খেলাঘরখেলাঘর

আমার যে একটা চরকা আছে, সে তো জান নিশ্চই। সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাটি লক্ষরঙা সুতো,আর সেই সব সুতো মিলিয়ে মিশিয়ে, কখনো বুনে, কখনো সেলাই করে, কখনো বা হাত পেঁচিয়ে তৈরি হয় যত রাজ্যের গল্পকথা আর রংবাহারী ছবি,  যা দিয়ে সেজে ওঠে ইচ্ছামতী। কিন্তু কিছুদিন আগে সেই চরকাটা হটাৎ করে ভেঙে গেল কিনা, তাই ইচ্ছামতীর বর্ষা সংখ্যা ঠিক সময়মত প্রকাশই করতে পারলাম না। ইচ্ছামতীর তো তাতে বেজায় মন খারাপ, সাথে আমারও।
এদিকে দেখতে দেখতে শরৎকাল এসে গেল, আকাশ সেজে উঠল উৎসব উৎসব রঙে, বাতাস মেখে নিল  পুজো পুজো সুবাস। তখন ঠিক করলাম, এইবার এক সাথে প্রকাশ করা হবে বর্ষা-শরৎ যুগ্ম সংখ্যা। বর্ষা সংখ্যাকে সাজানোর জন্য পেয়েছিলাম কত ছড়া-গল্প; সেগুলির সাথে নতুন করে পাওয়া ছড়া-গল্প-রচনার সাথে মিলিয়ে মিশিয়ে তৈরি হবে এই যুগ্ম সংখ্যা।
চরকা তো কোনমতে ঠিক হল, আবার চলতেও শুরু করল, যদিও বেশ ধীরে ধীরে। এইবার নেহাত কিনা তিথি নক্ষত্র মেনে মা-দুগ্গার আসতে আসতে প্রায় হেমন্তকাল এসে পড়ল, তাই আমরাও বেশ খানিকটা বেশি সময় পেয়ে গেলাম ধীরে ধীরে কাজ করেও মোটামুটি সময়মত যুগ্ম সংখ্যা প্রকাশের জন্য। এর জন্য মা দুগ্‌গার একটা  বড় ধন্যবাদ পাওনা।
এই প্রসঙ্গে আরো একটা কথা বলতেই হয়।ইচ্ছামতীর শ্রদ্ধেয় লেখকেরা কিনা বড়ই ভালো, বড়ই বুঝদার, তাই বর্ষা সংখ্যা সময় মত প্রকাশ না হওয়াতেও তাঁরা একফোঁটাও রেগে যান নি; ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছেন বর্ষা-শরৎ যুগ্ম সংখ্যার জন্য। তাঁদের এই সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
আর ইচ্ছামতীর পাঠক? তুমি এই কয়েক মাসের মধ্যে ইচ্ছামতীকে ভুলে যাওনি তো? আমি জানি, ইচ্ছামতীও জানে, তুমি ভুলতে পার না। তুমিও ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছিলে, তাই না? আর তাই, তোমাকেও জানাই ইচ্ছামতীর পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা।
যাইহোক, অনেক চেষ্টা করেও, শেষ অবধি ইচ্ছামতীর বর্ষা- শরৎ যুগ্ম সংখ্যা ২০১২ প্রকাশ হতে হতে ষষ্ঠীর বেলা শেষ হয়েই গেল। একদম শেষ মূহুর্তে ইচ্ছামতীকে সাজিয়ে তুলতে সাহায্য করেছেন ইচ্ছামতীর বন্ধু অনন্যা দত্ত, দেবকুমার বেরা, কৌস্তুভ রায়, চন্দনা রায় ও রজত নারায়ণ। তাঁদের সবাইকে ইচ্ছামতী জানায় শারদীয়া প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
আর বেশি কথা বাড়াব না। তোমার পুজো ভাল কাটুক। ইচ্ছামতীর তরফ থেকে এই উৎসবের মরসুমে, তোমার জন্য রইল-
মাঠ ভরা ধান,
মন ভোলানো গান,
নদী ভরা জল,
মায়ের আঁচল,
শিউলি-পদ্ম-দোপাটি,
শিশিরধোয়া মাটি,
ঝকঝকে নীল আকাশ,
পালক সাদা কাশ,
রামধনু রঙ আশা,
অনেক ভালবাসা।

ভাল থেক।
চাঁদের বুড়ি
মহাষষ্ঠী,
শনিবার,
৩ রা কার্তিক, ১৮১৯
২০শে অক্টোবর, ২০১২

এই লেখকের অন্যান্য পোস্ট(গুলি)