খেলাঘরখেলাঘর

গরমের ছুটির পর স্কুল তো খুলে গেছে অনেকদিন, পরীক্ষাও হচ্ছে নিশ্চয় মাঝে মাঝে। স্কুলের গরমের ছুটি শেষ হয়ে গেলে কি হয়, গরমকালের যেনো আর ছুটিই হচ্ছিলো না। ক্যালেন্ডারের পাতায় আষাঢ় মাস তো কবেই এসে গেছে। অথচ আমার বাড়ির আশ-পাশ থেকে তো গ্রীষ্মকালটা যেতেই চাইছিল না! কি গরম, কি গরম - একেবারে ঘেমে-নেয়ে একশা! আমার বাড়ির পাশের কদম ফুলের গাছটা তো আর অত-শত ভাবেনি। সে যেই টের পেয়েছে আষাঢ় এসেছে, অমনি ওই গরমের মধ্যেই ডাল-পালা ভরিয়ে ফেলেছে গোল গোল হলুদ-সাদা ফুলে। ছাতের টবে একলা বেলফুলের গাছটাও দুইখানা মনমাতানো গন্ধে ভরা ফুল ফুটিয়ে ফেললো।

কদম

এদিকে আমি তো "আয় বৃষ্টি ঝেঁ-এ-পে-এ-এ, ধান দেবো মে-এ-পে-এ-এ" গানটা রোজ গাইছি। গাইতে গাইতে এইতো মাত্র কিছুদিন আগে শেষমেষ বর্ষারানী এলেন -ঝিরঝির,ঝুরঝুর,ঝমঝম - কত রকমের বাজনা বাজিয়ে, আকাশ ছাই ছাই রঙের মেঘে ঢেকে, শুকনো পৃথিবীকে ধারাস্নান করালেন। আর অমনি চারিদিকটা কেমন বদলে গেলো। মাটির থেকে উঠে এলো একটা মন-কেমন করা সোঁদা গন্ধ। যে গাছপালাগুলি এতোদিন ধুলোয় ঢাকা পড়ে ছিলো, সেগুলি ধুয়ে মুছে চকচকে হয়ে গেলো। আর তোমার স্কুলে যাওয়ার সঙ্গী হলো রঙচঙে রেইনকোট, বড়দের মাথায় উঠলো ছাতা। ইচ্ছামতীর গত সংখ্যার গল্প "ইস্কুলে ভূত" এর সমুর মতো তুমিও নিশ্চয় রাস্তায় জমা জলে লাফ-ঝাঁপ দিয়ে বাড়ি ফেরো? আমার কাছে লুকিও না - আরে, মা যতই বকুন, আমি তো জানি, মা নিজেও ছোটবেলায় একই কাজ করতেন। আর তোমাকে চুপিচুপি বলি, আমার ছোটবেলায় আমিও করতাম মাঝে মাঝে...আচ্ছা বলো, বর্ষাকালে যদি জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে হাতটাকে নাই ভেজালাম, তাহলে আর বৃষ্টি পড়ে লাভ কি হলো? আর রাস্তার ধারে বয়ে যাওয়া জলে যদি একটা কাগজের নৌকা না ভাসাও তাহলেই বা চলে কি করে? বড়রা এইসব কিছু বোঝেননা, খালি ঠাণ্ডা লেগে যাবে বলে বকাবকি করেন। তবে একটা কথা, যদি খুব জোরে জোরে বৃষ্টি হয়, তাহলে বেশি না ভেজাই ভালো। তবে যদি ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হয়, তাহলে নাহয় একটু জল ঘাঁটাই যেতে পারে। আর তারপরে ইলিশমাছ ভাজার সাথে গরমাগরম খিচুড়ি হলে তো কথাই নেই - ঠাণ্ডা- সর্দি আর ধারকাছ ঘেঁষবে না।

ছাতা

তুমি নিশ্চয় এতক্ষনে ভাবছো- চাঁদের বুড়ি বেশ লোক! একে তো এত্তো দেরি করে বর্ষা সংখ্যা নিয়ে এলো, আর এসে থেকে খালি নানান গল্প করছে। আসলে কি জানোতো, আমার বাড়ির আশেপাশে তো বর্ষা অনেক দেরীতে এলো, আর ইচ্ছামতীও বললো বৃষ্টির হাত না ধরে যাবোনা...তাই আমরাও এলাম সময়ের কিছু পরে। গত কয়েকদিনের কয়েকটা ঘটনায় আমাদের মনও একটু খারাপ ছিল।  সেই যে গত মে মাসে শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গে একদিন আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে এলো সাইক্লোন, যার নাম 'আয়লা' -ভেঙ্গে দিলো কত অসহায় মানুষের ঘর-বাড়ি, ভাসিয়ে নিয়ে গেলো সবকিছু। সেই ঝড়ে ভেঙ্গে গেলো  সুন্দরবন অঞ্চলের নদীর বাঁধ, আর চাষের জমিতে ঢুকে পড়ল নোনা জল। এর ফলে কি হল বলতো - ওই জমিগুলিতে আগামি কয়েকবছর আর চাষ করা যাবে না। ফলে আর ফসল ও ফলবে না, ফলে চাষীভাইদের উপার্জনও থাকবে না। নতুন নতুন উপার্জনের খোঁজে হয়ত বা ঘর ছাড়তে হবে তাঁদের। তারপর এইতো মাত্র কিছুদিন আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন সঙ্গীতজগতের দুইজন বিশ্ববিখ্যাত তারকা। প্রথমে গেলেন বর্ষীয়ান ভারতীয় সরোদ শিল্পী উস্তাদ আলি আকবর খাঁ সাহেব। আর তারপরে চলে গেলেন পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী - মাইকেল জ্যাকসন। তুমি কি আলি আকবর খাঁ সাহেবের সরোদ বাজানো শুনেছ? বা মাইকেল জ্যাকসনের সেই বিখ্যাত গান -'হিল দ্য ওয়ারল্ড'? - যে গানে তিনি বলেছিলেন সারাটা পৃথিবীকে সাজিয়ে তুলতে হবে সবার ভালো থাকার জন্য - এখনকার প্রজন্ম, আগামি প্রজন্ম, সবার জন্য...।জানোতো- সঙ্গীত হল এমন এক শিল্প, যেটা কিন্তু ভাষার ব্যবধান ঘুচিয়ে মানুষকে কাছাকাছি করে দেয়। উস্তাদ আলি আকবর খাঁ সাহেব এবং মাইকেল জ্যাকসন - দুইজনে সঙ্গীতের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার সাধনা করতেন, কিন্তু দুজনেই ছুঁয়েছিলেন সারা পৃথিবীর মন। তাঁদের দুজনের  উদ্দেশ্যে রইল আমাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।
কদম

এবার আমার কলম থামাই। তুমি বরং ইচ্ছামতীর পাতাগুলিকে উল্টে-পাল্টে দেখো এবার। সব নিয়মিত বিভাগ গুলিই আছে এবারো। পড়তে ভুলোনা রাসকিন বন্ডের অনুবাদ গল্প। আর "ইচ্ছে মতন" বিভাগে অবশ্যই পড়ো ইচ্ছামতীর বন্ধু ঋদ্ধির লেখা গল্পখানা।

শেষ করার আগে ইচ্ছামতীর নতুন বন্ধুদের জন্য কিছু পুরানো দরকারি কথা আরেকবার বলে নিই। এই ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে  Unicode font ব্যবহার করে। তোমার কম্প্যুটার এ Unicode font না থাকলে, বা ব্রাওজার বাংলা বর্ন ঠিক ভাবে দেখাতে না পারলে, এই পাতার ওপরের বাঁ দিকের দ্বিতীয় লিঙ্কটা ভালো করে পড়ে নাও। এই ওয়েবসাইট সবথেকে ভাল দেখা যাবে Firefox Browserএ। Internet Explorer 6  & 7 browser দুটি একটি অক্ষর ঠিক করে দেখাতে পারছে না। তাই আমরা "উত্‌সব", "হঠাত্‌" এই সব শব্দে 'খন্ড ত' এর বদলে 'ত ' ব্যবহার করেছি। না হলে দেখতে খারাপ লাগছে।  যাঁরা  সব খুব গম্ভীর চশমাআঁটা পাঠক, ভুল বানান দেখলেই রেগে যান, তাঁরা নিশ্চয় আমাদের ওপর এই কারণে রেগে যাবেন না।

ভালো থেকো। তোমার জন্য রইলো আমার আঁচলভরা স্বর্নচাঁপা, কাঁঠালীচাঁপা, কামিনী, যুঁই, গন্ধরাজ আর হাস্নুহানার সুগন্ধ।

চাঁদের বুড়ি

এই লেখকের অন্যান্য রচনা