খেলাঘরখেলাঘর

 

২০০৮সালের ডিসেম্বর মাসের ২০-২৫ তারিখ পাঁচ দিনের জন্য আমরা পুরি গিয়েছিলাম। আমাদের এই জার্নি ছিল, হাওড়া থেকে পুরি। তাই ১৯ তারিখ রাত ১০টা ৩৫মিনিটের পুরি এক্সপ্রেসে চেপে আমরা পুরির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পরদিন ভোরবেলা,চারিদিক প্রচন্ড কুয়াশা,দুরের কিছু দেখা যাচ্ছে না।

 
সকালের কুয়াশায় ঢাকা চারিদিক

সকাল ৭টা ৫০ নাগাত পুরি স্টেশনে এসে ট্রেন থামল। স্টেশন থেকে সোজা অটো করে এলাম সমুদ্রের  ঠিক সামনে'স্বপ্নপুরি'হোটেলে। অসংখ্য মানুষ সমুদ্রে আনন্দ করে স্নান করছে। আরও দেখলাম সমুদ্রের ধারে পড়ে থাকা মৃত কচ্ছপের দেহ। শুনলাম এইরকম ভাবে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হচ্ছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয় কেউ এদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।

 বালিতে মরে পড়ে আছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ

পরদিন সকালবেলা গেলাম জগন্নাথ দেবের মন্দিরে। হোটেল থেকে মন্দির হাঁটা পথ। মন্দিরের ভিতরে প্রচন্ড ভীড়!অসংখ্য মানুষ জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে পুজো দিচ্ছে। মন্দিরের ভিতর ভোগের বাজারে ভোগ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেখলাম ভোগ তৈরীর ঘর। ঘর ঘেরা থাকলেও ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে,অনেক লোক কাঠের জ্বালে রান্না করছে। মন্দির দর্শন করা ও পুজো দেওয়ার পর আমরা হোটেলে এলাম। পরদিন সকাল ১১টা নাগাত চিল্কা পৌছলাম।


চিল্কা হ্রদ

 পুরো চিল্কা হ্রদটা নৌকা করে ঘুরলাম। প্রথমে এলাম ডলফিন পয়েন্টে,পুরো ডলফিন দেখতে না পারলেও ডলফিনের মাথা,লেজ,ডানা বেশ ভালো ভাবে দেখেছি। শুনেছি ওরা ভিষণ লাজুক আর ভিতুও। তবে আমাদের নৌকার খুব কাছেই ওরা ছিল। নিজেদের মতো করে জলের মধ্যে ডুব দিচ্ছিলো আর উঠছিলো। এছাড়া দেখলাম নানা রকমের,নানা রঙের অসাধারণ দেখতে বিদেশী পাখী। ওখান থেকে নৌকা করে'সী মাউথ'দেখতে এলাম।

 
সী মাউথ

এখানে চিল্কা হ্রদের সাথে বঙ্গোপসাগরের মিলন হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ওখান থেকে নৌকা করে ফিরে এলাম। বিকেল ৪টে নাগাত আমরা হোটেলে ফিরলাম। পরদিন বিকেলবেলা কোনারকের সূর্য মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সন্ধাবেলা কোনারকের লাইটিং দেখার মত!

 
কোনার্ক এর সূর্যমন্দির

ওখানে সূর্যদেবের রথের চাকা দেখলাম,আগে এই চাকার সাহায্যে সময় নির্ণয় করা হত।

 
রথের চাকা, যা আসলে সূর্যঘড়ি

কোনারকের মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও বাইরে থেকে মন্দিরটা দেখলাম। কোনারকের সূর্য মন্দির এককথায় অসাধারণ। ৭টা নাগাত ওখান থেকে রওনা দিলাম। ফেরার পথে বারবার মনে হচ্ছিল গাইডের কথা গুলো। বহুকাল আগে এরকমই এক সন্ধ্যেবেলা মন্দিরে আরতি হত। অনেক লোক আসতেন, পুজো দিতেন, অনেক ভোগ দেওয়া হত। মন্দিরের চারপাশ ভরে থাকতো ধূপ-ধুনো আর ফুলের গন্ধে।

পরদিন জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি,পিসির বাড়ি,মা চন্ডীর মন্দির,সোনার গৌরাঙ্গের মন্দির দেখতে গেলাম।


জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি

আর কি খেলাম?পুরিতে খাজার জন্য বিখ্যাত দোকান কাকাতুয়াতে গিয়ে রোজ ভরপেট খাজা, কচুরী, সিঙ্গারা, রাবড়ি খেতাম।

 
কাকাতুয়ার খাজা

আর দুপুরে বেনফিসে গিয়ে পমপ্লেট মাছ, ঝুরো আলুভাজা, চিংড়ি তো থাকতোই। সমুদ্রের ধারে বসে রোজ বিকেলে খেতাম বাদামভাজা, ঝালমুড়ি আর সকালে সূর্যোদয় দেখতে দেখতে চা। পুরীর মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথের প্রসাদও দারুন খেতে। আমার আবার ইচ্ছে আছে পুরী যাওয়ার। তখন বাকি জায়গা গুলো ঘুরবো আর ফিরে এসে ইচ্ছামতীতে লিখবো।

 

সোহিনী মৈত্র
সপ্তম শ্রেণী
হোলি চাইল্ড ইনস্টিটিউট,কলকাতা

 

তুমি কি  সোহিনীর মত "ইচ্ছে মতন" বিভাগে তোমার লেখা দিতে চাও? তাহলে  তোমার ইচ্ছে মতন লেখা গল্প, কবিতা,ভ্রমণকাহিনী - যা ইচ্ছে লিখে পাঠিয়ে দাও আমার কাছে।

এই লেখকের অন্যান্য পোস্ট(গুলি)