খেলাঘরখেলাঘর

গরমের ছুটি

গরমের ছুটি



১.
কুঁ-ঝিকঝিক রেলগাড়ি
শহর ছাড়িয়ে সবুজ মাঠ, কত রকম গাছ-গাছালি আর প্রান্তর পেরিয়ে ধূপখালি স্টেশন।
সেখান থেকে ছলাৎ-ছল-ছলাৎ নদীতে নৌকো চড়া।
নদীর ঢেউয়ের বুকে বৈঠা পড়ে আর ছপ ছপ শব্দ তরঙ্গ হয়ে বাজে। রুনি কান পেতে সেই শব্দ শোনে। হাওয়ার শব্দ ওঠে কখনও শন্ শন্ শন্। কান পেতে এই শব্দমালা শুনতে শুনতে আর খুব সুন্দর নদী-নালা-ঘাট, মাঠ বন পেরিয়ে রুনি একসময় পৌঁছে যাবে ভুবনপুর গ্রামের দাদুর বাড়িতে।এই প্রথম রুনির ট্রেন, নৌকো আর গ্রাম দেখা সবকিছুই একসাথে।
নদীর ঘাটে নৌকো এসে থামে। নৌকোর গলুই থেকেই নিচে তাকিয়ে রুনি দেখে অ-নে-ক কাদা। রুনির বাবা তখন এগিয়ে গিয়ে দু’তিনজন লোকের সাথে কথা বলছিলেন, মা আর রুনি দাঁড়িয়ে পড়েছে দেখতে পেয়ে ওর বাবা কি করে যেন কাদা মাড়িয়েই এলেন ওদের কাছে। বাবা রুনিকে কোলে তুলে নিয়ে আর মা’র হাত ধরে সাবধানে হেঁটে হেঁটে শুকনো জায়গাতে এসে রুনিকে নামিয়ে দিলেন। কোলে তুলে নেবার মত ছোট্টটি যদিও আর রুনি নেই তবে খুব বড়ও কিন্তু নয় সে। তবে বাবা কোলে নেওয়াতে ওর একটু একটু লজ্জা লাগছিল। শুকনো জায়গাতে দাঁড়িয়ে রুনি দেখল একটু আগের নীল আকাশটা কেমন যেন ছাই ছাই রঙের হয়ে গেছে। বাবা বললেন, বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে, চল তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে। এবারে রুনি উঠল রিক্সা-ভ্যানে। সামনে একজন চালক আর পিছনে একটা বড় জায়গাতে ওরা তিনজন বসে গেল। তিন চাকার রিক্সাভ্যানটি চলতে লাগল ভেঁপু বাজিয়ে।যেতে যেতে রুনি মুগ্ধ হয়ে দেখল সবুজ ধান ক্ষেত। ক্ষেতের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ তার নাম মা বলে দিলেন আলপথ। বাতাস লেগে ধানক্ষেতের ধানগুলো এর ওর গায়ে যেন গিয়ে পড়ছে। ও দেখছিল গাছের সবুজ আর ধানক্ষেতের সবুজ দুটো একেবারে আলাদা। কি সুন্দর যে লাগছিল ওর।তারপর এক সময় দাদুর বাড়ি এসে গেল। রুনি তাকিয়ে দেখে বাড়ির বাইরেই দাঁড়িয়ে দাদু ওদের জন্য অপেক্ষা করছেন।

এই লেখকের অন্যান্য রচনা