
তোমার কি কোনো পোষা কুকুর আছে? কিংবা পথের ধারে লেজ নাড়ানো কোনো কুকুরকে দেখে কখনো ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছ? আজ তোমায় এমন এক চারপেয়ের গল্প শোনাব, যে কেবল পথচলতি কোনো সাধারণ কুকুর নয়, বরং গোটা বিশ্বের কাছে হয়ে উঠেছে ভালোবাসা আর শান্তির এক জীবন্ত প্রতীক। তার নাম আলোকা, আর মানুষ তাকে আদর করে ডাকে ‘পিস ডগ’ (Peace Dog) বা শান্তির দূত।
আলোকা কোনো দামি বা বিদেশি প্রজাতির কুকুর নয়। সে আমাদের দেশেরই অতি সাধারণ একটি দেশি কুকুর (Indian Pariah Dog)। কিন্তু তার কপালে রয়েছে প্রকৃতির আঁকা একটি অনন্য উপহার—ঠিক মাঝখানে চমৎকার একটি হৃদপিণ্ডের (Heart-shaped) মতো চিহ্ন!
২০২২ সালে আলোকা কলকাতার উপকণ্ঠে ঘুরে বেড়ানো এক পথকুকুর ছিল। সেই সময়ে কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু শান্তি ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দিতে খালি পায়ে হাঁটা শুরু করেন। ভিক্ষুদের পদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে আলোকা হঠাৎ করেই তাদের পিছু নেয়। এরপর থেকে সে আর তাদের ছেড়ে যায়নি। কলকাতা থেকে শুরু করে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১,৮০০ মাইল পথ সে ভিক্ষুদের পাশে পাশে হেঁটে অতিক্রম করে। পথের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেও ভিক্ষুরা তার চিকিৎসা করেন, তাকে ভালোবেসে দত্তক নেন এবং নাম রাখেন 'আলোকা' (যার অর্থ আলো বা আলোকপাত)।
ভিক্ষুরা আলোকাকে ভালোবেসে নিজেদের আশ্রমে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আমেরিকা জুড়ে শান্তির পদযাত্রা (Walk for Peace) আয়োজিত হলে ভিক্ষুরা আলোকাকেও তাঁদের সাথে আমেরিকা নিয়ে যান।

আমেরিকাতে টেক্সাস রাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থ (Fort Worth) শহর থেকে তাঁদের পদযাত্রা শুরু হয়। আলোকা ভিক্ষুদের সাথে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ১০টি রাজ্যের বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও রাজপথ অতিক্রম করে। পথ চলতে চলতে সে লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করে নেয়। দীর্ঘ পদযাত্রার পর ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তারা রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি (Washington, D.C.)-তে পৌঁছায় এবং বিখ্যাত ‘লিংকন মেমোরিয়াল’-এর সামনে পদযাত্রা শেষ করে।
আমেরিকাজুড়ে দীর্ঘ ২,৩০০ মাইলের ঐতিহাসিক এই পদযাত্রা সফলভাবে শেষ করার পর, ভিক্ষুরা আলোকাকে নিয়ে টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অবস্থিত তাঁদের মূল আশ্রম ‘হুওং দাও ভিপাসনা ভাবনা সেন্টার’ (Huong Dao Vipassana Bhavana Center)-এ ফিরে আসেন। বর্তমানে (অগাস্ট ২০২৬) আলোকা সেই আশ্রমেই ভালোবাসায় আর শান্তিতে বসবাস করছে।
আলোকা আমাদের শেখায় যে, বড় কাজ করার জন্য কেবল মানুষ হওয়া বা কোনো উপাধির প্রয়োজন নেই। একটি অবোলা প্রাণীও যদি ভালোবাসা আর করুণা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে সে-ও হয়ে উঠতে পারে বিশ্বশান্তির এক বড় পথপ্রদর্শক!
আলোকার বিষয়ে আরও জানতে চাইলে দেখতে পারো তার নামেই তৈরি এই ওয়েবসাইট:
https://www.alokapeacefoundation.org/
ছবি: গুগ্ল্ জেমিনাই
অলোকার ফটোগ্রাফ: অলোকার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
[এই কন্টেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত এবং মানুষ দ্বারা সম্পাদিত]

