ছোটদের মনের মত ওয়েব পত্রিকা

গোয়ালদাম

আরও কিছুক্ষণ এদিক ওদিক ঘুরে, আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। বাড়ি ও অফিসে চিঠি লিখে, সমস্ত মালপত্র ব্যাগ থেকে বার করলাম। ঠিক করলাম খাওয়া দাওয়া সেরে, নতুন করে মালপত্র গোছগাছ করে নেব। একটু বিশ্রাম করে, হিসাবপত্র মিলিয়ে, আমরা রাতের খাওয়া সারতে গেলাম। প্রথমে গেলাম টুরিষ্ট বাংলোতে সেই তিনজন বাঙালী ছেলের সাথে দেখা করতে। গিয়ে দেখি ওরা কেয়ার টেকারের সাথে, যারা বাংলো বুক করেছে, তাদের চিঠি দেখছে। আমরা হাজির হতে তারা নতুন করে তাদের গন্তব্যস্থলের পথঘাট, হোটেল সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলো। কথাবার্তায় বুঝলাম, এই সমস্ত জায়গার পথঘাট সম্বন্ধে তাদের বিন্দুমা্ত্র ধারণা নেই। সেই ভীতু ছেলেটা জানালো, তার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কী রকম একটা হাঁপানির ভাব দেখা দিচ্ছে। আমি তাকে বললাম ওটা তার মনের ভুল। সে যেন কম করে ধূমপান করে। আমরা উঠে পড়লাম। ওরাও রাতের খাওয়া সারতে উঠে পড়লো। রাস্তায় ওরা জানালো টুরিষ্ট বাংলোয় জলের ভীষণ অভাব। কেয়ারটেকার এক বালতি জল এনে দিয়েছে। আমরা ভাগ্যবান, আমাদের হোটেলে জলের কোন সমস্যা নেই। আমরা সন্ধ্যার সময় একটা হোটেলে খাবার কথা বলে এসেছিলাম। ওরা জানালো ওরাও একটা হোটেলে খাবারের অর্ডার দিয়ে এসেছে। কাজেই ওদের যাত্রার শুভ কামনা জানিয়ে, আমরা নির্দ্দিষ্ট হোটেলে চলে গেলাম। দোকানদার জানালো এটা তার জামাইবাবুর হোটেল। তারা এখন এখানে নেই বলে সে হোটেলটা চালাচ্ছে। সে স্থানীয় হাসপাতালে কাজ করে। ডাল, রুটি, তরকারী যখন প্রায় খাওয়া হয়ে গেছে, তখন সে জানালো মাংস আছে। সে নিজে মাংস খায় না। আমরা মাংসের অর্ডার দিলাম। জানিনা এরপর কবে আবার ভাল খাবার জুটবে। যাহোক্, খাওয়ার শেষে সে জানালো সতের টাকা বিল হয়েছে। কী এমন খেলাম জানিনা। বিল মিটিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

রাত অনেক হ'ল, বীর সিং এলেন না। আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আঠারো তারিখে হাঁটা শুরু করার কথা। আজ ষোল তারিখ। খেতে যাবার সময় ঠিক করেছিলাম কাল সকালেও বীর সিং না আসলে, আমরা "দেবল" গিয়ে বীর সিং এর সাথে দেখা করে, সন্ধ্যায় গোয়ালদাম ফিরে আসবো। কিন্তু এখানে কথা বলে বুঝেছি, সেটা সম্ভব হবে না। আমরা হোটেলে ফিরে সমস্ত মালপত্র গোছগাছ শেষ করে শুয়ে পড়লাম।

আজ সতেরই আগষ্ট। বেশ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে, হাতমুখ ধুয়ে চা খেতে গেলাম। ঘুম থেকে উঠেই বীর সিং এর চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। দোকানে গিয়ে দেখি বেঁটে মতো, পাহাড়ি চেহারার একজন ভদ্রলোক, চেয়ারে বসে ভদ্রলোকের বোধহয় ঠান্ডা লেগেছে। তিনি চায়ের গ্লাশ বারবার চোখের কাছে এনে গরম ভাব নিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যার পর এই ভদ্রলোক আমাদের হোটেলে উঠেছিলেন। ইনি ঐ হোটেলে ওঠায়, হোটেল মালিক কিন্তু মোটেই খুশী হন নি। পরে হোটেল মালিকের কাছে শুনেছিলাম যে ভদ্রলোকের নাম পি.ডি.লামা। উনি একটা আমেরিকান দলকে নিয়ে এভারেষ্ট জয় করেন। ওনার অনেক ছেলেমেয়ে। ভদ্রলোক কুমায়ন মাউন্টেনিয়ারিং ইনষ্টিটিউটের চেয়ারম্যান। অনেক টাকা মাইনে পান। আবার আমেরিকা থেকেও নাকি প্রতিমাসে একটা বড় অঙ্কের টাকা পেনশন পান। হোটেল মালিককে ওনাকে নানা ফরমাশের যোগান দিতে হয়, কিন্তু হোটেল ভাড়াও নাকি ঠিকমতো পাওয়া যায় না। অথচ উনি যখনই গোয়ালদামের বাইরে যান, এই হোটেলে রাত কাটান। ঐ রকম নামী, ধনী একজন, কেন এইরকম একটা অনামী, নোংরা হোটেলে থাকেন বলতে পারবো না। যাহোক্, চা জলখাবার খেয়ে, আমরা স্টেট্ ব্যাঙ্কটা কোথায় দেখে আসলাম। সাড়ে দশটায় ব্যাঙ্ক খোলে, ব্যাঙ্ক খুললে ট্রাভেলার্স চেক ভাঙ্গাতে যেতে হবে।

আজকের আবহাওয়া খুব সুন্দর। নীল আকাশ, ঝলমলে রোদে গোয়ালদাম রৌদ্রস্নান সারছে। এখানে এসে শুনলাম দিন তিনচার হ’ল বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে। তার আগে প্রতিদিন ভাল বৃষ্টি হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে এক তারিখে আসা হয়নি, ভালই হয়েছে। কিন্তু এ ভাল কতক্ষণ থাকবে তার তো কোন স্থিরতা নেই। বেলা বেশ বেড়ে গেল, বীর সিং এর পাত্তা নেই। গতকালের সেই দোকানদারের কাছে গেলাম। ভদ্রলোক জানালেন বীর সিং না আসলে তিনি দেবলে যে ডাক নিয়ে যায়, তার হাতে বীর সিংকে চিঠি দিয়ে সব জানিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন। আমাদের হোটেল মালিক অবশ্য বলেছিলেন এর আগে ছয়জনের যে দলটা রূপকুন্ডের উদ্দেশ্যে গেছে, তাদের গাইড না আসায়, তাঁর ছেলে তাদের কুলির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কুলিরা তাদের মালপত্র দেবলে পৌঁছে দেবে। ওখান থেকে গাইড পেতে অসুবিধা হবে না। কাজেই আমাদের গাইড না আসলে, ভদ্রলোক ছেলেকে বলে কুলির ব্যবস্থা করে দেবেন। একটু নিশ্চিন্ত হওয়া গেলেও চিন্তা শতগুনে বাড়লো। বীর সিং বা তার ছেলে গঙ্গা সিং, ঐ দলটার গাইড হিসাবে চলে যায় নি তো? Contingent customer কখনই Ready-made customer এর থেকে ভাল হতে পারে না।

বেলা আরও বাড়লে, আমরা নিজেরাই পোষ্ট অফিসে গেলাম। সেখানে একজন যুবক কর্মীকে সমস্ত ব্যাপারটা জানালাম। যুবকটি বেশ ভদ্র্র। আমাদের সব কথা, সে মন দিয়ে শুনে জানালো- বীর সিংকে সে চেনে। আমাদের সে বীর সিং এর উদ্দেশ্যে একটা চিঠি লিখে দিতে বললো। একটু পরেই দেবল থেকে ডাক আসবে, তার হাতে সে আমাদের চিঠিটা দিয়ে দেবে। পোষ্ট অফিসে কাগজ পাওয়া গেল না। আমাদের সঙ্গেও এই মুহুর্তে চিঠি লেখার মতো কাগজ নেই। আশেপাশে অনেকগুলো দোকান ঘুরেও কাগজ পেলাম না। শুধু কাগজ নয়, এখানে একটা দোকানেও সিগারেট পাওয়া গেল না। রাস্তায় গাইড, কুলির জন্য কিছু সস্তার সিগারেট নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। বাধ্য হয়ে বিড়ি কিনে নেওয়া হ'ল।

হঠাৎ দেখি একদল বাচ্চা ছেলে বইখাতা হাতে স্কুলে যাচ্ছে। তাদের একজনের কাছ থেকে একটা খাতার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে, গতকাল রাতে যে হোটেলে খেয়েছিলাম, সেই হোটেলের ছেলেটাকে দিয়ে বীর সিংকে একটা চিঠি লিখিয়ে নেওয়া হ'ল। ছেলেটা চিঠিটা একটা সাদা খামে পুরে মুখ বন্ধ করে দিল। আমরা চিঠিটা পোষ্ট অফিসে দিয়ে আসলাম। ওখান থেকে ফিরে, ঘুরতে ঘুরতে দেবল যাবার রাস্তা দিয়ে একটু নেমেছি, দু'-তিনজন লোক আমাদের পাশ দিয়ে ওপরে উঠে গেল। এমন সময় সেই বৃদ্ধ দোকানদার আমাদের ডেকে জানালেন, বীর সিং এসে গেছেন। আমরা ফিরে এসে দেখলাম আমরা এইমাত্র বীর সিং এর পাশ দিয়েই নীচে নামলাম। বীর সিং হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক্ করলেন। আমি আনন্দে তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে। শুনলাম তাঁর বয়স পঞ্চান্ন-ছাপান্ন। কিন্তু দেখলেই বোঝা যায় এখনও যথেষ্ট ক্ষমতা ধরেন। তিনি আমাদের সাথে হোটেলে এলেন। সঙ্গে দু’জন লোক। বোধহয় কুলি হবে। তিনি ভীষণ তাড়াতাড়ি কথা বলেন, বললেন গতকাল সন্ধ্যায় তিনি গঙ্গা সিংকে আমাদের খোঁজে পাঠিয়েছিলেন। গঙ্গা সিং টুরিষ্ট বাংলোয় আমাদের আসার খোঁজ করে, আমাদের না পেয়ে ফিরে গেছে। তিনি আরও জানালেন যে তিনি টুরিষ্ট বাংলোয় আমাদের আসার কথা বলে রেখেছিলেন, কারণ তাঁর ধারণা ছিল আমরা নিশ্চই ওখানেই উঠবো। আশ্চর্য ব্যাপার। গতকাল ওখানকার কেয়ারটেকার শুনলো আমরা রূপকুন্ড যাব, অথচ সে গঙ্গাকে কিছু বললো না?

বীর সিং ও তাঁর সঙ্গীদের বিড়ি দিলাম। তিনি অনেক কথা অনর্গল বলে গেলেন। তিনি কথা বললেই বোঝা যায়, তাঁর হাঁপের টান আছে। আমরা শঙ্কু মহারাজ, প্রাণেশ চক্রবর্তীর কথা জিজ্ঞাসা করতে, তিনি হাত জোড় করে নমস্কার করলেন। এতক্ষণে আসলো প্রধান সমস্যা, তিনি আমাদের মালপত্র দেখতে চাইলেন। মনে মনে ভাবছি আমাদের যা মালপত্র, তাতে তিনটে কুলি নিশ্চই লাগবে। তিনি চটপট্ ব্যাগগুলো তুলে নিয়ে জানালেন, মাল যা আছে, তাতে দুজন কুলি লাগবেই। তিনি খুব চিন্তার সঙ্গে কথাগুলো বললেও, আমরা দুজনেই মনে মনে খুব খুশী হ'লাম। শেষে তিনি বললেন কাল সকালে আমাদের নিয়ে রওনা হবেন। আমরা যেন ভোরবেলা তৈরী হয়ে থাকি।

তিনি চলে গেলেন, আমরা ব্যাঙ্ক থেকে চেক ভাঙ্গিয়ে, আর একবার জিলিপি আর চা খেয়ে নিলাম। আজ ভাল করে স্নান করতে হবে। এরপর আবার কবে স্নান করার সুযোগ পাবো জানিনা। হোটেলের ড্রামে জল ধরা আছে। কিন্তু ঐ জলে স্নান করার ইচ্ছা নেই, তাই ঝরণার খোঁজে গামছা গায়ে রাস্তায় এলাম। একটা দোকানে খোঁজ করে জানতে পারলাম, মাইল খানেক দুরে স্নান করার জন্য ভাল জল পাওয়া যাবে। জলের সন্ধানে আমরা রওনা হ'ব, এমন সময় বীর সিং এর সাথে আবার দেখা হ'ল। তিনি বললেন- "এক কাজ করা যাক, আজই আমরা দেবলে চলে যাই। আমার সাথে খচ্চর আছে। কাল ভোরে ওখান থেকে কুলি-গাইড নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিকালে 'ওয়ান' চলে যাওয়া যাব"। তাঁর কাছেই এবার জানলাম, গাইড হিসাবে আমাদের সাথে তাঁর ছেলে গঙ্গা সিং যাবে। আবার সেই গঙ্গা? সে কেমন ব্যবহার করবে কে জানে। বীর সিং জানালেন তাঁর ছেলে বেশ জোয়ান আছে। সঙ্গে দু’জন জোয়ান ভাল কুলি দিয়ে দেবেন। কিছু বলার নেই।

আমরা বললাম আমরা স্নান সেরে এসে খাওয়া দাওয়া করে, তৈরী হয়ে নিচ্ছি। তিনি আমাদের একটু তাড়াতাড়ি করতে বলে চলে গেলেন। আমরাও আমাদের গন্তব্য স্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। বেশ কিছুটা পথ হেঁটে জায়গাটা পাওয়া গেল। রাস্তা থেকে অনেকটা নেমে পরপর দুটো বাড়ির পাশ দিয়ে গিয়ে একটা জায়গায় দেখলাম, মাটি থেকে সামান্য উঁচুতে একটা পাইপ থেকে জল পড়ছে। পাইপটা দ্বিতীয় বাড়িটার পাশের দিকে। পাইপটা এত কম উচ্চতায় অবস্থিত, যে একটা মগ্ না পেলে, স্নান করা যাবে না। আমি ঐ দুটো বাড়ি থেকে একটা মগ্ চাইতে গেলাম। বাড়ি না বলে পরপর দুটো ঘর বলা-ই বোধহয় ঠিক হবে। প্রথম ঘরটা, মানে কলের পাইপের কাছেই যে ঘরটা, সেখানে মগ্ পাওয়া গেল না। দ্বিতীয়টা অন্য লোকের। সেটার সামনে গিয়ে দেখি, ঘরের গৃহিণী রান্নায় ব্যস্ত। সামনে খুব ছোট দুটো শিশু খেলা করছে। মহিলাটি আমায় দেখে একটু অবাক হ'ল। আমি স্নানের জন্য একটা মগ্ চাইলাম। শিশু দুটো তাদের বাবাকে ডাকলো। সঙ্গে সঙ্গে এক ভদ্রলোক বেড়িয়ে এসে, আমি কোথা থেকে আসছি, কোথায় উঠেছি, কোথায় যাব, এখানে কী প্রয়োজন, ইত্যাদি প্রশ্ন করে, শেষে একটা টিনের কৌটো দিলেন। আমি আবার প্রথম ঘরটার পাশ দিয়ে, ধান বা গমের জমির মধ্যে দিয়ে, জলের পাইপের কাছে নেমে এলাম। দু’জনে পরপর স্নান সেরে, জামা প্যান্ট পরে, উপরে উঠে এলাম। প্রথম ঘরটার কাছে শিশুদুটি ও একটা বিরাট আকারের কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম ঘরের বাসিন্দারাও পাশেই আছে। সিতাংশু আমার আগে আগে যাচ্ছে। আমি একটা শিশুর গালে হাত দিয়ে আদর করতেই, কুকুরটা তেড়ে এসে প্রায় আমার গায়ে উঠে পড়লো। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। ওটার যা গতর, কামড়ালে পাঁচ চোদ্দং সত্তরটা ইঞ্জেকশনের কমে কিছু হবে বলে মনে হয় না। কুকুরটা কিন্তু কিছু করলো না। সিতাংশু এগিয়ে গেল। আমি যেই এগতে গেলাম, অমনি সেটা আবার আগের মতো তেড়ে এল। এরপর দেখি আমি দাঁড়িয়ে থাকলে ওটা কিছু করে না, কিন্তু একটু নড়লেই, বা একটু এগবার চেষ্টা করলেই, তেড়ে আসে। প্রথম ঘরের বাসিন্দারা কিন্তু এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। বাধ্য হয়ে আমি ওদের কুকুরটাকে ধরতে বললাম। ওরা একটা কাঠি দিয়ে কুকুরটাকে তাড়িয়ে দিয়ে বললো, বাচ্চার গালে হাত দেওয়ার জন্য ওটা ওরকম করছে। আমরা দ্বিতীয় ঘরে মগটা ফেরৎ দিয়ে, রাস্তায় উঠে এলাম এবং একবারে খাওয়া দাওয়া সেরে নিজেদের ঘরে এলাম। সিতাংশু গেল বীর সিং এর সাথে দেখা করে চাল, ডাল, আটা, ইত্যাদি কিনতে। আমরা হোটেলের চার বেডের একটা ঘর নিয়ে আছি। কথা ছিল ষোল টাকা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু চারটে বেডের দুটো বেডে, ছাদ থেকে জল পড়ায়, আমি হোটেল মালিককে ডেকে পাঠালাম। কিছুক্ষণ পরে তার ছেলে আসলে তাকে বেডের অবস্থা দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, চারজন লোকের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, আর দু’জন লোক থাকলে তারা কোথায় শুতো? ছেলেটা বিছানার অবস্থা দেখে, আমাকে বার টাকা ভাড়া দিতে বললো। যাহোক্ ভাড়া মিটিয়ে, সমস্ত মাল একজায়গায় গুছিয়ে রেখে, রাস্তায় এলাম। ওদের অনেক খোঁজার পরে, দেখলাম সিতাংশু ও বীর সিং একটা দোকানে চাল, ডাল, আটা, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনছেন। বীর সিং নিজেও একটা বড় বস্তায় ময়দা, একটা বড় দেশলাই এর প্যাকেট ইত্যাদি কিনছেন। বোধহয় দেবলে তাঁর দোকান আছে। বীর সিং এর এ অঞ্চলে দেখলাম খুব সম্মান। প্রায় সকলেই তাঁকে হাত তুলে নমস্কার করছে। তাঁর কথামতো একটু ওপরে একটা দোকান থেকে হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো কিনে নিলাম। নীচে এসে দেখি দুটো খচ্চর দাঁড়িয়ে আছে। বীর সিং ও অপর দু’জন তাতে আমাদের ও ওদের মালপত্র বেঁধে ঠিক করে রাখছেন। একটা দোকান থেকে একটা মোমবাতি কিনে নিলাম। সঙ্গে অবশ্য আরও দুটো আছে। খচ্চর নিয়ে গিয়ে হোটেল থেকে সব মালপত্র গুছিয়ে বাঁধা হ'ল।

লেখক পরিচিতি

সুবীর কুমার রায়

ছোটবেলা থেকে মাঠে, ঘাটে, জলাজঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ফড়িং, প্রজাপতি, মাছ, পশুপাখি, গাছের সাথে সখ্যতা। একটু বড় হয়ে স্কুল, এবং তারপরে কলেজ পালানোর নেশায় এর ব্যাপ্তি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায়, অনেক নতুন ও অদ্ভুত সব মানুষের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ ঘটে। পরবর্তীকালে ছত্রিশ বছরের কর্মজীবনে ও ভ্রমণের নেশায় আরও বিচিত্র চরিত্রের মানুষ, বিচিত্র সংস্কার, বিচিত্র জায়গা দেখার ও বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ ঘটে। সুবীর কুমার রায় কর্ম সুত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অফিসার ছিলেন। নেশা ভ্রমণ ও লেখা।
নয় পেরিয়ে দশে পা

undefined

আরো পড়তে পার...

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা