সূচীপত্র-শরত সংখ্যা ২০১১

খেলাঘরখেলাঘর

ছোটবেলায় একটা প্রশ্ন খুব শুনতাম।

-একটা গাছে তিনটা পাখি বসেছিল। এমন সময় একটা শব্দ হল। দুটো উড়ে গেল। কটা রইল?
-কেন? একটা রইল।
-হয়নি হয়নি ফেল। রইল তিনটেই?
- কেমন করে?

প্রশ্নকর্তা মুচকি মুচকি হাসত। বলতো, আরে তিনটে উড়ে চলে গেল। আমি গালে হাত দিয়ে ভাবতাম কি হল ব্যাপারটা। ভাবতে ভাবতে একদিন দেখলাম একাই বসে আছি। যত পাখি ছিল গাছে সবই উড়ে গেছে। কোথায় গেল ওরা? যে গাছে ওরা বাসা বাঁধতো, সেসব কোথায়? সব গাছই প্রায় কেটে ফেলা হচ্ছে। শুনেছি জলের অভাবে পাখিদের বড় কষ্ট হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে শুকিয়ে আসছে পাখিদের খাবার জলের উৎস। গরমের দিনে একটা পাত্রে জল বাড়ির বাইরে রেখে দেখো তো কত পাখি আসে?

আজকে ঠিক করেছি কিছু পাখির ছবি দেখাবো। ব্যাপার হচ্ছে যে এরা সবই কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী অর্থাৎ খোদ বাংলার পাখি। এক সময় হয়তো ওদের দেখা যেত ঝাঁকে ঝাঁকে, এখন ওদের দেখা পাওয়া নেহাতই দুর্লভ। দেখবো, শুধু ছবি দেখে তুমিই বা কজনকে চিনতে পারো?

চড়াই

প্রথমে একটু সহজ পাখি দিয়েই শুরু করা যাক। ওদের কিচির মিচির মিচির দিনভর লেগেই থাকে। খুব দুরন্ত, এরকম এক জুটির ছবি তোলা ভারি মুশকিল।

মাছরাঙা

মাছরাঙা সবাই চেনে। কিন্তু বইয়ের পাতার বাইরে দেখেছো কি? মাছরাঙা এসে বসবে কোথায়? পুকুরও তো কমে আসছে।

পানকৌড়ি

এর নাম পানকৌড়ি। কিছুটা জলের তলার মাথা ডুবিয়ে খাবার খুঁজেই দেয় ছুট। ইংরাজীতে বলে Cormorant, এদের তিনটি প্রজাতির দেখা মেলে। বাংলায় অবশ্য সবই পানকৌড়ি।

ছাতারে

ছাতারে বা Jungle Babbler, অভিমানী কিনা। তাই কিছুতেই ক্যামেরার দিক মুখ ফিরে তাকাবেন না - তুলতে হলে লেজের ছবিই তোলো। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ছাতারের বৈশিষ্টই হচ্ছে কিনা এদের লেজ। কাজেই একটা ভালো ছবি তুলেছি, কি বলো?

বুলবুলি

চিনতে পারছো? বুলবুলি বা Red vented Bulbul. ঠিক ঠাক চোখ রাখলে হয়তো নারকোলগাছের পাতায় দেখা পেতে পারো।

asian pied sterling

Asian Pied Sterling এরা কিন্তু একধরনের শালিখ। একটু খেয়াল রাখলে এরা নজরে পড়বে সর্বত্রই।

খঞ্জন

White Wagtail বা সাদা খঞ্জন। এনার সাথে দেখা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। 

ফিঙে

ফিঙে

এই দুটিই Black Drongo বা ফিঙে - এক্কেবারে ল্যাজঝোলা পাখি যাকে বলে। ফিঙের আরো বেশ কিছু প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়।

কাদাখোঁচা 

Common Sandpiper বা কাদাখোঁচা। খুবই ছোট্ট পাখি। সৌভাগ্যক্রমে দেখা দিয়েছেন।

কাঠ ঠোকরা

কাঠঠোকরার কথা শুনেছি আমরা সব্বাই। কিন্তু কতবার দেখেছি? আমার সঙ্গে তো এনার দেখা অনেকদিন পরে।

ডাহুক

White Breasted Waterhen বা ডাহুক। এদের ডাক বড়ই কর্কশ। তবে কিনা আমি যখন দেখি তখন ইনি শান্ত হয়ে কিছু মাছ খুঁজছিলেন আর কি। 

কো্চবক

Pond Heron বা কোঁচ বক। শিকারের লক্ষ্যে সতর্ক। তবে শিকার একা করলেও এরা বিশ্রাম করে দল বেঁধেই।

ইনি কে?

ইনি কে বলো দেখি?  সম্প্রতি আমাদের বাড়ির বারান্দায় এসে বাসা বেঁধেছেন। আমাদের যাতায়াতের শব্দে ভয়ডর নেই, দিব্যি আছেন। জানি না কতদিন থাকবেন। তবে মনে মনে বলি - কোথাও যেও না ভাই, এখানেই থেকো।


লেখা ও ছবিঃ
অভ্র পাল
কলকাতা