ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা

আচ্ছা, তোমরা কি জানো যে, যখন তুমি কিছু ভাবছ , ঠিক তখন তোমার মাথার ওপর দিয়ে একটা প্লেন চলে গেলে ওটা…মানে ভাবনাটা সত্যি হয়?...জানো না?আরেকটা দেখো- যে তোমরা সাত দিন ধরে সাতটা স্বাদের খাবার খাচ্ছ। এক একটা স্বাদে এক এক রকম মনের ভাবনা হয়? না? এটাও না? তাহলে তো তোমাদের 'রেইনবো জেলির' রিভিউটা পড়তেই হবে।

শোনো- 'রেইনবো জেলি' তে ছিলো ঘোঁতন, ওর মামা গন্ডারিয়া আর পরিপিসি। পরিপিসির ব্যাপারে পরে আসছি। সিক্রেট। আমার গন্ডারিয়াকে খুব বাজে লেগেছে কারণ ঘোঁতনের বাবা মা মরে গেছিলো অথচ ও ওর ভাগনেকে মারত, ছিঃ ছিঃ করত, ওকে স্কুল ছাড়িয়ে দিয়েছিল কারণ ও একজন স্পেশ্যাল চাইল্ড ছিল। গন্ডারিয়া ঘোঁতনকে মারতে মারতে পচা তরকারি খাইয়েছিল জন্মদিনের দিন। সবসময় ওকে একটার পর একটা জিনিস করতে বলত। যেমন 'চা কর’, 'খাবার দে এক্ষুনি' প্রভৃতি। এরকম করেই দিন কাটে। পপিন্স ওর পাশের বাড়িতে থাকত। ও খুব মিষ্টি একটা মেয়ে।হঠাত ওর জন্মদিনের দিন ঘোঁতন শুনতে পেলো যে কেউ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। ও চমকে গেল। ও আস্তে আস্তে গেল। গিয়ে বলল ' ত-ত-ত- তুমি ক-ক-ক-কে?' তখন আরো জোরে ধাক্কা দিয়ে বলল ' দরজা খোলো ঘোঁতন, পরে কিন্তু পস্তাতে হবে।' তখন ঘোঁতন দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল। তখন একজন মহিলা ঢুকল। ঘোঁতন বলল 'তুমি কে?' তখন সে বলল 'আমার নাম পরি ধর, তুমি আমায় পরি পিসি বলে ডাকতে পারো' 'এখন আমার জন্য একটু দার্জিলিং টি আর কুকিস আনো'। ও দৌড়ে গিয়ে দোকান থেকে আনলো প্লেইন চা আর প্রজাপতি বিস্কিট। পরি পিসি খেতে খেতে ভাঁড়ার ঘরে থাকতে গেলো। বলল 'এই আমার সাত মশলার বাক্স'। বলে খুলল ওই বাক্স। পরের দিন ঘোঁতন যখন বাজারে যাবে তখন পরি পিসিকে জিজ্ঞেস করল 'কিছু লাগবে?' তখন জবাব দিলো 'ডিম'। ও আনলো বাড়িতে পরিপিসির কাছে। পরিপিসি ডিম নিয়ে বানালো পুডিং। এরম করেই দিন কেটে যায়। আর গণ্ডারিয়া তখন রোবট নিয়ে পড়ে থাকে। একদিন হঠাত পরিপিসি রোবটের রুমটা অন্ধকার করে দিলো। দিয়ে গন্ডারিয়ার ওপরে একটা টর্চ ফেলল, ও তখনি হিপনোটাইসড হয়ে গেলো। তখন পরিপিসি প্রশ্ন করতে লাগল। গন্ডারিয়া ঠিকঠাক উত্তর দিলো। সেই বুঝে পরিপিসি বানালো রেইনবো জেলি। গন্ডারিয়া সেটা খেয়েই ঘোঁতন কে বলল 'আমি তোকে কষ্ট দিয়েছি, আমাকে তুই প্লিজ ক্ষমা করে দে'। ঘোঁতন 'ঠিকাছে ঠিকাছে' বলল।

পরিপিসিই তো ওকে বলেছে যে ভাববার সময় যদি প্লেন মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় তাহলে সেটা সত্যিই হবে। ঘোঁতন দেখলো সেটা সত্যিই হয়। পরিপিসিই গন্ডারিয়াকে সাত দিন ধরে সাত রকম স্বাদের সাতটা খাবার দিয়ে তারপর ওকে হিপনোটাইস করে সত্যিটা জেনেছে যে ওর বাবার বানানো রোবটের মধ্যে যেটা আছে, সেটা ও গুপ্তধন ভেবে চায় আর সেটা পেলেই ঘোঁতনকে শেষ করে ফেলবে। পরিপিসির বানানো রেইনবো জেলি খেয়ে ও সব কিছু ভুলে গেল। সাতটা দিন পেরিয়ে গেল, তখন ঘোঁতনের ঘুম ভাঙলো। উঠে দেখলো, ও যেরকম ভাবে জন্মদিনের দিন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো, সেরকম ভাবেই আছে। ও গিয়ে যখন গন্ডারিয়াকে চা দেবে তখন দেখলো গন্ডারিয়া মারা গেছে। ও খুব কষ্ট পেলো। ও রোবটের কাছে গেল। ওর মনে পড়লো পরিপিসির শেখানো 'সূর্যের সাত রঙ, সাত রঙ' -ও সেটা পাসওয়ার্ড হিসেবে দিলো আর রোবটটা ড্রয়ার খুলে দিলো। সেখানে ওর বাবার লেখা একটা চিঠি পেলো। এটা ভুলো না যে ঘোঁতনের বাবা কিন্তু একজন সায়েন্টিস্ট ছিলো। ওখানে লেখা ছিল যে ওর মা চেয়েছিল যে ও একজন বড় কেউ হয়। ওর মনে একটা আশা হল। পরের দিন ও বাইরে বেরিয়েছে যখন, পপিন্সের সঙ্গে দেখা হলো। ঘোঁতন পপিন্সকে ওর কার্ডবোর্ডের মুকুটটা পরিয়ে দিয়ে বলল ' তুই আমার প্রিন্সেস'। দিয়ে চলে গেলো। বলতে ভুলে গেছি যে ৭ই আগস্ট ঘোঁতনের জন্মদিনের দিন ওর সাথে যখন পপিন্সের দেখা হয়েছিলো, পপিন্স ওকে একটা ড্রয়িং বুক দিয়েছিলো। ঘোঁতন তখন ওকে 'থ্যাঙ্ক ইউ' বলেছিলো।

আমার সিনেমাটা খুব ভালো লেগেছ। আমার তো মনে হয়েছিল যে পরিপিসি ওর মা কারণ না হলে ও কী করে পাসওয়ার্ড জানল ? তোমাদের কী মনে হল? আর প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে? সব আমাকে আবার লিখে জানিয়ে দিও ইচ্ছামতীতে চরকা চিঠিতে।


মরমিয়া মুখোপাধ্যায়
মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি
চতুর্থ শ্রেণী
বিভাগ-ক

নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

আরও পড়তে পারো...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা