ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা
সৌহার্দ্যের দৌড়

গত ২৬শে মার্চ, ২০১৭। ফিলাডেলফিয়া লাভ রান হাফ ম্যারাথনে উপস্থিত দর্শকেরা মানবিকতা, সৌহার্দ্য ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার এক অদ্ভুত উদাহরনের সাক্ষী হয়ে রইলেন। অন্য প্রতিযোগীদের ফিনিশিং লাইন ছোঁয়া বেশী জরুরি মনে হলেও, কয়েকজন হয়তো মানবিকতা ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার দৌড়ে জিতে গেলেন। ফিনিশিং লাইন থেকে কিছুটা দূরে এক মহিলা দৌড়বিদ হঠাৎ পায়ের ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন। পিছনে আসছিলেন দুই ভাই, জোসেফ এবং ব্রায়ান, তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আরও একজন সতীর্থ দৌড়বিদ।

পায়ের ব্যথায় কাতর দৌড়বিদ মাটিতে পড়ে যাওার আগের মূহুর্তেই তাঁকে ধরে ফেলেন ব্রায়ানরা। ইতিমধ্যে তাঁদের একজন অসুস্থ সতীর্থকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গিয়ে ফিনিশিং লাইনের একেবারে কাছে পৌঁছে দেন, যাতে মহিলা নিজেই ফিনিশিং লাইন পেরোতে পারেন। অসুস্থ দৌড়বিদকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে তিনি সুস্থ হন।

জোসেফ এবং ব্রায়ান অবশ্য জানতেনই না যে তাঁদের মানবিকতার জন্য, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার জন্য বিশ্বজুড়েঅভিনন্দিত হচ্ছেন তাঁরা। পরে এক আত্মীয়ের ফোনে তাঁরা জানতে পারেন, পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছে ক্যামেরায়, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ সেটিকে দেখে ফেলেছেন। ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করঃ

খেলার আসরে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার নিদর্শন নেহাতই প্রথম না। অলিম্পিক ২০১৬র প্রতিযোগী নিউজিল্যান্ডের নিকি হ্যাম্বলিন ও আমেরিকান অ্যাবিডি’অগাস্টিনো তাঁদের স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের জন্য আন্তর্জাতিক ফেয়ার প্লে কমিটির তরফে পুরস্কৃতও হয়েছেন। দৌড়ের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিলেন হ্যাম্বলিন। তাঁকে হাত ধরে তুলে দেন ডি’অগাস্টিনো। পরে ডি’অগাস্টিনো যন্ত্রণায় বসে পড়লে তাঁকে তুলে একসঙ্গে দৌড়াতে থাকেন হ্যাম্বলিন।

সৌহার্দ্যের দৌড়
নিকি হ্যাম্বলিন ও অ্যাবিডি’অগাস্টিনো

ওই অলিম্পিকেরই আরেকটি খেলায়, অস্ট্রেলিয়ার সাঁতারু কেট ক্যাম্পবেল ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে সোনা জিতবেন, এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু ৫০ মিটারের পর কেট অসুস্থহয়েপড়েন। নিজেদের খেলা নিয়ে না ভেবে তাঁকে পুল থেকে বের করে আনেন অন্য দুই সাঁতারু- সুইডেনের সারা সোজস্ট্রাম এবং ডেনমার্কের জিনেট ওটেসেন। উল্লেখ্যঃ সোজস্ট্রামের ও এই ইভেন্টে পদক জয়ের সম্ভাবনা ছিল।


তথ্য ও ছবি সৌজন্যঃ গুড নিউজ নেটওয়ার্ক
অন্যান্য ছবিঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট

লেখক পরিচিতি

ফজলে আজিজ আব্বাসী

বীরভূমের বাসিন্দা। ভালো লাগে নানারকম খাবার খেতে, বেড়াতে, গল্প শুনতে, আর বন্ধুদের সঙ্গে খুউব হুটোপাটি করতে। পছন্দঃ টিনটিন, হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল...আইসক্রিম, ফুচকা, হোমটাস্ক আর ইচ্ছামতী।

undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা