চাঁদের বুড়ির চরকা চিঠি ১৪২৩/০৪ - আজ ঈদ-উল-ফিতর্‌

চাঁদের বুড়ির চরকা চিঠি ১৪২৩/০৪ -  আজ ঈদ-উল-ফিত্‌র্‌

এই সময়টা পারত হতে ভরা ভালো আলোয়
যদি থাকতো মিলে মিশে খয়েরি-সাদা-কালোয়,
সব চাওয়া যে হয়না সত্যি চাও না তুমি যতোই-
এই সময়টা নয় যে গো ঠিক কারোর মনের মতোই...

হ্যাঁ, এই সময়টা ঠিক আমাদের কারোরই মনের মত নয়; খুব , খুব খারাপ একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি। চারদিক থেকে প্রথমেই যে খবরগুলো বেশি করে কানে আসছে, চোখের সামনে আসছে, সেগুলি সবই খারাপ খবর। ভাল খবর নয়। গত কয়েকদিনের মধ্যে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে একের পর এক মৃত্যু ও ধ্বংসের খবর। গত এক মাস ধরে চলছিল ইসলাম ধর্মের মানুষদের কাছে সবথেকে পবিত্র মাস- রমজান মাস। আজ আকাশে দেখা দিয়েছে ঈদের চাঁদ। আনন্দের এই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। এরই মধ্যে পৃথিবীর তিনটে দেশে ঘটে গেল দুঃখজনক কতগুলি ঘটনা। উগ্রপন্থীদের আক্রমনে বাংলাদেশে, ইরাকে আর সৌদি আরবে মারা গেছেন অনেক মানুষ, আহত হয়েছেন আরো অনেক মানুষ। টেলিভিশনে, ইন্টারনেটে, খবরের কাগজে শুধুই দেখতে পাচ্ছি স্বজন হারানো মানুষের কান্না, পড়তে পারছি তাঁদের অসহায় অবস্থার কথা।

ইচ্ছামতীর সাথে যে উগ্রপন্থীদের নিয়ে, বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে, মৃত্যু নিয়েও কথা বলতে হবে, সেটা চাঁদের বুড়ি আগে ভাবেনি। কিন্তু নেই -নেই করে ইচ্ছামতীও বেশ বড়ই হয়ে গেছে, তোমার মত। চারিদিকে এইসব খবর দেখে সেও জানতে চায়- কেন এমন হচ্ছে? কেন কিছু মানুষ উগ্রপন্থী হয়ে গেছে? কেন তারা নির্বিচারে অন্য মানুষদের মেরে ফেলছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমার সব জানা নেই। বেশিরভাগ মানুষেরই জানা নেই। তোমার বাড়ির বড়দেরও সবটুকু জানা নেই। ইচ্ছামতীকে যে উত্তর দিলাম, সেটাই তোমাকে আরো একবার বলি- মানুষ যখন খারাপ কাজ করতে শুরু করে, তারা সবসময়ে জানেও না বা বুঝতেও পারে না তারা কেন এই খারাপ কাজ করছে। বেশিরভাগ মানুষের কোন খারাপ কাজ করার পেছনে থাকে অনেক জটিল কারণ- সেইসব কারণ নিয়ে আলোচনা এই ছোট্ট পরিসরে সম্ভব নয়; আর তার মধ্যে বেশ কিছু ব্যাপার তুমি হয়ত বড় হলে বেশি ভাল বুঝতে পারবে। শুধু এটুকু জেনে রাখো- ধর্মের নামে, অন্ধ বিশ্বাসের নামে, জাতের দোহাই দিয়ে কোন মানুষ অন্য কোন মানুষের ক্ষতি করতে চাইলে, তাদেরকে মেরে ফেলতে চাইলে সেটা ঘোর অন্যায়। তোমার কোন বন্ধুর সাথে ধর্ম নিয়ে, জাত-পাত নিয়ে কক্ষনো ঝগড়া-বিবাদ করবে না।তাতে সেও আনন্দে থাকবে না, তুমিও খুশি থাকবে না।

ইচ্ছামতীকে আরো বললাম, এই পৃথিবীতে এখনো খারাপ লোকেদের থেকে ভাল লোকেদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই তো এত কষ্টকর সব খবর শোনার পরেও আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে থাকি, দিন বদলাবে, সময় বদলাবে, বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা হানাহানি-কাটাকাটি থেমে যাবে একদিন। থামাতে একজোট হবে তুমি আর তোমারই যত বন্ধুরা...। সেই আশা নিয়েই , এই নিরানন্দের মাঝেও , ইচ্ছামতী আর আমি তোমাকে আর তোমার পরিবারকে জানাই ঈদ-উল-ফিতর্,- এর শুভেচ্ছা। একে অপরকে ভালবেসে উপহার দেওয়া-নেওয়ার এই আনন্দের দিনে, এস আমরা সবাই সবাইকে কথা দিই - ধর্মের নামে, জাতের নামে, নাগরিকত্বের নামে কারোর সাথে কোন অন্যায় আচরণ করব না। কেউ কোন অন্যায় করছে দেখলে তার প্রতিবাদ করব। আমরা সবাই যদি মনে মনে এই রকম ভাবনায় বিশ্বাস রাখি, তাহলে নিশ্চয় একদিন বদল ঘটবে।

এদিকে আষাঢ় মাস প্রায় শেষ হতে চলল, অথচ বেশিরভাগ জায়গাতেই ভাল করে বৃষ্টি হচ্ছে না। কোন কোন জায়গায় তো খরার কবলে পড়ে রয়েছেন চাষীভাইরা, সময়মত চাষ করতে পারছেন না। মানুষ কত বোকা দেখ, বৃষ্টি আনতে পারে না, বন্যা বা ভূমিকম্প রুখতে পারে না, প্রকৃতির সাহায্য ছাড়াএকফোঁটাও খাবার তৈরি করতে পারে না - প্রকৃতির হাতে নেহাতই অসহায় শিশুর মত অবস্থা, অথচ কত সহজে অন্যের প্রাণ নিতে পারে। এহেন আচরণ এই দুনিয়ার অন্য কোন প্রাণী করে না !

দেখলে, আবার অন্য কথায় চলে গেছিলাম ...যাইহোক, যেটা বলছিলাম... বৃষ্টি নেই তো কি হয়েছে, ক্যালেন্ডার মাফিক আষাঢ় মাস মানে তো বর্ষাকাল। আর বর্ষাকালের সাথে কোথায় যেন ভূতের গল্পের একটা সংযোগ আছে। তাই না চাইতেও চাঁদের বুড়ির ঠিকানায় এসে হাজির হয়েছে কয়েকটা ভূতুড়ে গল্প - ইচ্ছামতী মনে মনে চেয়েছিল কিনা জানা নেই অবশ্য! সেইসব একটু একটু গা শিরশির করা গল্প আর জীবনের আশায় ভরা আরো কিছু লেখালিখি হাজির হবে এই মাসে; তাই ইচ্ছামতীর দিকে চোখ রাখতে ভুলোনা।

ভাল থেক।


ছবিঃ অর্কপ্রিয়া কোলে

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা