ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
ভুটানি বন্ধু

তখন ভুটানে সাময়িক বদলিতে ছিলেন আমার বর। আমিও কাটিয়েছি আড়াই মাস। ভারি মজার ছিল দিনগুলি। মেসে থাকতাম। রান্না নেই, বান্না নেই। কেবল চাঁছারির ওপর বাইরের দেওয়ালে প্লাস্টার আর ভেতরের দেওয়ালে চট আটকে চুনকাম করা ভঙ্গুর ঘরটুকু একটু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা। পুরো মেসটার নির্মাণই এরকম যাতে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সব ভেঙে সাফ করে দেওয়া যায়।

আমি যাওয়ার আগে থাকতে মেসে একটা কুকুর ছিল। তাকে সবাই টাইগার বলে ডাকত। সে যেন মেসের বাসীন্দা বা নিয়মিত যারা যাওয়া আসা করে এমন সবার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিল। কেউ অন্ধকারে একা হাঁটলে তার পিছু পিছু গিয়ে নিরাপদে পৌঁছতে দেখে তবে ফিরে আসত। অন্য পাড়ার ঝাঁকবাঁধা কুকুরদের তো চেঁচামেচি করে আমাদের কাছে ঘেঁসতেই দিতে চাইত না।

মেসের পেছন দিকের পাহাড়ের গায়ে একটা সম্পন্ন ভুটানি পরিবারের বাস। অনেক ভূসম্পত্তির মালিক; ওদের 'দাসো' বলা হোত। একদিন তাদের বাড়ির দুজন সদস্য মেসের লন পেরিয়ে যাওয়ার সময় ডাক দেয়, "কশা –ক্লক ক্ল ক্লক"। টাইগার দৌড়ে এসে আহ্লাদি ভঙ্গীতে তাদের গায়ে সামনের দুপা লাগিয়ে দাঁড়াল। একটু আদর খেল। কিন্তু সঙ্গে গেল না। ততদিনে আর একটি কুকুরের আমদানি হয়েছে, আমি যাকে 'ভূতো' বলতাম, বাকিরা 'রকি'। টাইগার ভূতোর সঙ্গে খেলায় ফিরে গেল।

আমি অবাক হয়ে আমার বরের এক সহকর্মী ব্যানার্জীদাকে জানতে চাইলাম, "টাইগার 'কশা' শুনে ওদের সঙ্গে অমন ঘণিষ্ঠতা দেখাল কেন?" ব্যানার্জীদা বলল, "ও তো ওদেরই পোষা কুকুর। আসল নাম কশা। সরকার একবার একঝাঁক রাস্তার কুকুরের অ্যাটাক থেকে ওকে বাঁচায়। লাঠি হাতে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পায়ের সামান্য ফার্স্ট-এইড করে দিলাম। তখন থেকে ও সরকারকে তো বটেই, আমাদের সবার খুব অনুগত। সরকার ওর নাম দিয়েছে টাইগার"। আমার একটু আশ্চর্য লাগল। একটা কুকুর এভাবে দুটো নাম, যৌথ মালিকানার সঙ্গে চমৎকার খাপ খাইয়ে আছে তো।

একদিন আমি গেছি সিতেন নামে একটি ভুটানি মেয়ের ডাকে তাদের বাড়িতে। উৎকট গন্ধের জন্য কিছু মুখে দেওয়া তো দূর, মনে হচ্ছে পালিয়ে বাইরে এসে একটু শ্বাস নিই। কিন্তু সিতেনের মায়ের আন্তরিকতায় বেশ কিছুক্ষণ বসতে হয়েছিল। বিদঘুটে স্বাদ ও গন্ধের চায়ে চুমুকও দিতে হয়েছিল। ফিরব বলে দরজার বাইরে এসে দেখি সিঁড়ির মুখে বসে আছে টাইগার। আমি নামতে শুরু করতেই আমার সঙ্গ নিল। একেবারে মেসে গিয়ে আমি নিজের ঘরে পৌঁছনোর পর ও নিজের কাজে গেল। ও যে কখন আমার পিছু নিয়ে সিতেনদের বাড়িতে পাহারায় বসেছিল, খেয়ালই করিনি। আমি কুকুরপ্রেমী না হলেও টাইগারকে ভালোবেসে ফেললাম।

ভূতোটা একটু হাঁদা আর হ্যাংলা মতো। কুকুরের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য শোনা গেল ভুটানরাজের সরকার থেকে বিষ দিচ্ছে। ওরা কুকুরকে যা ভালোবাসে তাতে খবরটায় খানিক আশ্চর্যই লেগেছিল। তবু সাবধানের মার নেই। সকাল থেকে মেসে টাইগার, রকি (ভূতো) বেপাত্তা। টাইগার অনেক বুদ্ধিমান কুকুর। আমাদের মেস আর হয়তো বা ওপরের দাসোদের দেওয়া খাবার ছাড়া আর কিছু বড় একটা মুখে তোলে না। কিন্তু ভূতোটা গায়ে গতরে বেড়ে উঠলেও পেটুক বলে ওর জন্যই চিন্তা হচ্ছিল। মেসে পাওনিয়ারের কাজ করা বর্মণ নামে একটি আসামী ছেলে 'রখি'কে বড় ভালোবাসত। সে নিজের ছেলে খোঁজার মতো করে তল্লাট চষে ওদের পাকড়ে নিয়ে এল। তখন জানা গেল বিষের খবরটা সম্ভবত ঠিক ছিল না।

পেছন দিকে আর একটা নির্জন পাহাড় ছিল। একবার ব্যানার্জীদা, সরকার, আমার স্বামী আর আমি চারজন গেলাম সেখানে চড়ে চার পাশটা একটু নিরীক্ষণ করব বলে। হাতে চারটে লাঠি নিয়ে আরোহণ শুরু করলাম। তখনও রকির আমদানি হয়নি। আর একজন আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এল। যেন ধর্মের কুকুর পাণ্ডবদের সাথে বৈকুণ্ঠের পথে। যথারীতি আমাদের সন্ধ্যের শুরুতে ডেরায় ফিরিয়ে তবে তার কর্তব্য শেষ হল। কিন্তু টাইগারের আর একটি শাহসিকতার উল্লেখ না করে পারছি না। ওকে নিয়ে আমরা কজন নদীর তীরে নেমে একটা ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে ওপারে ঘুরে আসার চেষ্টা করছিলাম। নোংরা জল থিম্পু নদীতে সরাসরি নিক্ষিপ্ত হয় না। তিন ধাপে পরিশ্রুত করে তবে নদীর জলে মিশতে দেওয়া হয়। খান চারেক দুষণের মাত্রানুযায়ী জলাধার রয়েছে নদীর তীরে। সেগুলো পাশ কাটিয়ে পেরিয়ে বেশ হেঁটে আসছিল সঙ্গে সঙ্গে। আমরা সেতুতে চড়তেই সেটা ইশৎ দুলতে শুরু করল। ব্যাস্! অমনি তার চেঁচানি শুরু। কিছুতেই তাকে ব্রীজটার ওপর চড়ানো যায়নি। আমরা ওপারে যেতে দেখে সে মরিয়া হয়ে চেঁচিয়ে ফিরে আসার জন্য কাকুতি মিনতি করতে লাগল। অগত্যা বেচারার উদ্বেগ না বাড়িয়ে আমরা বীর ব্যাঘ্র-পুংগবের সঙ্গে ফিরেই এলাম। নিজেও গেল না, আমাদেরও যেতে দিল না।

সেবার আমরা পাশের একটা চেপ্‌টা পাহাড়ে চড়ব বলে দুজন বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমরা দুজনেই ছিলাম, আর কেউ সঙ্গে আসেনি। বেশ গল্প করতে করতে উঠছি। আমি উঁচু জায়গায় চড়তে খুব ভালোবাসি ছোট থেকেই। উঁচু পাঁচিল, গাছ, বা জলের পাইপ বেয়ে কোয়ার্টারের ন্যাড়া ছাদে চড়া তো নস্যি ছিল। বড় হয়েও অভ্যেসটা যায়নি। শ্বশুরবাড়িতে একবার কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে পেয়ারা গাছে চড়ে বেশ খানিকটা ওঠার পর সোজা দোতলার জানলা দিয়ে মুখ বাড়ানো শ্বাশুড়িমাতার মুখোমুখি। সে গল্প থাক। ভুটানে তো আর শ্বাশুড়ির ভয় নেই। তাই মনের সুখে সোনালি আপেলের গাছে চেপে বাহাদুর বর্মণদের কত কাজ হাল্কা করেছি। তবে গাছ থেকে পেড়ে খাওয়া পেয়ারায় যা স্বাদ, তা গাছপাড়া আপেলে নেই। আপেল কদিন রেখে খেলে স্বাদ বাড়ে দেখেছি। কিন্তু সে কথাও থাক। হচ্ছিল আমার বরকে নিয়ে হাঁটতে-চড়তে বরোনোর গল্প। ও বন্ধু-বান্ধব ছাড়া আমার সাথে একা বেরোতে চাইত না। সাঙ্গপাঙ্গ ছাড়া এক রকম জোর করেই ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ঐ পাহাড়ের সমতল মাথা আর গায়ে পোঁতা অজস্র ভূত তাড়ানোর মন্ত্র লেখা পতাকাগুলো আমায় খুব টানত। মাথাটা চ্যাপ্টা হলে কী হয়, চলতে গিয়ে দেখলাম দেহটা যথেষ্ট খাড়া। মাটিটাও থুসথুসে, পিছলে গড়িয়ে যেতে হয়। একটা পায়ে চলা পথ পেয়ে সেটা বেয়েই ওপরে উঠতে থাকি। মাথার ওপর পতাকার জটলা সবচেয়ে বেশি। বেশ রহস্যময়তা তৈরি করে রেখেছে। চ্যাপ্টা চূড়ো থেকে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া নদীর ধারটা , আর সিমতোখা জায়গাটা বেশ লাগছিল। এবার নামার পালা। আগের পথটা ধরেই নামছি। হঠাৎ তারস্বরে সম্মিলিত ভৌভৌ! প্রায় গোটা আষ্টেক ভুটানি কুত্তা সরোষে ধেয়ে আসছে। আমরা ওদের নজরে সম্ভবত অনুপ্রবেশকারী। সঙ্গে টাইগারও নেই, হাতে লাঠিও নেই! পালাও!

উল্টো পথে দৌড়তে শুরু করলাম। ওরেব্বাস! সেদিক থেকেও হাফ ডজন কুকুরের তর্জন। আমরা ঘেরাও। বরের সঙ্গে একলা নিসর্গ দর্শনের শখ মিটে গেছে। পালাই কোন রাস্তায়? বাধ্য হয়ে পথ ছেড়ে দুজনে পাহাড়ের গায়ের খাঁজ বেয়ে ওঠার চেষ্টা চালালাম। শক্ত পাথর নয়। ঝুরঝুরে মাটিতে কেবলই পিছলে নেমে আসতে লাগলাম। ওদিকে কুকুর-বাহিনী দাঁত নখ বার করে অ্যাটেনশনে রাস্তা পাহারায়। আর অমন বিপদেও আমার জীবনসঙ্গী হেসে খুন। হাসতে হাসতেই একটা ছোট পাইন গাছের নরম ডাল ভেঙে নিল। "আপাতত এটাই আমাদের লাঠি"। মাথার ওপর সেটাই বনবনিয়ে ঘোরাতে লাগল শুভঙ্কর। কুকুরগুলোও অত নগণ্য অস্ত্রের মান দিয়ে দূর থেকে চেঁচাতে লাগল, কিন্তু কাছে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল না। ওরা কেন পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠেনি, বা সামান্য গাছের ডাল কী করে খান পনেরো পোষ না মানা কুকুরকে বাগে আনল বুঝলাম না। হয়তো, ওরা দেখতেই বড়সড় তাগড়া; আসলে মাথায় বুদ্ধি নেই। যাইহোক, তবে বাকি পথটা আর পায়ে হাঁটা রাস্তা দিয়ে নয়, নামলাম পাহাড়ের গা বেয়ে হড়কে হড়কে, পিছলে পিছলে। ওদের এলাকা থেকে বেরিয়ে এসেছি বোঝার পর আবার পথে ফিরলাম। আবার 'ঘেউঘেউ..গর্‌গর্‌র্‌'। ছুট, ছুট, ছুট। ওরে বাবারে! ব্রেক ফেল করব না তো? অবতরণ যে-!

মেসে ফিরে সেদিন টাইগারের ওপর বেজায় অভিমান হচ্ছিল। রকি অর্থাৎ ভূতো তখনও বড্ড ছোট। সিতেনদের কুকুরী আমাদের মেসের ঘরে ছানা দিয়েছে বলে একটিকে আমরা দত্তক নিয়েছি। সেই দত্তক পুত্র তখন সবে বর্মণ আর আমার বর শুভঙ্করের হাতে খাওয়া শুরু করেছে। ও ব্যাটা মানুষের আচার বিচার জানে না। ছোট্ট বেলা থেকেই ওকে সপ্তাহে না হোক দশ-বারো দিনে একবার ধরে স্নান করানো হোত। ইস্! স্নানের পর গা ঝাড়া দিয়ে পালক-পালিকা মা, বাবা, কাকা, জ্যাঠা যাকে কাছে পেত, ভিজিয়ে দিত। আবার মুখ হাত ধোও, কাপড় ছাড়ো। আর এক অবতারকে কোনও দিন এই সৎ উদ্দেশ্যে ধরাই যায়নি। সে তার ভুটানি মালিকদেরই কোনও স্নানের বালাই দেখেনি; ওকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতার বাড়াবাড়ির তো প্রশ্নই ওঠেনা। টাইগারের গায়ে এক মগ জলও ঢালা যায়নি কোনওদিন।

পূজোর সময় কলকাতা হয়ে বাজার টাজার করে শ্বশুরবাড়ি রাঁচি যাই। ওখানেও এক রোগগ্রস্ত জরাজীর্ণ স্পিৎজ্‌। যখন তখন বমি করে ফেলত, সারা ঘর এমনকি খাওয়ার ওপরেও তার লোম ঘুরপাক খেত। যারা ছোট থেকে ওকে দেখছে, তাদের সহানুভূতি থাকতে পারে। আমার কাছে ব্যাপারগুলো খুবই অরুচিকর লাগত। মন পড়ে ছিল, কবে ভুটান ফিরব। ফিরে এসে শুনলাম, ভূতো বা রকিকে প্রথম সাতদিন কেউ কিছু খাওয়াতে পারেনি আমরা নীচে নেমে যাওয়ার পর। শেষের দিকে অতি অল্প মুখে দিচ্ছিল। আমাদের দেখে তার কী উচ্ছ্বাস! আমার বরের দেওয়া পাতকুড়োনি আর মাংসের টুকরো তাকে এমন বশ করেছে? টাইগার অবশ্য অনশন করেনি। ওর তো অনেকদিন ধরেই একাধিক মালিকানা। দায়িত্বও অনেক। কিন্তু আমরা পূজোর পর পৌঁছতে সেও যা খুশি। শুভঙ্কর চ্যাটার্জীর যেকোনও দিন প্রমোশন চলে আসতে পারে। এলেই আমাদের স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নামতে হবে। আর কদিনই বা। সাময়িক পোস্টিং-এ পাহাড়ে এসে এ কোন মায়ায় জড়ালাম?

এবার আমাদের পাকাপাকিভাবে ভুটান ছেড়ে নীচে নামতে হবে। যার অপেক্ষায় বা বলা যায় আশঙ্কায় ছিলাম, সেই প্রমোশন পোস্টিং চলে এসেছে। ভূতো আগের মতোই খেলে বেড়াচ্ছে, আমাদের হাত থেকে বিস্কুট খাচ্ছে, বর্মণের যত্ন খাচ্ছে আর আমার বরের হাতে নৈশাহার করছে; আবার এদিক সেদিক ঘুরেফিরেও আসছে। টাইগার কিন্তু দেখলাম আমাদের সঙ্গে সেঁটে রইল। খাওয়া-দাওয়া ঠিকঠাক করলেও ঘোরাফেরা কমিয়ে কেবল আমাদের সাথে লেপ্টে থাকতে চাইত। আমরা দুপুরে বা রাতে দরজা বন্ধ করলেও বাইরে বসে কুঁইকুঁই করত। আমি যেখানে যেতাম, সেখানে সঙ্গে থাকত। শুভঙ্করের সঙ্গে সকালে দুপুরে অফিস যেত। এটাই কি 'এক্‌স্ট্রা সেন্সিটিভ পারসেপশন', ভূতোর যেটা নেই? ও বেচারা আমাদের ঘর খালি করে গাড়িতে মালপত্র তোলার আগে কিচ্ছুটি টের পায়নি। যখন পেল, তখন আমাদের জামা ধরে কী টানাটানি! গায়ে সামনের দু পা চাপিয়ে মুখ বাড়িয়ে কত যেন আকুল প্রার্থনা, "যেওনা"। ওদিকে টাইগার শান্ত ভাবে চোখের জল ফেলছে। বাসে ওঠার সময় যতটা মন খারাপ হচ্ছিল, বিয়ের সময় মা বাবার কাছে বিদায় নিতে গিয়েও তা হয়নি। ওঁদের সঙ্গে তো জানি দেখা হবেই।

বাস ছাড়ার পর ওরা দুজনেই বাসের পিছু নিল। আমি জানলা দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু বাসের গতির ও পাহাড়ি বাঁকের কাছে আমার চোখ আর ভূতো টাইগারের দৌড় দুটোই হার মানল।


ছবিঃ মঞ্জিমা মল্লিক

লেখক পরিচিতি

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

সোদপুর, কলকাতার বাসিন্দা শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোটদের এবং বড়দের জন্য বিভিন্ন পত্রিপত্রিকায় লেখেন। এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি এবং ভ্রমণ বিষয়ে ব্লগ লিখতে ভালবাসেন।
নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা