খেলাঘরখেলাঘর

দেরাদুন জেলার অন্তর্গত হৃষিকেশ কে বলা হয়  "place of sages" অর্থাত ঋষিদের বাসস্থান । কেউ বলেন জটাজুটধারী হিমালয় যেন ঋষির কেশের মত বেষ্টন করে রেখেছে এই স্থানকে । আবার কারো মতে  হৃষীকেশের অর্থ 'হর্ষ বা আনন্দ, কেশ বা মস্তকে যাঁর অর্থাত ভগবান বিষ্ণু'  । এক হৃষিকেশ প্রবহমান গঙ্গার সমতলে অবস্থিত শান্ত এক শহর । ৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্মণ ঝুলা । গঙ্গার ওপরে হ্যাঙ্গিং ব্রিজ । আদিতে যা ছিল একটি পাটের দড়ি নির্মিত; রামচন্দ্র নাকি রাবণ বধ করার জন্য গঙ্গার তীরে তপস্যা শুরু করেছিলেন  এবং তখন  লক্ষ্মণ নাকি  পায়ে হেঁটে সেই সেতু অতিক্রম করেছিলেন । ১৮৮৯ সালে লোহার রজ্জু এবং কংক্রীটের পিলারে নির্মিত  হয় এই ব্রিজ ।  ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে গঙ্গার জলে বিশালাকার মহসীর মাছ দেখা যায় । পুণ্যার্থীরা মুড়ি, পয়সা, মাছের খাবার ফেলে  ব্রিজের ওপর থেকে ।  কপাল ভালো হলে মাছটিকে দেখাও যায় । বলে নাকি এই মহসীর মাছই হল বিষ্ণুর মত্স্য অবতারের আসল রূপ ।  তবে কাছেই তেহরীর ড্যামের জন্য গঙ্গার প্রবহমানতা কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত এবং মাছেদের আগমনও অতটা সুনিশ্চিত নয় ।  কাছেই আছে মুনি কি রেটি, রামঝুলা এবং নীলকন্ঠ মহাদেব মন্দির । 

লছমনঝুলালছমনঝুলা

হরিদ্বার পেরোতে লাগল একে একে হৃষিকেশ, রামঝুলা, লক্ষমণঝুলার পথ ফেলে রেখে । হনুমান আমাদের চলার পথে একমাত্র দৃশ্যমান সজীব । গঙ্গা আমাদের নীচে চলে গেল । আমরা পাহাড়ের ওপর দিয়ে ব্যাসি, তিনপাণি পেরোলাম । শিবালিক বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন না থাকলে এই পাহাড়ি পথ যে কি হত তা ভাবলে ভয় করে । বর্ষায় কত ল্যান্ডস্লাইড এর অবশিষ্ট পড়ে রয়েছে তার ইয়ত্ত্বা নেই । রিভার রাফটিং হয় নদীতে । দেবপ্রয়াগ এল কিছুক্ষণেই । দেবপ্রয়াগ হল  পঞ্চপ্রয়াগের অন্যতম । এটি ভাগিরথী এবং অলকানন্দা নদীর সঙ্গমস্থল ।এটি বর্তমানে তেহরী গাড়োয়াল জেলার অন্তর্গত ।

দেবপ্রয়াগদেবপ্রয়াগ

এখানে ১০০০০ বছরের প্রাচীন রঘুনাথজীর মন্দির আছে । ২২ কিমি দূরে চন্দ্রবাদানী পাহাড়ের ওপর সতীমায়ের মন্দির আছে  । দক্ষযজ্ঞের পর সতীর  ধড় পড়েছিল এখানে । এই পাহাড়ের ওপর থেকে কেদারনাথ, বদ্রীনাথ এবং সিরকান্ডার অপূর্ব মোহময় তুষারশৃঙ্গ দর্শন করা যায় । দেবপ্রয়াগের অতি নিকটেই ৩০৪৮ মিটার উঁচু হিমালয়ের আরেক পর্বত শৃঙ্গ নাগটিব্বা ।  ট্রেকিং করতে বহু মানুষ এখানে যান ।   নামলাম গাড়ি থেকে আর ছবি নিলাম প্রয়াগের । দুটো নদীর জলের রঙের সুন্দর তফাত করা যায় ।  ভাগিরথীর রং ঘোলাটে  । অতটা পথ ওপর থেকে নেমে এসে কিছুটা বয়সের ভারে ন্যুব্জ । অন্যদিকে অলকানন্দা মরকত মণির মত চিরনবীন , চিরসবুজ  । দেবপ্রয়াগে দুজনে মিলিত হয়ে গঙ্গার সৃষ্টি করেছে ।  ভাগিরথী এবং অলকানন্দার ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুর ওপর দিয়ে বেশ কিছুটা হেঁটে ঘুরে এলে নদী এবং পাহাড়ের একাত্ম হয়ে যাওয়া রূপ দেখে যেন মন ভরেনা ।  বাতাসে হালকা হিমেল ছোঁওয়া । শীত পড়ছে ধীরে ধীরে । কার্তিক মাসের শুরুতে ভোররাতে বেশ শীত করে । তবে রোদমাখা দিন বেশ আরামের । 

রুদ্রপ্রয়াগরুদ্রপ্রয়াগ

এবার রুদ্রপ্রয়াগের দিকে । যেখানে সেই বদ্রীনাথ থেকে অলকানন্দা এসেছে আর কেদারনাথ থেকে নেমে মন্দাকিনী এসে মিশেছে অলকানন্দায়  । রুদ্রপ্রয়াগ আগে ছিল কিছুটা চামোলী জেলায় ও কিছুটা তেহরীতে । এখন রুদ্রপ্রয়াগ নামে একটি নতুন জেলা হয়েছে । ২৩২৮ বর্গকিমি স্থান জুড়ে,  সমুদ্র থেকে ৬১০ মিটার ওপরে   হিমালয় আর এই দুই নদীর মোহময়তায় আবিষ্ট এই সঙ্গম তীর্থ । পুরাণে কথিত আছে  মহাদেবকে  তুষ্ট করার জন্য   নারদ মুনি রুদ্রপ্রয়াগে তপস্যা করেছিলেন । মহাদেব তাঁর রুদ্ররূপ ধরে নারদের সামনে এসে তাঁকে আশীর্বাদ করেন একটি বীণা উপহার দেন ।  নারদ এই স্থানে শিবের মহিমায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ব্যুত্পত্তি লাভ করেন ।  দক্ষযজ্ঞের পর সতী এইস্থানে নাকি পুনর্জন্ম লাভ করেন । যক্ষের অলকাপুরী থেকে নেমেছে অলকানন্দা আর কেদারনাথ থেকে অবতরণ করেছে মন্দাকিনী । মন্দাকিনীর জল যেন জল নয় । পান্নার কুচি বয়ে নিয়ে চলেছে ।  তার অবিরল কুলকুচি সেই পান্নাপাথরের ।   কথিত আছে রুদ্রপ্রয়াগের অন্তর্গত মানা গ্রামে ব্যসগুহায় বসে গণেশ বেদ লিখেছিলেন । এই মানা গ্রামটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, তুষারশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত এবং স্থানমাহাত্ম্যের জন্য  আজো অমলিন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।ধুনি জ্বালিয়ে বসে আছে তীর্থ যাত্রীদের আপ্যায়ন করার জন্য ।  সঙ্গমের সন্নিকটে রয়েছে ছোট্ট জগদম্বা মন্দির । পথে থামলাম । সরু পাহাড়ি পথ ধরে নীচে নামলাম । নদীর নীলচে সবুজ জলের প্রকৃত রং দেখা বলে । হ্যাঙগিং ব্রিজ দিয়ে পেরোলাম পথ । তারপর চোখে পড়ল সেই সঙ্গম ।একটি দেবলোকের নদী অন্যটি ব্রহ্মলোকের ।   রুদ্রপ্রয়াগে রাস্তা দুভাগ হয়ে গেছে । একটি রাস্তা কর্ণপ্রয়াগ হয়ে অলকানন্দার তীর ঘেঁষে সোজা বদরীনাথের দিকে চলে গেছে আর অন্যটি কেদারনাথের মন্দিরের দিকে উঠে গেছে মন্দাকিনীর ধার দিয়ে দিয়ে ।    মন্দাকিনী নিজের সবটুকু দিয়েছে অলকানন্দাকে উজাড় করে । আর অলকানন্দা নিয়েছে দুহাত ভরে । তারপর সারাটা রুদ্রপ্রয়াগ জুড়েই মন্দাকিনীর রূপ ।  রুদ্রপ্রয়াগের প্রাচীন শিব মন্দির রুদ্রনাথ বা রুদ্রেশ্বর পাহাড়ের ওপর ২২৮৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত । এটি পঞ্চকেদারের একটি ।  আরো ওপরে উঠলে পড়বে নারদশীলা যেখানে নারদ তপস্যা করেছিলেন ।

মন্দাকিনী ব্রিজ  মন্দাকিনী ব্রিজ

 রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ৩ কিমি দূরে অলকানন্দা নদীর ধার ধরে গেলে পড়বে কোটেশ্বরের গুহা মন্দির । এখানে প্রকৃতির ইচ্ছায় অবিরত সৃষ্টি হচ্ছে শিবলিঙ্গ এবং যার ওপর পড়ছে অবিরাম জলের ফোঁটার ধারাবর্ষণ।  রুদ্রপ্রয়াগের স্থানমাহাত্ম্য এই জেলাকে ভিত্তি করে পঞ্চকেদারের ব্যাপ্তি জুড়ে ।

তুঙ্গনাথতুঙ্গনাথ

 মহাদেবের এই পাঁচটি বিশেষ স্থান হল কেদারনাথ (৩৫৮৪মি), মদমহেশ্বর (৩২৮৯ মি), তুঙ্গনাথ (৩৮১০ মি), রুদ্রনাথ (২২৮৬মি) এবং কল্পনাথ বা কল্পেশ্বর (২১৩৪ মি)  ।  মহাভারতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর পান্ডবদের মনে বড়ই আত্মীয়হত্যার পাপবোধ হতে লাগল । তখন শ্রীকৃষ্ণ এবং অন্যান্য মুনি ঋষিদের পরামর্শে পান্ডবেরা সেই ব্রহ্মহত্যার দায় থেকে মুক্তি পাবার আশায় শিবের ক্ষমাপ্রার্থী হলেন । মহাদেব নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন নন্দী নামক ষাঁড়টির ছদ্মবেশ ধরে । এবং সেই স্থানে যার নাম গুপ্তকাশী ।

গুপ্তকাশীগুপ্তকাশী

কিন্তু পান্ডবরা নন্দীর রূপ বুঝতে পেরে গেলেন এবং ভীম নন্দীর লেজ এবং পিছনের পাদুটি ধরতে গেলেন । অতঃপর  নন্দীরূপী মহাদেব পালিয়ে মাটির নীচে গুহার মধ্য দিয়ে আত্মগোপন করলেন ।  শিবের এই আত্মগোপনের বহিঃপ্রকাশ রূপে ভবিষ্যতে তীর্থক্ষেত্র রূপে আজো দাঁড়িয়ে রয়েছে কেদারনাথ যেখানে নদীর পিঠের কুঁজ ছিল । মুখটি ছিল রুদ্রপ্রয়াগে । হাতদুটি ছিল তুঙ্গনাথে । নাভি এবং পেট ছিল মদমহেশ্বরে আর কেশরাজি কল্পেশ্বরে । এই পাঁচটি স্থানই হল শিব মহিমা সম্পন্ন পঞ্চকেদার । 

কেদারনাথকেদারনাথ

 কেদারনাথ যেতে হয় গৌরীকুন্ড হয়ে । এখানে একটি পার্বতী মন্দির ও একটি গরম জলের কুন্ড আছে । এখানে পার্বতী মহাদেবের তপস্যা করেছিলেন ।  গৌরীকুন্ড থেকে ১৪ কিমি ভয়ানক দুর্গম পথে কেদার যাত্রা হয় । পায়ে হেঁটে গেলে সাতঘন্টা সময় লাগে । ঘোড়ায় চড়েও যাওয়া যায় । কেদারনাথ শিবমন্দির হল ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি । কেদারনাথ থেকে ৩কিমি দূরে চোরবারি গ্লেসিয়ার থেকে উত্পন্ন হয়েছে মন্দাকিনী নদী । কেদারনাথ শিবলিঙ্গের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মন্দাকিনীর ধারা ।  মন্দিরে উঠতে কষ্ট হয় কিন্তু  একবার উঠতে পারলে মনে হয় " আহা কি দেখিলাম ! " মন্দির চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে  আছে তুষারপাত  । প্রতিপ্রহরে শিবপূজা হয় আর সাথে হয় এলোমেলো , খাপছাড়া তুষার বৃষ্টি ।  ১৯৯৭ সালে মে মাসে কেদারনাথ এসেছিলাম । এখনো দুচোখ বুঁজলে দেখতে পাই প্রকান্ড হিমালয়কে সাক্ষী রেখে ঘোড়ায় করে চলেছি সেই দুর্গম পথ । একপাশে পাহাড়ের দেওয়াল আর অন্যপাশে গভীর খাদ । আর আমার সাথে সাথে সেই ১৪ কিমি  এলোমেলো, আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ ধরে চলেছে অসীম, অনন্ত হিমালয় তার শাখা প্রশাখা মেলে, গায়ে তার ঝরে পড়েছে বিনুনীর মত গ্লেসিয়ার। পাহাড়ের চূড়া থেকে এঁকেবেঁকে নেমে নীচে এসে হারিয়ে গেছে কোন অজানা নদীর বুকে । কোথাও তার চোরাস্রোত পাহাড়ের বুকে বিদ্ধ হয়ে গেছে । রুদ্ধ হয়েছে তার গতি । কখনো ঝরণার গান, কখনো চুঁইয়ে পড়া ঝোরার কলকাকলি । আর মনে পড়ে ঠান্ডার কথা । যত রোদ বাড়ে তত ঠান্ডা বাড়ে । যেতে যেতে কর্পূর শুঁকছি, চকোলেট আর খেজুর খাচ্ছি যাতে ঠান্ডা না লেগে যায় । মুখ ছাড়া আপাদমস্তক ঢাকা আমার তবুও  যেন পথের দুর্গমতার ভয়ে হিম হয়ে আসে রক্ত । আর আমার সাথে আরেকটি ঘোড়ায় আমার ছ'বছরের ছেলেকে দেখে বার বার মনে হচ্ছিল একে কেন মায়ের কাছে রেখে এলাম না ।  ছেলের বাবা তখন লাঠি নিয়ে হাঁটছেন আমাদের পিছনে ।  

গুপ্তকাশীগুপ্তকাশী

 এবার আরো নীচে নেমে এলাম ।  যাবার পথে ল্যান্ডস্লাইড পড়ল । এবার গুপ্তকাশীর পথে । চলতে লাগল মন্দাকিনীর ধারা । তবে ঊষার শুকতারা নেই । তার বদলে গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে তখন সূর্য অস্তাচলে  । রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ১৮ কিমি দূরে পড়ল অগস্ত্যমুনি । এখানে ঋষি অগস্ত্য তপস্যা করেছিলেন । মন্দাকিনীর সাথে লুকোচুরী খেলা শেষ।  জায়গাটা বেশ সমতলী । চাষ-আবাদও বেশ হয়েছে ।  স্কুলের ছেলেমেয়েরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে তখন । কখনো সখনো তন্বী, শিখরা, গৌরী, গাড়োয়ালী যুবতী, পিঠে বিশাল ঝুড়ি ।  গুপ্তকাশী পৌঁছনো হল সেই বিকেলে । হোটেল সাদামাটা কিন্তু পরিচ্ছন্ন । আর প্রোফেসর মালিকের দুই অর্ডারলি আমাদের সঙ্গী হল সর্বক্ষণের । কমল নামে একটি ছোট্ট ছেলে আর দীপক নামে এক বুড়ো । আসামাত্রই ধূমায়িত আদা-চা । রাতে গরম গরম রুটি , সবজী আর ডাল । গুপ্তকাশীর ভোর হল চা হাতে কমলের মুখ দেখে । কিছুপরেই এল গরমাগরম আলুপরোটা আর সাথে আচার । অভাবনীয় প্রাতঃরাশ সেই মুহূর্তে বেড়ানোর আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিল । গুপ্তকাশীতে একটা বহুপুরোণো শিবমন্দির দেখলাম । সেখানে নাকি মহাভারতের যুদ্ধের পর পান্ডবদের কৃত সকল পাপামুক্তি হয়েছিল । শিব এবং পার্বতীর একত্র  অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি  এই জাগ্রত মন্দিরে । আর গঙ্গোত্রীর থেকে গঙ্গা আর যমুনোত্রী থেকে যমুনা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে  দুটি মুখ দিয়ে পড়ছে একটা কুন্ডে ।   দুই জলের স্বাদও সম্পূর্ণ আলাদা ।  জ্ঞাতি হত্যার বিবেকদংশন সহ্য না করতে পেরে পান্ডবরা প্রথমে কাশী বা বারাণসীতে গিয়েছিলেন কাশীমহেশ্বরের কাছে সেই পাপস্খলনের উদ্দেশ্যে  । কিন্তু তাদের পাপের বোঝা এতই বেশি যে মহাদেব তা দেখে সেই পাপ তো স্খালন দূরের কথা তিনি নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন । পান্ডবরা খবর পেলেন যে শিব উত্তরকাশীতে লুকিয়ে রয়েছেন । পান্ডবরা ধাওয়া করে সেখানে এলেন কিন্তু সেখানেও শিব তাদের পাপের বোঝা নিতে অক্ষম হয়ে এবার গুপ্তকাশীতে এসে আশ্রয় নিলেন  আত্মগোপন করে  । পান্ডবরা আবার পৌঁছে গেলেন গুপ্তকাশী কিন্তু মহাদেব ভাবলেন যে তিনি একলা এই পরিমাণ পাপের বোঝা নিতে পারবেন না তাই পার্বতীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেই পাপ তার সাথে ভাগ করে নিতে বললেন এবং দুজনে একত্রিত হয়ে অর্ধনারীশ্বর রূপে পান্ডবদের সামনে উপস্থিত হলেন ... (ক্রমশঃ)
(ইচ্ছামতী পরবর্তী সংখ্যায় সমাপ্য)

 

লেখা ও ছবিঃ
ইন্দিরা মুখার্জি
কলকাতা