সূচীপত্র-শরত সংখ্যা ২০১১

খেলাঘরখেলাঘর

বুড়ো আংলার সন্ধানে

চঞ্চলকুমারের ঠাকুমা উঠতে বসতে বলেন, " আমার এই একাত্তর বছর বয়সে চঞ্চলের মত দুষ্টু ছেলে দুটো দেখিনি। ঠিক রিদয়ের মত।" চঞ্চলকুমার পড়তে বসলে হাই তোলে। পরীক্ষায় দশটার মধ্যে দশটা অঙ্ক ভুল করে। চঞ্চলকুমারের এগারো বছর বয়স হল কিন্তু একপাতা বাংলা পড়তে তিনবার হোঁচট খায়। এদিকে দুষ্টু বুদ্ধিতে ওস্তাদ। রাস্তায় ঘুমন্ত নেড়িকুকুরের কানের মধ্যে কাকের পালক দিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে এক বিরাট কান্ড ঘটিয়েছিল। কুকুরটা ঘুম ভেঙ্গে রাগে গড়গড় করে রাস্তার লোককে তাড়া করেছিল। একদিন মাস্টারমশাই এর জুতোর মধ্যে লাল পিঁপড়ে ভরে দিয়ে শান্ত সুবোধ বালকের মত পড়তে বসেছিল।

এই চঞ্চলকুমার এক ছুটির দিন দুপুরবেলা ঠাকুমার ঘরের তাক থেকে তাড়াহুড়ো করে আমসত্বের কৌটোটা নামাচ্ছিল। কৌটোর পাশে রাখা পোড়া মাটির কাজ করা গণেশের মূর্তিটা ধপ্‌ করে মাটিতে পড়ে চার টুকরো হয়ে গেল। সেই শব্দে চঞ্চলের ঠাকুমার দিবানিদ্রা ছুটে গেল। অসময়ে ঘুম ভেঙ্গে ঠাকুমা বিরক্তিতে চোখ খুলে বললেন, "চঞ্চলকুমার, কিসের শব্দ হল? এই ভরদুপুরে কি অপকান্ড করা হল?"

চঞ্চল ঘাপটি মেরে ছিল দেখে ঠাকুমা উঠে পড়লেন। মেঝেরে ভাঙা গণেশ ঠাকুরের টুকরো গুলো দেখে কপালে চোখ তুলে বললেন,

"এ কি কান্ড করলি, চঞ্চল? গণেশঠাকুর ভাঙলি? গণেশঠাকুর রেগে গেলে তোর ঠিক রিদয়ের মত অবস্থা হবে।"

---------------------------------------------
কি কান্ড! চঞ্চলকুমারের ওপর কি গণেশঠাকুর সত্যি সত্যি রেগে গেলেন? আর চঞ্চলের অবস্থা কি রিদয়ের মত হয়ে গেল? এই গল্পটা আর আরো এরকম মন ভোলানো গল্প পড়তে হলে  যোগাড় করে ফেল শিবানী রায়চৌধুরীর লেখা বই -'বুড়ো আংলার সন্ধানে'

বুড়ো আংলার সন্ধানে
শিবানী রায়চৌধুরী
লালমাটি
মূল্যঃ ৮০ টাকা