খেলাঘরখেলাঘর

তোত্তো-চান

ওইমাচির ট্রেনটা জিয়ুগায়োকা স্টেশনে পৌঁছলে ওরা প্ল্যাটফর্মে নেমে পড়লো। মা তোত্তো-চানের হাত ধরে গেটের দিকে এগিয়ে গেলেন। গেটে সব যাত্রীকে টিকিট জমা দিয়ে দিতে হয়, কিন্তু জীবনের প্রথম ট্রেনের টিকিটটা হাতছাড়া করার মোটেও ইচ্ছা ছিল না তোত্তো-চানের।

'আমি এটা রাখতে পারি না?' টিকিট চেকারের কাছে জানতে চাইলো ও।
'না, এটা রাখা যাবে না,' বলে চেকারবাবু ওর টিকিটটা নিয়ে নিলেন।
পাশেই রাখা ছিল টিকিট ভর্তি একটা বাক্স। সেটার দিকে দেখিয়ে তোত্তো- চান বললো, 'সব তোমার?'
'আমার নয়, সব এই রেল স্টেশনের,' বাকি যাত্রীদের হাত থেকে টিকিটগুলো প্রায় ছিনিয়ে নিতে নিতে চেকারবাবু বললেন।
'ও!'  তোত্তো-চান খানিকক্ষণ বাক্সটার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকার পর বললো, 'বড় হয়ে আমি ট্রেনের টিকিট বিক্রি করবো।'
এতক্ষণে চেকারবাবু একটু চোখ তুলে তাকালেন। ' আমার ছোট ছেলেও তো স্টেশনে কাজ করতে চায়! ভালই হবে, তোমরা তাহলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে!'
তোত্তো-চান একটু সরে দাঁড়িয়ে ভাল করে চেকারবাবুকে দেখে নিলো। গোলগাল, চোখে চশমা, বেশ ভাল মানুষ, ভাল মানুষ চেহারা। 'তা---,' কোমরে হাত দিয়ে ও কী যেন ভাবতে লাগলো। 'তা, তোমার ছেলের সঙ্গে আমি কাজ করতেই পারি, কিন্তু সেসব নিয়ে পরে ভাবা যাবেখন। এখন আমার খুব তাড়া, আমি এখন নতুন স্কুলে যাচ্ছি কি না!'
মা একটু দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। 'বড় হয়ে আমি টিকিট বিক্রি করবো,' দূর থেকে চিৎকার করে মা'কে খবরটা জানিয়ে দিলো তোত্তো-চান। তারপর একছুটে মায়ের কাছে পৌঁছে গেলো। ওর কথায় মা একটুও অবাক হলেন না। কেবল বললেন, 'তুমি না গুপ্তচর হবে বলেছিলে?'

-----------------------
বড় হয়ে তোত্তো-চান কি হয়েছিল? টিকিট বিক্রেতা, না গুপ্তচর, নাকি অন্য কিছু? আর তার নতুন স্কুল - কেমন ছিল সেই স্কুল? ছোট্ট মেয়ে তোত্তো-চানের স্কুল-বন্ধু-পড়াশোনা-খেলাধুলা- সব কিছুর খবর পাবে তেতসুকো কুরোয়ানাগির লেখা বই 'তোত্তো-চান' -এ। মূল বইটি জাপানি ভাষায় লেখা। পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত এই বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিক।

তোত্তো-চান
তেতসুকো কুরোয়ানাগি
অনুবাদঃমৌসুমী ভৌমিক
ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট,ইন্ডিয়া
৫৫ টাকা।



লেখক পরিচিতি

বইপোকা

বইপোকা অবশ্যই নতুন নতুন বই পড়তে ভালবাসেন। আরো ভালবাসেন সেইসব বই এর খোঁজ সবাইকে দিতে। নতুন নতুন বইয়ের খোঁজ পেতে চোখ রাখ বইপোকার দপ্তরে। আর তোমার কাছে যদি কোন খুব ভাল বই থাকে, যেটার কথা তুমি বন্ধুদের এবং বইপোকাকে জানাতে চাও, তাহলে বইপোকাকে সেই বইয়ের খবর জানিয়ে চিঠি লেখ ইচ্ছামতীর মেইল ঠিকানায়।