ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
পরিবেশকে ভালোবেসে...

আগামিকাল,৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই উপলক্ষ্যে আমরা জেনে নেব সেইরকমই কিছু মানুষের সম্পর্কে, যাঁরা কোনওকিছুর পরোয়া না করে কেবল পরিবেশ বাঁচানোর পক্ষে লড়াই করতে এগিয়ে এসেছেন, অনেক বাধা সত্বেও পিছপা হননি। তাঁদের অনেকেই প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিতও নন, অথচ, পরিবেশের মূল্য যে অসীম, সে বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। সাথে রইল পরিবেশ সচেতন দুটি আধুনিক উদ্যোগের গপ্পোও।

হিমাচলের রত্ন কিঙ্করীদেবী

 হিমাচলের রত্ন কিঙ্করীদেবী

১৯৮৫তে দুন উপত্যকার চুনাপাথর খনিগুলি বন্ধ হয়ে যাবার কারণে হিমাচল প্রদেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চুনাপাথর খনন শিল্প বিরাট আকার নেয়। তার ফলে জলস্তর নেমে যাওয়া, জঙ্গলের পরিমাণ কমতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে চাষের জমিরও ক্ষতি হতে থাকে।

কিঙ্করীদেবী প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও, পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে থাকেন তাঁর পরিচিতদের, গ্রামবাসীদের। বোঝাতে থাকেন ক্রমাগত বাড়তে থাকা অনিয়ন্ত্রিত খননকার্যের কুফল সম্পর্কে। ১৯২৫ সালে হিমাচল প্রদেশের এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম হয় কিঙ্করী দেবীর। তিনি লক্ষ্য করেন, অনিয়ন্ত্রিত খননকার্যের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক নিয়মকানুন ভয়ানকভাবে লণ্ডভণ্ড হচ্ছে।

প্রথমে স্থানীয়স্তরে শুরু হয় আন্দোলন। পরে ১৯৮৭ সালে অবৈজ্ঞানিক ও অনিয়ন্ত্রিত খননকার্য সম্পর্কিত বিষয়ে ৪৮ জন খনিমালিকের বিরূদ্ধে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় শিমলা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন। শিমলা হাইকোর্টের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না পেয়ে, কিঙ্করী দেবী শিমলা হাইকোর্টের সামনে ১৯ দিন অনশন করেন। শিমলা হাইকোর্ত খননকার্যে স্থগিতাদেশ জারি করে। পরে সুপ্রিমকোর্টও তাঁর পক্ষেই রায় দেয়। ১৯৯৫তে আন্তর্জাতিক মহিলা সম্মেলনে আমন্ত্রিত হন কিঙ্করী। ১৯৯৯ তে ঝাঁসী কী রানী লক্ষ্মীবাঈ স্ত্রী শক্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৭ সালে, ৮২ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ ঘটে।

মুলাই বনের যাদব পায়েং

মুলাই বনের যাদব পায়েং

আসামের মিশিং উপজাতির মানুষ যাদব পায়েং। তাঁর যখন ১৬ বছর বয়স, আসামে ভয়াবহ বন্যা হয়। সেইসময়, পায়েং দেখেন তাঁর বাড়ির পার্শ্ববর্তী জঙ্গল ও জলাভূমি অঞ্চলে পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এবং সাপেদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। তাঁর কিশোরমনে এই ঘটনা দাগ কাটে। কিশোর পায়েং ঠিক করলেন, পৃথিবীকে সবুজ বানাতেই হবে। তাঁর গ্রামের বয়স্করা বললেন, অনবরত গাছ কাটার ফলে প্রাণীরা তাদের ঘর হারিয়ে ফেলছে। যদি তাদের জন্য ঘর বানাতে হয়, তাহলে গাছ লাগানো প্রয়োজন। প্রচুর গাছ। পায়েং ছুটে গেলেন বন বিভাগের কাছে, আবেদন করলেন ওখানে গাছ লাগানোর জন্য। বন বিভাগ উলটে তাঁকেই পরামর্শ দিলেন, গাছ লাগাতে। তিরিশ বছর ধরে কার্যত সেটাই করে দেখালেন পায়েং।

১৯৭৯ সালে, ১৬ বছর বয়সী যাদব পায়েং তাঁর কাজ শুরু করেন ব্রহ্মপুত্র নদের এক বালুচরে কয়েকটি বাঁশের চারা লাগিয়ে। ত্রিশ বছর ধরে তিনি নিয়ম করে এই বালুচরে গাছ লাগিয়ে এবং সেই গাছগুলিকে যত্ন করে বড় করে, ১৩৬০ একরের এক বিশাল বন তৈরি করে ফেলেছেন। এই জঙ্গলটি আজ যাদব পায়েং এর নামে 'মুলাই বন' নামে পরিচিত। যাদব পায়েং মুলাই বনেই থাকেন, একটি ছোট্ট কুঁড়ে বানিয়ে, তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের সঙ্গে। গোরুমহিষের দুধ বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে।

মুলাই বনের যাদব পায়েং

১৯৮০ সালে তিনি এক সরকারি বৃক্ষরোপন প্রকল্পের কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন। কাজটা ছিল অরুণা চাপোরি নামের এক জায়গায় ২০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে গাছ লাগানো। পাঁচ বছর পরে সেই কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার পরে অন্যান্য শ্রমিকেরা চলে গেলেও যাদব সেখানেই থেকে যান। তিনি সেখানে আরোও গাছ লাগিয়ে যাওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।

মুলাই বনে নানা প্রাণীর বাসস্থান, এমনকি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একশৃঙ্গ গণ্ডার, রয়েল বেঙ্গল টাইগারও রয়েছে এই তালিকায়। ১০০ হরিণ, খরগোশ ছাড়াও অজস্র শকুন সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে এই মনুষ্যসৃষ্ট বনে। হাজার হাজার গাছ রয়েছে। ৩০০ হেক্টর জুড়ে কেবল বাঁশগাছই রয়েছে। ১০০ হাতির একটি দল প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই বনে আসে এবং সাধারণত ছয়মাস কাটিয়ে যায়। সম্প্রতি ১০টি বাচ্চাও উপহার দিয়েছে তারা।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুধীর কুমার সপোরী যাদব পায়েং-কে 'ফরেস্ট ম্যান অফ ইন্ডিয়া' খেতাব দেন। ২০১৩য় ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট তাঁদের বাৎসরিক উৎসবে যাদবকে সম্মানিত করেন। এমন পরিবেশপ্রেমী লোক পৃথিবীতে সত্যিই বিরল। সদিচ্ছার পাশাপাশি লক্ষ্যে অবিচল থাকলে একজন সাধারণ লোকও যে অসাধ্যকে সাধন করতে পারে, তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। যাদব একা হাতে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। যেখানে আমরা আমাদের সুবিধার জন্য গাছ কেটে ফেলতে দ্বিধাবোধ করি না, সেখানে এই মানুষটি যাবতীয় সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। দেশের জন্য এই মানুষ সুপারহিরোর চেয়ে কিছুমাত্রায় কম নন। এমন সুপারহিরো দেশের দরকার।

যাদব পায়েং এর কাজে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু বহু মানুষ। একসাথে মিলে তাঁরা কেমনভাবে পরিবেশকে রক্ষা করার পথে এগিয়ে চলেছেন, জানতে হলে চোখ রাখো এই ওয়েবসাইটেঃ www.jadavpayeng.org

বৃক্ষমাতা সালুমারাদা থিম্মাক্কা

বৃক্ষমাতা সালুমারাদা থিম্মাক্কা

থিম্মাক্কা গাবদা বই পড়া পরিবেশবিদ নন। আর পাঁচজন দরিদ্র ভারতীয় মহিলার মতোই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পেট চালানো এক নারী। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আর সেই থিম্মাক্কাই, তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে করে ফেলেছেন অনেকেরই দুঃসাধ্য একটি কাজ। পরিবেশ রক্ষার কাজে এগিয়ে এসেছেন এই দম্পতি।

বেকাল চিক্কাইয়ার সঙ্গে থিম্মাক্কার বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর পরেও কোনও হল না। পরিচিত লোকজনেরা সন্তান না হওয়ার জন্য তাঁদের কটু কথায় আঘাত করতে লাগল। তখন থিম্মাক্কা আর বেকাল দুজনে স্থির করলেন, গাছ লাগাবেন, তাদের বড় করবেন সন্তানস্নেহে। শুরু হল বটগাছের চারা জোগাড়। প্রথম বছরে ১০টি, দ্বিতীয় বছরে ১৫টি, তৃতীয় বছরে ২০টি চারা লাগানো গেল। প্রায় চার কিলোমিটার উজিয়ে তাঁরা এই গাছগুলিতে জল দেওয়ার কাজ করতেন। গবাদি পশুর হাত থেকে চারাগাছগুলিকে বাঁচাতে কাঁটাতারের বেড়াও বানিয়ে দেন। এইভাবে তাঁর গ্রাম হুলিকাল থেকে কুদুর অবধি ২৮৪টি বটগাছের চারা লাগিয়ে, সেগুলি বড় করে তিনি। এই প্রায় চার কিলোমিটার পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াময় সুবিশাল গাছগুলি থিম্মাক্কার ভালোবাসা ছড়ায় পথচারীদের ওপর।

বৃক্ষমাতা সালুমারাদা থিম্মাক্কা

১৯৯১ সালে স্বামী মারা গেলেন। থিম্মাক্কা একা রইলেন গাছেদের পরিচর্যায়। তাঁর কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে গ্রামবাসীরা তাঁকে 'সালুমারাদা', বলে ডাকতে শুরু করলেন। কন্নড়ে যার মানে 'গাছেদের সারি'। সালুমারাদা থিম্মাক্কা হয়ত লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে যেতেন, যদি না ১৯৯৬ সালে 'জাতীয় নাগরিক সম্মান'এ ভূষিত হতেন। ২০১৬ সালের বিবিসির ১০০ জন সবথেকে বেশি প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকায় রয়েছে সালুমারাদা থিম্মাক্কার নাম। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৮০ বছরে প্রায় ৮০০০ গাছ পুঁতে তাদের বড় করে তুলেছেন ১০৫ বছর বয়সী এই বৃক্ষমাতা।

সালুমারাদা থিম্মাক্কার কর্মকান্ডের খোঁজ বিশদে পাওয়া যাবে এই লিঙ্কেঃ www.thimmakkafoundation.org

মাটির ছেলে মনসুখভাই

মাটির ছেলে মনসুখভাই

'মিট্টি' অর্থাৎ মাটি। সেই সাধারণ মাটির জিনিস ব্যবহার করেই, মনসুখভাই হাজারো মানুষকে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব আবিষ্কারে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, সাহায্য করছেন।

মনসুখভাইয়ের পরিবার বহুযুগ ধরেই মাটির জিনিষপত্র তৈরি করত। কিন্তু অল্পবয়সী মনসুখের সেই কাজে বেশি উৎসাহ ছিল না। বাবাকে কাজে একটু আধটু সাহায্য করলেও কিশোর মনসুখের উৎসাহ ছিল ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলার দিকে। কিন্তু কিছুদিন পরে পারিবারিক সমস্যার কারণে মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন মনসুখভাই।

মাটির ছেলে মনসুখভাই

২০০১ এ গুজরাতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হানা দেয়। ভূমিকম্পের ফলে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন লাখ লাখ মানুষ। অন্য অনেকের মতই, তখন এক সাধারণ কুমোর, মনসুখ ভাই প্রজাপতি্র ব্যবসায়ের বড় ক্ষতি হয়। তাঁর যে সব বিক্রয়যোগ্য জিনিষ পত্র ছিল, সেগুলিকে তিনি কচ্ছ এর দুর্গত মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। ফেব্রুয়ারি, ২০০১ এ, 'সন্দেশ গুজরাত' সংবাদপত্রে মনসুখভাইয়েরই তৈরি একটি ফিল্টারের ছবি প্রকাশিত হয়। ভূমিকম্পে ফিল্টারটি ভেঙে গেছিল; ছবি সাথে শিরোনাম ছিল 'দরিদ্রের ভাঙা ফ্রিজ'। এই শিরোনাম মনসুখভাইয়ের ভাবনাচিন্তাকে কয়েকশো মাইল এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি ঠিক করেন দরিদ্রদের জন্য এমন এক ফ্রিজ বানাবেন যার জন্য বিদ্যুৎ লাগবে না , আর সবাই ব্যবহার করতে পারবে। শুরু হয় গ্রামীণ সমাজের জন্য উপকারী ও সহজলভ্য, মাটি দিয়ে তৈরি একটি ফ্রিজ। ২০০২ নাগাদ GIAN (Grassroots Innovation Augmentation Network) নামে একটি সংগঠনের সহযোগিতা পেতে শুরু করেন মনসুখভাই।প্রায় বছর চারেক পরিশ্রম করার পরে ২০০৫ সালে মনসুখভাই তৈরি করলেন 'মিট্টিকুল'। মিট্টিকুল' বিদ্যুৎবিহীন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ফ্রিজ, যা খাদ্যদ্রব্যকে বিদ্যুৎচালিত ফ্রিজের মত একইরকম সতেজ রাখবে।

২০০৩ সাল নাগাদ তাঁর লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ালো কীভাবে আরও বেশিদিন টেকসই ননস্টিক তাওয়া বানানো যায়। এখানেও ব্যবহার করলেন সেই মাটিই। সফলও হলেন। 'মিট্টিকুল' এখন দেশেবিদেশে এক পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ড হিসাবে সুপরিচিত। এঁরা শুধু ফ্রিজ তৈরি করেন না, মাটি দিয়ে তৈরি হয় আরোও নানাধরনের গৃহস্থালীর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ। মনসুখভাইয়ের কর্মকান্ডের হদিশ পেতে চোখ রাখো এই ওয়েবসাইটেঃ www.mitticool.com

শমিত-প্রিয়ার 'উল্টা ছাতা'

শমিত-প্রিয়ার 'উল্টা ছাতা'

থিঙ্কফাই (ThinkPhi) এবং তার কর্ণধারেরা ব্যবহার করছেন স্রেফ একটি উলটানো ছাতা। এই ছাতার সাহায্যে বৃষ্টির জলকে ধরে পানীয়/ ব্যবহারযোগ্য জলে পরিবর্তন করা এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় সোলার প্যানেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করা, দুই-ই সম্ভব হচ্ছে।

বৃষ্টির জল সবচেয়ে শুদ্ধ জল হলেও মাটির স্পর্শ পেলে তা আর শুদ্ধ থাকে না। তখন প্রয়োজন হয় প্রচুর শোধনের। থিঙ্কফাই সংস্থার নেপথ্যে থাকা দম্পতি শমিত ও প্রিয়া শুরু করলেন মাটি স্পর্শ করার আগেই বৃষ্টির জলকে ধরে ফেলার প্রক্রিয়া। সফট্‌ওয়্যার কর্মী শমিত এবং সাস্টেনেব্‌ল্‌ ডিজাইন ও আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করা প্রিয়া নিজদের অভিজ্ঞতাগুলিকে মিলিয়ে দিলেন। ২০১৫ থেকে শুরু হওয়া থিঙ্কফাই, মূলতঃ সবুজ এবং উন্নততর আগামী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি উদ্যোগ।

শমিত-প্রিয়ার 'উল্টা ছাতা'

থিঙ্কফাই-র 'উলটা ছাতা' বা ইংরেজিতে 'Inverted Umbrella'-এর একটি ইউনিট সারাবছরে প্রায় ৮-১০ লাখ কুইন্টাল বৃষ্টির জল সংগ্রহ করতে পারে। যা সর্বোচ্চ ১.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশের ৫০টি জায়গায় এই 'উলটা ছাতা' তার কামাল দেখাচ্ছে। এই 'উলটা ছাতা' একেবারে সার্থকনামা, দেখতেও অবিকল উলটানো ছাতার মতোই।

'উলটা ছাতা' দলের কয়েকজন ভারতীয় রেলের আমন্ত্রণে বুঝিয়ে এসেছেন কীভাবে তাঁরা ভারতীয় রেলকে সাহায্য করতে পারেন। শমিত জানাচ্ছেন, তাঁরা রেলকে স্বচ্ছ ও পেয় জলের সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম খরচে পরিবেশবান্ধব প্ল্যাটফর্ম ছাউনিরও জোগান দিতে পারবেন। 'ছাতা'গুলির প্রতিটির খরচ সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা হলেও, সমিত জানাচ্ছেন, ব্যবহারকারীরা সহজেই একবছরের মাথায় সেই খরচ তুলে নিতে পারবেন।

থিঙ্কফাই-এর কর্মকান্ডের বিশদ খোঁজ পাওয়া যাবে এই ওয়েব ঠিকানায়ঃ https://www.thinkphi.com

বেহড় বাঁচাবেন বাগীরা

বেহড় বাঁচাবেন বাগীরা

তাঁরা এই অঞ্চলেই জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, শেষে 'কাজ' থেকে অবসর নিয়ে এখানেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। কিন্তু, এইসবের মধ্যেও একটা জিনিস এক থেকে গিয়েছে, তা হল জঙ্গলের প্রতি, নদীর প্রতি, পরিবেশের প্রতি প্রাক্তন এই ডাকাতদের আনুগত্য। চম্বল নদী এবং তার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের প্রতি এই এলাকার ভীতি-উদ্রেককারী ডাকাতদের ভালোবাসা এবং নৈকট্য সীমাহীন। এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা খুবই সচেতন। যার কারণে তাঁরা স্বেচ্ছায় গত ২০১৫তে 'মহাকুম্ভ' এ জয়পুরের শ্রী কল্পতরু সংস্থান নামের এক পরিবেশবান্ধব সংস্থার একটি উদ্যোগে শামিল হতে পেরেছেন। শুরু হয়ঃ 'Pehle basaya bihad – Ab bachayainge bihad' (Once we lived in forests – Now we will save forests)-একদা বেহড়ে বসবাস করেছি, এবার বেহড় বাঁচাবো।

রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের বিরাট অঞ্চল জুড়ে বয়ে গিয়েছে চম্বল নদী। ১৯৭০-৮০র দশকে এই বিস্তীর্ণ এলাকা হয়ে ঊঠেছিল ডাকাতদের স্বর্গরাজ্য। এখন তাদের অনেকেই সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। শ্রী কল্পতরু সংস্থানের প্রধান বিষ্ণু লাম্বা যখন পরিবেশরক্ষার বিষয়ে তাঁদেরকে কাজে লাগানো নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা তাদের কাছে পৌঁছে দিলেন, তাঁরা এককথায় রাজি হয়ে গেলেন। শ্রী লাম্বা মোরেনা, ভিন্দ, ঝাঁসী, ওউরাইয়া সহ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের অনেক জায়গায় সেইসব ডাকাতদের খুঁজে বেড়িয়েছেন, যাঁদের ভয়ে এক সময়ে চম্বল কাঁপত।

বেহড় বাঁচাবেন বাগীরা

২০১৫র জুলাইয়ে 'মহাকুম্ভ'তে সীমা পরিহার, গব্বর সিংহ, মোহর সিংহ, সারু সিংহ, মালখান সিংহ, রেণু যাদব, সরলা যাদবরা শ্রী কল্পতরু সংস্থানের এই উদ্যোগে শামিল ছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, যখন তাঁরা চম্বলে রাজত্ব করতেন, তাঁদের ভয়ে কেউ একটাও গাছ কাটার সাহস দেখাত না। তাঁদের প্রতি সেই আনুগত্য এখনোও এলাকার সাধারন মানুষদের মধ্যে রয়েছে। তাই সরকার চাইলে, তাঁরা আবার চম্বলের বিভিন্ন এলাকাকে সবুজ করে তুলতে পারেন। এখন দেখার, ভয় দেখিয়ে, না ভালোবেসে, কীভাবে তাঁদের প্রিয় বেহড়কে আবার সবুজ করে তোলেন তাঁরা।


ছবি ও তথ্যঃ
ফ্রী পিক ,
উইকিপিডিয়া,
দ্য বেটারইন্ডিয়া,
দ্য হিন্দু,
লার্নিং লিভিং,
টাইমস অফ ইন্ডিয়া,‌
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ,
হাফিংটন পোস্ট,
আল জাজিরা,
এবং নিবন্ধে নির্দেশিত ওয়েবসাইটগুলি

লেখক পরিচিতি

ফজলে আজিজ আব্বাসী

বীরভূমের বাসিন্দা। ভালো লাগে নানারকম খাবার খেতে, বেড়াতে, গল্প শুনতে, আর বন্ধুদের সঙ্গে খুউব হুটোপাটি করতে। পছন্দঃ টিনটিন, হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল...আইসক্রিম, ফুচকা, হোমটাস্ক আর ইচ্ছামতী।

এসে গেল ইচ্ছামতীর শারদসম্ভার ২০১৭
নয় পেরিয়ে দশে পা
undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা