে ছোটোদের পাবে তো? লিংক শেয়ার করলে তো বড়োরাই আগে দেখছে। একটা নোবেল উইশ থাকে, সেই ব্যক্তি যেন ছোটোদের পড়ায়, পড়ে শোনায়, তাদের পরিচিত করে, তাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে / বাঁচিয়ে রাখে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস।

ইচ্ছামতী পত্রিকা কিছুকাল বন্ধ থেকেছে, অনিয়মিত থেকেছে, আবার শুরু হয়েছে। দেখেছি, প্রতিকূলতার মাঝেও আবারও যত্ন নিয়ে পত্রিকার কাজ করতে মহাশ্বেতাদি কে। এই যে আন্তরিক প্রয়াস, এও এক ব্রত। নিবেদিত শ্রম। ছোটোদের পত্রিকা এমনিতেই কম, আর তার সঙ্গে যুক্ত পাঠকরা কজলন ছোটো তাতেও সংশয়। তার মাঝেও দেখি, ছোটোরা সাগ্রহে লেখা দেয়, ছবি দেয়। প্রজন্মের মাঝে সেই আশার অংকুর আছে, কিরণ আছে। কোথাও একটা, হয়ত আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আর সেই দিকটা নিয়ে ভাবতে চাইছি না। তাদের উৎসাহ দিচ্ছি না। একটু পরিকল্পিতভাবে এনগেজ করছি না।

ইচ্ছামতী পারছে৷ পারবে।
কঠিন সময়ে, পত্রিকা, পাঠ অভ্যাস, জানার ইচ্ছা, সার্বিক ভালো থাকার একটা উষ্ণ তরঙ্গ।
পত্রিকার প্রতি প্রত্যাশা থাকবে ছোটোদের মনে এই জায়গাটা যেন তাঁরা ধরে রাখেন।
ছোটো মনে প্রশ্ন থাকুক, কৌতূহল থাকুক, জিজ্ঞাসা করার স্পর্ধা বাড়ুক।
তারা সেই সব কিছু আবার করে চিনুক, জানুক... যা বড়োরা ক্রমে ভুলে যাচ্ছে। আর সে অর্থে দেখতে পাচ্ছে না। চাইছেও না।

'যাত্রাপথের আনন্দগান' এক আশ্চর্য আলোকময় শব্দ। ইচ্ছামতীর যাত্রাপথে সেই আনন্দগান, নির্মল পাঠকের কলকাকলিতে আন্দোলিত হোক।

পুরোপুরি কলকাতার মানুষ হলেও, জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের নিবাস এখন ব্যাঙ্গালোর বা ব্যাঙ্গালুরু। কলকাতারই কলেজ থেকে বি টেক পাশ করে এখন একটি বহুজাতিক সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মী। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা থেকেই মাঝে মধ্যে একটু লেখা আর সময় সুযোগ হ'লে ব্যাগ গুছিয়ে কাছে-দূরে কোথাও বেরিয়ে পড়া, এই নিয়েই জয়দীপ। সেই সব বেড়াতে যাওয়ার নানা রকম অভিজ্ঞতা ছোটদের কাছে বলার ইচ্ছে বহুদিন। সেই ইচ্ছাপূরণ করতেই ইচ্ছামতীর ছোট্ট বন্ধুদের জন্য কলম ধরা।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা