ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা

 chithi

মাল্যবান, কলকাতা

বয়ে যাক ইচ্ছামতী

লিঙ্কে ক্লিক করতেই চমকে উঠেছি,পরমুহুর্তেই খুশীতে ভরে উঠেছে মন । এতো সুন্দর প্রচ্ছদ ! হাতে আঁকা ছবি। গ্রীস্মের অনুষঙ্গে আম, লিচু,জামরুল, কুলফি, আইসক্রীম এমনকি সুন্দর রঙীন ছাতা দিয়ে আমাকে মুহুর্তে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে ছোটবেলার সময়ে। যাকে প্রথম দর্শনে ভালোলাগা বলে তাই ঘটলো আমার। ইচ্ছামতীকে ভালো লেগে গেলো। চাঁদের বুড়ী তার কথনে বলেছেন ছোট্টবেলার হারিয়ে যাওয়া আম,জাম,লিচুর বাগানে হারিয়ে যাবার কথা।  সত্যি বলতে কি, ইচ্ছামতী পড়তে পড়তে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম আজকের জটিলতার জীবন থেকে দূরে,ছোট্টবেলার সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে।
প্রথম বাহবা আমি অবশ্যই দেবো চাঁদের বুড়িকে তার কথনের জন্য। ইচ্ছামতীর গ্রীস্ম সংখ্যার জন্য চাঁদের বুড়ী  ছোটদেরকেই  বাংলার গ্রীস্মের কথা বলেননি,যারা বয়েসে বড় অথচ মন সর্বদা আনচান করে সেই দুষ্টুমির মিষ্টি দিনগুলির জন্য,  তাঁদের জন্যও বলেছেন। এই গরমের ছুটিতে ঢিল মেরে আম পাড়ার ,সারা দুপুর বাগানে ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি, শাসনকে পরোয়া না করে মা-বাবার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে,বেদম মার খেয়েও টইটই করা, ডাংগুলি খেলা, পুকুরের জলে দাপাদাপি করে চোখ লাল করে ফিরে মায়ের কানমলা এসব স্মৃতি ফিরে এলো তাঁর অনবদ্য কথনে। গরমের ছুটি মানেই মামার বাড়ি,মাসীর বাড়ি কাটিয়েছি আর আম কাঁঠালের রস গড়িয়ে পড়েছে কব্জি থেকে কনুইয়ে। কী দিন ছিলো সেইসব ! সম্পাদকীয় বা চাঁদের বুড়ী’র কথন পড়ে কী একটু হাহাকারও বেজে উঠলো না আমার বুকে ?
আন্তর্জালে বাংলা ভাষায় ওয়েব ম্যগাজিন নেই নেই করেও বেশ কয়েকটা। কিন্তু ছোটদের জন্য ওয়েব ম্যাগাজিন ? আমার তো বিশেষ চোখে পড়েনি। ইচ্ছামতী ছাড়া আর একটি মাত্র ছোটদের পত্রিকা দেখেছি আমি। কিন্তু ইচ্ছামতীর মত এতো পরিকল্পিত বিষয়সূচী দেখিনি। ছড়া-কবিতা,ছোটদের উপযোগী গল্প,ছোটদের নিজের কলমে ভ্রমণ কাহিনী,আঁকিবুকি ছাড়াও এতো প্রয়োজনীয় বিষয় এর সূচীপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে ছোটরা ইচ্ছামতী থেকে শুধু পাঠের আনন্দই পাবে না তাদের জানার পরিধিও ব্যাপ্ত হবে।
ছড়া ও কবিতা বিভাগের শুভ্রজিত চক্রবর্তী ও জামাল ভড়ের ছড়া দারুণ মজাদার ও মন খুশী করা। গল্প-স্বল্পে ‘ইস্কুলে ভূত’ গল্পটির জন্য রুচিরাকে আমার অভিনন্দন । ভূতের গল্প ছোটদের বরাবরই আকর্ষণ করে,কিন্তু রুচিরা যেভাবে ভূতের গল্প শোনালেন আমাদের তা যে নিছক ভূতের গল্পের চেয়েও একটি উত্তরণের গল্প হয়ে উঠেছে সেকথা অবশ্যই বলতে হবে। আরো বলতে হবে যে,  শ্রী সন্তোষ কুমার রায়ের আনমনে বিভাগে লিখিত তাঁর ছোটবেলার স্মৃতিচারণ,ইচ্ছেমতন বিভাগে সোহিনী লিখিত জগ্ননাথ ধামের ভ্রমণ কাহিনী,সাইমন আর ফার্গালের সাইকেল ভ্রমণের গল্প,ফ্লোরিডার ক্যাভার্ন্স পার্কের গল্প ইচ্ছামতীর গ্রীস্ম সংখ্যার আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে। আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাবো সম্পাদিকা মহাশ্বেতা রায়কে ছবির খবর বিভাগের চিলড্রেন অফ হেভেন চলচ্চিত্রটির সম্পর্কে লিখবার জন্য। সত্যি বলতে কি সিনেমাটি আমার অজানা ছিলো। ইচ্ছামতী দেখার পর সিনেমাটি দেখি। আর এই ছবিটি আমার অনেকদিন মনে থাকবে। মহাশ্বেতা এইরকম কিছু অনন্য চলচ্চিত্রের কথা শোনাবেন এই অপেক্ষায়  থাকবো। যেমন অপেক্ষায় থাকবো,সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের লেখাটির জন্যে। আগামী সংখ্যায় তিনি আমাদের ধ্রুপদী চলচ্চিত্রের সম্পর্কে বলবেন ,যেমনটি এই সংখ্যায় তাঁর অনবদ্য লেখাটিতে বায়োস্কোপের কথা শুনিয়েছেন। পরশমনি,জানা অজানা,এক্কা দোক্কা, কমিকস কাহিনী নিয়ে আলাদা করে কিছু বলবার নেই। সবলেখাগুলিই খুবই প্রয়োজনীয় ও সাবলীল। এই লেখাগুলি প্রকাশ করে সম্পাদিকা ইচ্ছামতীর চরিত্র  সম্পর্কে পাঠককে অবহিত করেছেন। একটি ছোটদের পত্রিকা যে শুধু ছড়া,কবিতা ও গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার বিষয়বস্তু এমনভাবে বিন্যস্ত থাকবে যেন ছোটরা পাঠের আনন্দ যেমন পাবে তেমন তাদের জানবার পরিধিও বৃদ্ধি পাবে। যেমন এই লেখাটির উল্লেখ আমি অবশ্যই করবো,কল্লোল লাহিড়ী লিখিত শ্রী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পর্কিত লেখাটি। এই মানুষটি সম্পর্কে আজকের ছোটরা সম্ভবত কিছুই জানে না। এদের পাঠ্যপুস্তকেও ওনার সম্পর্কে জানার অবকাশ নেই মনে হয়। আমাদের দেশের এইরকম কত গুণী মানুষ সম্পর্কে বা কত ভালো ভালো বই সম্পর্কে আজকের ছোটরা অবহিত নয় । আমি শ্রী লাহিড়ীকে লেখাটির জন্য আলাদা করে ধন্যবাদ দিতে চাই।
  ইচ্ছামতীর লেখাপত্তরের হরফ গুলি বেশ বড় বড় যাতে ছোটদের কোনো অসুবিধে না হয়। এজন্য সম্পাদিকার ধন্যবাদ প্রাপ্য,কিন্তু বাঁদিকে ছোটদের উপযোগী রঙচঙে  বাটন করা উচিৎ ছিলো তাহলে আরো আকর্ষক হোতো।  ইচ্ছামতীর জন্য আমার শুভেচ্ছা রইলো। এভাবেই বয়ে যাক ইচ্ছামতী আর তার রেখে যাওয়া পলিমাটিতে সমৃদ্ধ হোক আমাদের মনোভূমি।

 

পার্থ প্রতিম ঘোষ, কলকাতা
thank u very much for gifting us with such an online children magazine...
my 9yr niece [Sampurna Ghosh] follows it regularly & enjoys it very much..

সৌমি দত্ত, সম্পাদক, কর্ণিকা
ইচ্ছামতী আমার খুব খুব ভালো লাগে...

মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, জলপাইগুড়ি
স্বচ্ছতোয়া ইচ্ছামতীতে ডুব দিয়েছিলাম...অনেক অনেক বছর উজিয়ে ফিরে গেছিলাম সেই পুরোনো স্কুলের দিনগুলোয়...সেই যে আনন্দমেলায় শীর্ষেন্দুর ভূতগুলোর সঙ্গে দেখা হবার প্রতিক্ষায় কেটে যেতো প্রহর, সেইসব দিনগুলো ফিরিয়ে দেবার জন্য সম্পাদিকাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা...
 

নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা