খেলাঘরখেলাঘর

এবারের ছবির খবরে আমাদের পছন্দের ছবি হল 'কুং-ফু প্যান্ডা ২'। এই ছবি হল ২০০৮ সালে তৈরি অ্যানিমেশন ছবি 'কুং-ফু প্যান্ডা'র দ্বিতীয় পর্ব। তুমি কি কুং-ফু প্যান্ডা দেখেছ? যদি না দেখেও থাক, তাহলেও 'কুং-ফু প্যান্ডা ২' দেখতে কোন অসুবিধা নেই। প্যারামাউন্ট পিকচার্সের নিবেদনে ড্রিমওয়ার্ক্স অ্যানিমেশনের তৈরি এই ছবিতে আছে একেবারে এক আনকোরা গল্প।

গংমেন নগরী
গংমেন নগরী

প্রাচীণ চীনদেশে, গংমেন নগরী শাসন করত ময়ূরবংশ। সেই রাজত্বে সবাই খুব আনন্দে ছিল কারণ ময়ূরেরা ঝলমলে আতশবাজী তৈরি করেছিল। কিন্তু ময়ূররাজার ছেলে, শেন, বুঝতে পেরেছিল যে এই আতশবাজীর ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র তৈরি করে সারা দেশে শাসন করা যায়। সে একদিন শুনতে পেল রাজার ভবিষ্যতবক্তা ছাগল রাজাকে বলছে যে "সাদা-কালো এক যুদ্ধবাজ" শেন কে একদিন পরাজিত করবে। এই কথা শুনে শেন নিজের সাঙ্গোপাঙ্গোদের দিয়ে প্যান্ডাদের একটা পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দিল। তার বাবা মা এই ঘটনায় খুব দুঃখ পেয়ে শেনকে গংমেন নগরী থেকে নির্বাসিত করলেন। শেন এই বলে চলে গেল যে সে প্রতিশোধ নিতে একদিন ফিরে আসবে।

রাজা-রানী
ময়ূর রাজা ও রানী

তিরিশ বছর পরে, পো নামের প্যান্ডা হয়ে উঠেছে কুংফু মাস্টার এবং ড্রাগন ওয়ারিয়র খেতাব পেয়েছে। সে তার পাঁচজন কুংফু বিশেষজ্ঞ সংগীকে নিয়ে শান্তির উপত্যকাকে রক্ষা করে চলে। একদিন একদল নেকড়ে ডাকাতদের থেকে একটা গ্রামকে রক্ষা করতে গিয়ে সে তাদের নেতার বর্মে একটা চিহ্ন দেখে চমকে যায়। তার নিজের মা'কে মনে পড়ে। তার অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে নেকড়েগুলো পালায়। পো বাড়ি ফিরে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে সে কোথা থেকে এসেছিল।

পো-বাবা
পো আর তার পালক পিতা

তার বাবা বলেন তিনি তাকে খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর রেস্তোঁরার জন্য আসা মূলোর বাক্সে। যেহেতু কেউ তার খোঁজে আসেনি, তাই তিনি তাকে নিজের ছেলে বলে পালন করতে শুরু করেন।

এর পরে, পো এর শিক্ষক শিফু খবর পান যে সুদূর গংমেন শহরে শেন ফিরে এসেছে; সে তার আগ্নেয়াস্ত্র কামান দিয়ে শহরের রক্ষাকর্তাদের একজনকে মেরেও ফেলেছে। গংমেন শহরকে শেনের অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে পো এবং তার পাঁচ বন্ধু যাত্রা করে।

শেন
শেন

 

শেন

সেখানে গিয়ে কি হল? পো আর তার সংগীরা কি পরাজিত করতে পারল দুষ্ট শেন কে? আর পো কি খুঁজে পেল তার নিজের আসল পরিচয়? সেটা জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে 'কুং ফু প্যান্ডা ২'। অসাধারণ থ্রি-ডি অ্যানিমেশন আর বিভিন্ন চরিত্রে বিখ্যাত অভিনেতাদের স্বরক্ষেপণ এই ছবির এক বিশেষ পাওনা। খুব শিগ্‌গির এই ছবির ডিভিডি কিনতে পাওয়া যাবে। তখন কিনে দেখতে ভুলো না কিন্তু।

পো-বন্ধু
পো এবং তার সঙ্গী টাইগ্রেস

 

 

মহাশ্বেতা রায়
পাটুলি, কলকাতা

মহাশ্বেতা রায় চলচ্চিত্রবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন। ওয়েব ডিজাইন, ফরমায়েশি লেখালিখি এবং অনুবাদ করা পেশা । একদা রূপনারায়ণপুর, এই মূহুর্তে কলকাতার বাসিন্দা মহাশ্বেতা ইচ্ছামতী ওয়েব পত্রিকার সম্পাদনা এবং বিভিন্ন বিভাগে লেখালিখি ছাড়াও এই ওয়েবসাইটের দেখভাল এবং অলংকরণের কাজ করেন। মূলতঃ ইচ্ছামতীর পাতায় ছোটদের জন্য লিখলেও, মাঝেমধ্যে বড়দের জন্যেও লেখার চেষ্টা করেন।